আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

এনজিওর ঋণে ঝুঁকছে লাকসাম মনোহরগঞ্জের দরিদ্র মানুষ

বিশেষ প্রতিবেদন: বর্তমানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের দরিদ্র মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার বিত্তবান সামার্থ্যবান পরিবার তাদের পরিবারের ব্যয়ভার কিছুটা বহন করতে পারলেও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিবারের ভরনপোষণের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না এতে তারা সম্পদ বন্ধকসহ নানাভাবে এনজিও, সুদি মহাজন স্থানীয় সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের দিকে ঝুঁকছেন এবং ঋণের জালে আটকে যাচ্ছে একের পর এক পরিবার


জানা গেছে, লাকসাম-মনোহরগঞ্জের শতকরা ৬৫ ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছে। এর বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যবসা মন্দা টাকার অভাবে তারা চড়া সুদে ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, বার্ড, ব্যুরো, স্থানীয় সুদি মহাজন সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণ নিয়েছে।

এলাকার হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ ঋণের জালে আটকে পড়েছে। বার্ষিক শতকরা ২০-২৫ হার সুদে ঋণ দেয়া হলেও কিস্তির পদ্ধতিতে প্রতি সপ্তাহে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দাঁড়ায় ৪২ থেকে ৪৪ ভাগে।

বেশি লাভের আশায় এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠানের উন্নতি প্রতিযোগিতায় শীর্ষে পৌঁছতে বিভিন্ন এনজিও সংস্থাগুলো স্বেচ্ছায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণ দিয়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক কিস্তি গ্যাপ পড়লেই শুরু হয় জোর তাগাদা এবং খেলাপি হলে ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে অভিযান। দরিদ্র মানুষ এক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়লে নতুন আরেক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়।

এভাবে একটি পরিবার একাধিক এনজিও বিভিন্ন সংস্থায় ঋণের জালে আটকা পড়ে। দরিদ্র পরিবারের ব্যবসায়ী লোকজন আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন এনজিও, সুদি মহাজন, সমবায় প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ নিলেও ঋণগ্রহীতারা পরে ঘরের টিন, স্ত্রীর সোনার গহনা, টেলিভিশন, মোবাইলসহ নানা বিলাসবহুল জিনিস কিনে টাকা ব্যয় করে ফেলে। পরে এসব ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়ে। ঋণের জালে আটকে পড়া অনেক পরিবার অসহায়ত্ববোধ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।

ব্যাপারে লাকসামের একটি ঋণদাতা সংস্থার ব্যবস্থাপক বলেন, আমরা অত্যন্ত সহজ শর্তে গরিব, অসহায় দুস্থদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে আসছি। আমাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই সাবলম্বী হয়েছে।

ব্যাপারে একজন ঋণগ্রহীতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমাদের লাকসামকে বলেন পারিবারিক খরচ জোগাতে একমাত্র মাধ্যম আমি নিজেই। ঋণের কিস্তি শোধ করতে আমি অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। আবার ঋণখেলাপি হলে ঋণদাতারা টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এতে এলাকার দরিদ্র মানুষ বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, পরনের কাপড়, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন এনজিও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর ঋণের দিকে ঝুঁকছেন