আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসাম পৌর সদরের অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট কাদা-পানিতে সয়লাব

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: কুমিল্লা জেলার লাকসাম পৌর সদরের অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে খানা-খন্দকে পূর্ণ অবর্ণনীয় দশায় এসব রাস্তায় চলাচলে যানবাহন জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে লাকসাম পৌরসভার রাস্তাসমূহ দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জনদুর্ভোগ বাড়ছেই

সরেজমিন দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানি একাকার হয়ে এসব রাস্তা-ঘাটে জনসাধারণের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। পৌর সদরের মেইন রোড, বাইপাস থেকে নোয়াখালী রোডের সংযোগ রাস্তা, উত্তর বাজার, ব্যাংক রোড, ধানবাজার, রাজঘাট, পশ্চিমগাঁও, মুড়াদরগাহ রোড, দৌলতগঞ্জ ষ্টেশন রোড, কলেজ রোড, ফতেপুর, গাজীমুড়া, লাকসাম রেলওয়ে জংশন, পাইকপাড়াসহ বিভিন্ন রাস্তার ছড়-বাকল উঠে খানাখন্দক সৃষ্টি হয়েছে।
রিক্সা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে এসব রাস্তায় যাতায়াতকালে গর্ভবর্তী মা কিংবা অপারেশনের রোগীর  সীমাহীন কষ্ট হৃদয়ে দাগ কাটলেও কর্তাব্যক্তিদের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। চৌদ্দগ্রাম রোডে নতুন দৈনিক বাজারে মাছ-গোশত তরকারীর উচ্ছিষ্ট অংশ রাস্তার উপর ফেলার কারণে এসব ময়লা-আবর্জনা পঁচে-গলে কাদা-পানিতে একার হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের  নজরদারি একেবারেই নেই। তাছাড়া, দৌলতগঞ্জ বাজারের গলিপথ, প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডের পাড়া-মহলার কাঁচা-পাকা রাস্তাসমূহের করুণ হাল। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে পৌরবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে

অপরদিকে, লাকসাম উপজেলা সদর থেকে মুদাফরগঞ্জ রোড (বিশ্বরোড), গন্ডামারা রোড, রাজঘাট-সালেপুর রোড, কালিয়াপুর রোড, এলাইচ, এতিমখানা রোড, যুক্তিখোলা রোডসহ অন্যান্য রাস্তাসমূহের অবস্থা আরো নাজুক। অজস্র খানা-খন্দে উপজেলা সদরে অবস্থিত বিপণিবিতান, ব্যাংক-বীমাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী জনসাধারণ, স্কুল- কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের রোগী সাধারণের যাতায়াত চরমভাবে বিঘিœ হচ্ছে

জানা গেছে, পৌরসদরের মেইন রোড, উত্তর বাজার, ব্যাংক রোড, দৌলতগঞ্জ ষ্টেশন রোড, রেলওয়ে জংশন রোড, ধানবাজার রোডে কতিপয় হোটেল, কনফেকশনারী দোকানের উচ্ছিষ্ট পানি প্রতিদিন রাস্তায় ফেলার কারণে ওই সকল স্থানে রাস্তার বিটুমিন, কংক্রিট, পাথর খুব দ্রুত উঠে গিয়ে জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও অজ্ঞাত কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা উপজেলা থানা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাছাড়া, সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে যখন-তখন, যত্রতত্রে মালবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর, পিকআপ দাঁড়িয়ে থেকে লোড-আনলোডিং করায় একদিকে শহরে যানজট লেগেই থাকে, অপরদিকে রাস্তায় খানা-খন্দ সৃষ্টি করছে। পুলিশ প্রশাসন কালে-ভদ্রে এ্যাকশনে নামলেও তা কোনো ফল বয়ে আনে না

