আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসাম জংশন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-নোয়াখালী-সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে ছারপোকার উপদ্রব

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, চাঁদপুর নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর, মেইল লোকাল ট্রেনগুলোতে ছারপোকা, তেলাপোকা আর উইপোকা আস্তানা গেড়েছে পোকার বিড়ম্বনায় যাত্রীসাধারণ পড়েন বেকায়দায়

সরেজমিন দেখা যায়, ট্রেনগুলোর বগিজুড়ে পোকার দাপট। চলন্ত ট্রেনে সিটের ফাঁকে কিংবা হাতলের কোনায়, দরজা-জানালার ফোকর থেকে বেরিয়ে এসে ছারপোকাগুলো মানুষের রক্ত চুষে নেয়। পোকার কামড়ে বার বার কাচুমাচু কিংবা এদিক-সেদিক সরে বসেন যাত্রীরা। আবার কেউ কেউ কাগজে আগুন ধরিয়ে ছারপোকা মারতে দেখা যায়। যা অত্যন্ত ভয়ংকর রূপ পরিগ্রহ করতে পারে।


অন্যদিকে, উইপোকা কিংবা তেলাপোকার দাপটে অনেককে আসন ছেড়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। চলতি বর্ষায় বৃষ্টির পানি ট্রেনের দরজা- জানালা কিংবা সিট ভিজে গেলে পোকা বেরিয়ে কিলবিল করতে দেখা যায়। শোভন শ্রেণীর আসন থেকে প্রথম শ্রেণীর আসন কোথাও নিস্তার নেই। বৃষ্টি পড়লেই ট্রেনের আনাচে-কানাচে লুকানো অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসে পোকার দল। জানালার পাশের আসনগুলোতেই বেশি পোকার দাপট।

পোকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ থাকেন যাত্রীরা। কর্তব্যরত এটেন্ডেন্টদের জানালেও কোনো কাজ হয় না। আবার দেখা গেছে লোকাল কিংবা অন্যান্য ট্রেনে পুরনো, ভাঙ্গাচোরা জরাজীর্ণ বগিতে ছারপোকা-তেলাপোকা ছাড়াও বিষাক্ত পিঁপড়াসহ অন্যান্য পোকামাকড়ের দংশনে অনেক যাত্রী অসহ্য ব্যাথা কিংবা অসুখ-বিসুখ নিয়ে গন্তব্যে ফেরেন।

অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের ওয়াশপিটে ট্রেনগুলো ভালোভাবে পরিস্কার করা হয় না। পরিচ্ছন্ন কাজের জন্য বগিপিছু বরাদ্দ অ্যারোসল, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ বাইরে বিক্রি করে দেয়া হয়। এতে ট্রেনের বগি কোচগুলো থেকে যায় অপরিচ্ছন্ন।

লাকসাম রেলওয়ে জংশন হয়ে বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন জোড়া আন্তঃনগর, ১০ জোড়া এক্সপ্রেস মেইল ট্রেন জোড়া লোকাল ট্রেন চলাচল করে।

লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার পিতু রঞ্জন ভূঁইয়া আমাদের লাকসামকে জানান, ট্রেনগুলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সিলেট চাঁদপুরে অবস্থিত ওয়াশপিটে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগের অধীন ট্রেন এক্সামিনাররা এসব ট্রেন পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম তদারক করেন। যান্ত্রিক বিভাগের নিয়োজিত ঠিকাদারের কর্মীরা ওয়াশপিটে বগিগুলো পরিস্কারের কাজ করেন। ঠিকাদারের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি বগি প্রতিবার পরিস্কার করতে সাবান, ফিনাইল, ভিমসহ বিভিন্ন উপকরণ খাতে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ বরাদ্দ থাকে।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের হেড ট্রেন এক্সামিনার জামিল হোসেন ট্রেনে পোকার উপদ্রবের কথা স্বীকার করে আমাদের লাকসামকে জানান, একটি ট্রেনে কীটনাশক স্প্রে করে তা / ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে রাখতে হয়। কিন্তু ট্রেন সংকটের কারণে কীটনাশক স্প্রে করার / ঘণ্টা পর আবার যাত্রী উঠাতে হয়। জন্য কীটনাশক স্প্রে করলেও খুব বেশি কাজ হয় না। তার মতে, সব আন্তঃনগর ট্রেনে এরই মধ্যে কীটনাশক স্প্রে কাজ শুরু হয়েছে। এতে পোকার উপদ্রব আগের চেয়ে কমবে।

রেলওয়ের নিয়মিত যাত্রী লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের আবদুল মান্নান মজুমদার ক্ষোভের সাথে আমাদের লাকসামকে বলেন, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাফিলতির কারণে বগিগুলোতে তেলাপোকা, উইপোকা আর ছারপোকার উপদ্রব বেড়েছে। ওয়াশপিটের পরিচ্ছন্ন উপকরণ লোপাট না করে যথাযথ ব্যবহার করলে অবস্থা হতো না