আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসামসহ বিভিন্ন স্থানে ৭ মাসে অর্ধশতাধিক ট্রেন লাইনচ্যুত

বিশেষ প্রতিবেদন: পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথের লাকসামসহ বিভিন্ন স্থানে গত মাসে অর্ধশতাধিকবার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে একেরপর এক ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় রেলওয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টার বন্ধ থেকেছে রেলপথ রেলওয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব এবং নানামুখী সঙ্কটের কারণে কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না এসব দুর্ঘটনা ফলে ট্রেনযাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন



রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে তৈরি রেললাইন সংস্কার না হওয়া, নিয়মিত সংস্কারের অভাব, চালক স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বে অবহেলা, ইঞ্জিনের আয়ুকাল উত্তীর্ণ, রেলপাত কোচের চাকা ক্ষয়ে যাওয়া, রেলের নাটবল্টু ঢিলা হওয়া, স্লিপার পাথর কম থাকা, স্লিপারের সঙ্গে রেললাইন আটকে রাখার পেন্ড্রোল ক্লিপ, হুকবল্ট, বিয়ারিং, পেট যন্ত্রাংশ চুরি, অবৈধ রেলক্রসিং এবং চোরাচালানিরা ট্রেন থামাতে হঠাত্ চেইন টানাসহ ফেনী-লাকসাম-কুমিল্লার রাজাপুর পর্যন্ত ৯০ কি. মি. রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ট্রেন দুর্ঘটনা লাইনচ্যুত হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কমানো যাচ্ছে না এসব দুর্ঘটনা। গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাসে পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথের বিভিন্ন স্থানে ৭৪ বার ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে ৬৩ বার। অন্য ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১ বার। গত জুলাই মাসে কেবল ট্রেন দুর্ঘটনা লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে ১৭ বার প্রতি সপ্তাহে এক বা একাধিক ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।

গত কয়েক মাসে এর মাত্রা বেড়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর আগে এবং গত বুধবার কুমিল্লার রাজাপুর স্টেশনে এবং গত ২৯ মে ময়নামতি স্টেশনে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এসব দুর্ঘটনায় সরকারের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং রেলের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। রেলসূত্র আরও জানায়, ফেনী-লাকসাম-কুমিল্লার রাজাপুর স্টেশন পর্যন্ত ৯০ কি. মি. রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রেলপথের লাকসাম, লালমাই, ময়নামতিসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রেন লাইনচ্যুত দুর্ঘটনা ঘটছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা হলেও সরকারের লাখ টাকার ক্ষতি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি, এমনকি কোটি টাকা পর্যন্ত হয়। এসব দুর্ঘটনায় পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম, সিলেট-চট্টগ্রাম, চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী-ঢাকা, চট্টগ্রাম-ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থেকেছে ট্রেন চলাচল। উদ্ধারকারী ট্রেন গিয়ে দুর্ঘটনার পর ট্রেন উদ্ধার করেছে। এসব দুর্ঘটনায় সরকারের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও ট্রেনযাত্রীরা ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি চরম দুর্ভোগ বিড়ম্বনার শিকার হন।


বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের লাকসাম জংশনে গেলে স্টেশন মাস্টার পিতুরঞ্জন ভুঁইয়া আমাদের লাকসামকে ট্রেন লাইনচ্যুতি বা বিভিন্ন বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। অথচ পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের লাকসাম গুরুত্বপূর্ণ জংশন। জংশনের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত অফিস করেন না এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলেও ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সুনজর নেই। ফলে ট্রেন চলছে ঢিলেঢালাভাবে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে 

ব্যাপারে লাকসামে কর্মরত রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ পাশা আমাদের লাকসামকে বলেন, আমাদের জনবলের অভাব, ইঞ্জিন, কোচ লাইন পুরনো। বর্ষা মৌসুমে মাটি নরম থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আন্তরিকতার অভাব নেই। বিশেষ করে ফেনী-লাকসাম-কুমিল্লা ৯০ কি. মি. রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তিনি জানান