এদিকে, অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে লাকসাম পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তাঘাট সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় বসবাসকারী জনসাধারণ নূন্যতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতই রয়েছে। নেই পানি পয়ঃনিস্কাশনের যুৎসই ব্যবস্থা। ভাঙ্গা-চুরা রাস্তা-ঘাট, অপর্যাপ্ত সড়কবাতি, অপরিচ্ছন্ন প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য হাট-বাজার, মশা-মাছি আর কুকুরের উপদ্রবসহ নানা সংকট আর সমস্যায় ভারাক্রান্ত পৌর নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবন। আষাঢ়ের শুরুতে এবং ইতিপূর্বে কালবৈশাখীর ঝড়ো বৃষ্টিতে পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়ে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে অধিকাংশ রাস্তায় কাদাপানি একাকার হয়ে যানবাহন জনসাধারণের চলাচল বিঘিœ হয়। অনেক রাস্তায় দেখা দেয় হাঁটু সমেত পানি। এসব ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ভেঙ্গে জনসাধারণের যাতায়াতের ফলে বিভিন্ন চর্মরোগসহ মারাত্মক রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষজন।

লাকসাম পৌরসভার আয়তন ১৯.৪২ কিলোমিটার। ১১ হাজার ৭২৫টি হোল্ডিংয়ে এখানে প্রায় লাখ হাজার বণি আদমের বসবাস। অথচ পৌরসভার পাকা ড্রেন রয়েছে মাত্র .৮৭ কিলোমিটার যা অধিকাংশ সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে তেমন কাজে আসে না। অপরদিকে, পৌরসভার হিসাব মতে ১৫ কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন থাকলেও তা নিতান্তই কাগুজে। পৌরসভার রাজঘাট থেকে মুড়াদরগাহ হয়ে পশ্চিমে কান্দিরপাড় পর্যন্ত কোনো ড্রেন নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় ময়লা-আবর্জনায় একাকার হয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা পরিষদ থেকে পূর্ব দিকে ডাক্তার কলোনী, কলেজ রোড, মিয়াপাড়া, সোয়া আনীপাড়া, কাজী মাহুথপাড়া, বেপারীপাড়া, জংশন বাজার, নশরতপুর, উত্তর লাকসাম, দক্ষিণ লাকসাম, উত্তর বাজার জামে মসজিদ থেকে কালিবাড়ি গেইট, ধানবাজার, কবুতর বাজার, বাঁশ বাজার, পূর্ব লাকসাম, নোয়াখালী রেলগেইট থেকে পূর্ব দিকে নতুন দৈনিক বাজার, উত্তর দিকে চাঁন সুপার মার্কেট, দক্ষিণ বাইপাস, গাজীমুড়া এলাকায়। আবার যেখানে কিয়ৎ ড্রেন রয়েছে তা পরিচ্ছন্নতার অভাবে সুবিধার চেয়ে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়

পৌর সদরে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানা, সরকারি- বেসরকারি অফিস-আদালত, ক্লিনিকি- হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, স্কুল-কলেজ -মাদরাসা, বিপনী বিতান। জরুরী কাজ সারতে আশপাশের উপজেলা থেকে অজস্র জনসাধারণ লাকসাম পৌরসভার এসব প্রতিষ্ঠানে ভীড় জমালেও এখানকার অপ্রতুল শৌচাগার, যাতায়াতের রাস্তা-ঘাট, বেদখল হয়ে যাওয়া ফুটপাতে তারা হাঁপিয়ে উঠে। পৌরসভার সিংহভাগ  টিউবওয়েলই আর্সেনিকে আক্রান্ত। তাছাড়া, দীর্ঘদিন থেকে আর্সেনিক আক্রান্ত টিউবওয়েল সনাক্তকরণ কাজও করা হচ্ছে না। এলাকায় অনেক আর্সেনিকোসিস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলেও আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানীয় জল থেকে অধিকাংশ পৌর নাগরিকই রয়েছেন বঞ্চিত।

বিষয়ে লাকসাম পৌর মেয়র আলহাজ মফিজুর রহমান জানান, অর্থ জনবল সংকটে অনেক কাজ সময় মতো করা যাচ্ছে না। পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে পৌর কর্তৃপক্ষ সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। পর্যাপ্ত তহবিল সংকুলান হলে ড্রেন, রাস্তা- ঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ উন্নয়ন কর্মকান্ড তরান্বিত হবে