আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

আড়াই শতাব্দী প্রাচীন মসজিদটি আজ ধ্বংসের পথে!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: প্রায় আড়াই শতাব্দী প্রাচীন মনোহরগঞ্জ উপজেলার লত্সর মিঞা বাড়ি শাহী জামে মসজিদটি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে ভূমি রেকর্ডপত্র অনুযায়ী দেখা যায়, তত্কালীন জমিদার শেখ জয়নুদ্দিন মিঞা ১৭৭০ সালে প্রাচ্যের কারুকার্য খচিত এই মসজিদটি নির্মাণ করেন


যতদূর জানা যায়, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর পরই জয়নুদ্দিন মিঞা মারা যান। ফলে জমিদারিসহ মসজিদটির তদারকির ভার ন্যস্ত হয় তার পুত্র আজিজ উল্লা মিঞার উপর। কিন্তু মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এরপর হতে মিঞা পরিবারটি তাদের ঐশ্বর্য হারিয়ে ধীরে ধীরে সম্পদহীন হয়ে পড়ে। তাদের পক্ষে মসজিদটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করা আর সম্ভব হয়নি।

টালি ইট দিয়ে নির্মিত ৩০ ইঞ্চি দেয়ালের তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই ঐতিহাসিক মসজিদটি আড়াই শতাব্দীর নীরব সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে।

মসজিদটির ভিতরের অংশে ফুল, ফল প্রভৃতির নকশা আঁঁকা আছে। বর্ষাকালে মসজিদের গম্বুজ চুইয়ে ভিতরের অংশে পানি জমার কারণে ফুল ফলের আঁঁকা নকশাগুলো খসে পড়ছে। বৃষ্টির দিনে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বেশ কষ্ট হয়। তাই এলাকাবাসীর উদ্যোগে চাঁদা তুলে মসজিদের সম্মুখস্থ বারান্দা তৈরির কাজ হাতে নেয়া হলেও অর্থাভাবে এটিও বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে শ্যাওলা পড়ে মসজিদটির সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। পাকা প্রাঙ্গণ এখন শুধু ঘাসে ঢাকা। কুমিল্লা জেলার মধ্যে এটি অতি প্রাচীন এক স্থাপত্য নিদর্শন।

ছয় বছর আগে সংস্কারের জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে লাখ টাকা অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পাঁচ বছর পূর্বে মসজিদটিকে স্থাপত্য স্বীকৃতি দেয়ার সুপারিশ করেছে। কিন্তু কোন আবেদন-নিবেদনেই কাজ হয়নি। মসজিদ থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে বিদ্যুতের লাইন থাকলেও সন্ধ্যার পর এই স্থাপত্য ডুবে থাকে অন্ধকারে

প্রাচীন এই স্থাপত্য নিদর্শনটি রক্ষাকল্পে সংস্কারের জন্য অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা না নিলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি