আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

জনজীবনে চরম ভোগান্তি! নাঙ্গলকোটের যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা

বিশেষ প্রতিবেদন: নাঙ্গলকোটের উপজেলা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান প্রধান সড়কগুলোর বেহাল দশায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাতেগোনা দু’-একটি প্রধান সড়ক ছাড়া নাঙ্গলকোটের যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কগুলোর বেহাল দশায় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগকারী ৩টি প্রধান সড়কসহ মোট ১২টি সড়কের প্রাক্কলন ব্যয় তৈরি করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এলাকাবাসীকে বিধ্বস্ত সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কগুলোতে পা বাড়ালেই ছোট-বড় হাজার হাজার গর্তে পড়ে এলাকাবাসীকে কাদা পানিতে একাকার হতে হয়।
বর্ষা এসে বিধ্বস্ত সড়কগুলো জনজীবনে ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পথচারীদের প্রতিনিয়ত গর্তে পড়ে নাকাল হতে হয়। সিএনজি চালিত অটোরিকশা, বাস, মালবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস সহ ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে প্রতিনিয়ত সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। এতে যানবাহনের ক্ষতিসহ যাত্রীদের কম বেশি আহত হতে হচ্ছে। এছাড়া সড়কগুলোর বেহাল দশায় এক ঘণ্টার যাতায়াতে কখনও দুঘণ্টা সময় লেগে যায়। বর্তমানে সড়কগুলো এলাকাবাসীর কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবে দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়। সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে গার্ডওয়াল না থাকায় পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন জানা যায়, উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াতকারী এলজিইডির নাঙ্গলকোট-শ্রীফলিয়া-বাঙ্গড্ডা সড়ক, নাঙ্গলকোট-পেড়িয়া-পদুয়া, তালতলা-নাথেরপেটুয়া, রাজাপাড়া-মানরা- নাথেরপেটুয়া, নাঙ্গলকোট-ওমরগঞ্জ-মানরা- দৌলখাঁড়, বক্সগঞ্জ-সাতবাড়িয়া-গুনবতী, ঢালুয়া- চিওড়া, নান্দেশ্বর-হাসানপুর, উরুকচাইল-মানিকমুড়া-ভোলাইন বাজার সড়কসহ অন্যান্য গ্রামীণ সড়কগুলোতে কার্পেটিং উঠে ছোটবড় হাজার হাজার গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সড়কগুলো যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া গর্তের মধ্যে পানি জমে থাকায় পথচারীসহ যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিধ্বস্ত সড়কগুলো দিয়ে উপজেলা, জেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন সড়কের পুকুরের পাশে গার্ডওয়াল না থাকায় সড়কগুলো পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নাঙ্গলকোট-শ্রীফলিয়া-বাঙ্গড্ডা সড়কের কাজী জোড়পুকুরিয়া মসজিদের পাশে এবং বাঙ্গড্ডা দিঘিরপাড়, ওমরগঞ্জ-রাজাপাড়া-বাইয়ারা সড়কের বাইয়ারা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান, নান্দেশ্বর-হাসানপুর সড়কের বিষ্ণুপুর পশ্চিমপাড়া, গুপদুয়া রাস্তার মাথা থেকে সিজিয়ারা বাজার সড়কের সিজিয়ারা বাজার, উরুকচাইল-মানিকমুড়া-ভোলাইন বাজার সড়কের চাটিতলা উত্তর, দক্ষিণপাড়া, চাটিতলা উচ্চবিদ্যালয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, গোড়াময়দান মফিজের বাড়ির সামনের এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে সড়কগুলো পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সঙ্গে সংযোগকারী ৩টি এবং ইউনিয়ন সংযোগকারী ৯টি সড়ক ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে মেরামত কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরডি-২৬ প্রকল্পে সম্ভাব্য ১৪ কোটি টাকার প্রক্কলন ব্যয় তৈরি করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। নাঙ্গলকোট এলজিইডি প্রকৌশলী আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, নাঙ্গলকোটের সুবিধাবঞ্চিত লোকজনের যাতায়াতের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মেরামত কাজের জন্য সম্ভাব্য ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয় তৈরি করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কগুলোর মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।