আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ : ওয়েবসাইট আছে কিন্তু তথ্য নেই!

বিশেষ প্রতিবেদন: বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ২০০৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রমও হাতে নেয়। যার অংশ বিশেষ হিসেবে বাংলাদেশের সকল সরকারি কলেজ গুলোর জন্য আলাদা আলাদা নিজস্ব ওয়েবসাইট খোলার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১১ সালের প্রথম দিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা যায় ওয়েবসাইট খোলার জন্য অত্র মন্ত্রণালয় থেকে কোন বরাদ্দ এবং কোন সুনিদিষ্ট খাতের কথা উল্লেখ করা না থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মত নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট (http://www.nfgc.gov.bd) চালু করে যা ২০১১ সালের প্রথম দিকে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা-৯) আসনের বর্তমান এমপি মহোদয় উদ্বোধন করেন।


কিন্তু নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজের একটি ওয়েবসাইট আছে এই খবরটি জানেনা সেই কলেজেরই অধিকাংশ ছাত্র শিক্ষক। উদ্বোধনের পরথেকে আর আপডেট করা হয়নি ওয়েবসাইটটি। প্রায় দেড় বছর ধরে ওয়েবসাইটটি চালু থাকলেও কয়েকটি ছবি আর কলেজের ঠিকানা ছাড়া কিছুই নেই্ ওয়েবসাইটে! বর্তমানে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে দেখা যায় প্রথম পাতায় ৬টি ছবি সহ একটি স্লাইড-শো যার মধ্যে অধিকাংশ ছবি পুরাতন। ৬টি ছবির মধ্যে অধ্যক্ষের একটি ছবি আছে অথচ ঐ অধ্যক্ষ বর্তমানে নওয়াব ফয়জুন্নেসা কলেজে কর্মরত নয়! প্রথম পাতার এক পাশে কলেজের ঠিকানা ও ফোন নম্বর ছাড়া আর কিছুই নেই। ওয়েবসাইটের অন্য ১০টি মেনুতে (আমাদের কথা, বিভাগসমুহ, শ্রেণীসমুহ, ক্লাস রুটিন, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, ভর্তি তথ্য, পরীক্ষা, ফলাফল, আন্যান্য) কোন তথ্য নেই!


ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মোঃ আজম খানকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় আমার কলেজের ওয়েবসাইট আছে কিনা আমি জানিনা। তবে সম্ভবত নেই কারন আমি নিয়মিত অনলাইন ব্যাবহার করি থাকলে আমি জানতাম।

আজমের মত কলেজের অনেক শিক্ষার্থীর মুখে শোনা গেলো এমন কথা।

অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র তরিকুল জানায় আমাদের কলেজের ওয়েবসাইট আছে কিনা আমি জানিনা। তবে থাকলে খুবই ভালো হবে। ওয়েবসাইট থেকে আমরা পরীক্ষার ফলাফল সহ অন্যান্য অনেক তথ্য জানতে পারবো। তা ছাড়া দূরের ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র ছাত্রীরাও সহজে ঘরে বসে আমাদের কলেজের ভর্তি তথ্য জানতে পারবে। 


ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ধীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য আমি কোন ফান্ড পাইনি এবং এটি পরিচালনার জন্য আমাকে কোন লোকবল দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া আমি নিজেও আমার অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেছি তারা কেও ওয়েবসাইট আপডেট ও পরিচালনা সম্পর্কে ভালো জনেন না। আরেকটি বড় সমস্যা হল লাকসামের ইন্টারনেট গতি খুব স্লো। সারা দিন ধরে চেষ্টা করেও একটি ফাইল আপলোড করা যায়না। ইচ্ছে ছিল এবার একাদশ শ্রেণীর ভর্তি নিয়মাবলী ও ফর্ম ওয়েবসাইটে দিব কিন্তু দক্ষ লোকবলের অভাব ও ইন্টারনেট গতির কথা চিন্তা করে আর দেওয়া হয়নি।

লাকসামের ইন্টারনেট স্পীড খুবই স্লো এ ধরনের অভিযোগ সাধারন শিক্ষার্থীদেরও। ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে দ্রুত গতির ইন্টারনেট ওয়াইমেক্স প্রযুক্তি ও 3G প্রত্যন্ত অঞ্চলথেকে শুরু হলেও ২০০৯ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে বিভাগীয় শহর গুলথেকে ওয়াইমেক্স যাত্রা শুরু করে! তিন বছর পরও ওয়াইমেক্স বিভাগীয় শহর পর্যায় রয়ে গেছে। যদি বাংলাদেশে ওয়াইমেক্স সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করা যেত তাহলে আরও অনেক মানুষকে তথ্য প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হত। কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশে 3G চালু হওয়ার কথা রয়েছে। দুঃখের বিষয় 3Gও ওয়াইমেক্সের মত বিভাগীয় শহর পর্যায়ে চালু হবে। যার ফলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুত গতির ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিতই রয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।


বর্তমানে অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ, এই তথ্য প্রবাহের যুগে একটি সরকারি কলেজের ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষার্থীরা কোন তথ্য পাবেনা এটি কল্পনা করা যায়না। তা ছাড়া এটিকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে প্রতিবন্ধকতা নয়? ওয়েবসাইটটি তথ্যবহুল করা গেলে সাধারন শিক্ষার্থী সহ প্রবাসী অভিভাবকরাও সহজে কলেজ সম্পর্কে যে কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। ওয়েবসাইটটি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইন্টারনেট স্পীড সেবা উন্নত করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সম্পাদক
আমাদেরলাকসাম.কম