আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসাম পৌর এলাকায় ড্রেনেজ সমস্যায় সামান্য বৃষ্টিতেই অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট জলমগ্ন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা লাকসামে ড্রেনেজ সমস্যায় সামান্য বৃষ্টিতেই অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। এ পৌরসভায় বসবাসকারী জনসাধারণ নূন্যতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতই রয়েছে। নেই পানি ও পয়ঃনিস্কাশনের যুৎসই ব্যবস্থা।
ভাঙ্গা-চুরা রাস্তা-ঘাট, অপর্যাপ্ত সড়ক বাতি, অপরিচ্ছন্ন ও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য হাট-বাজার, মশা-মাছি আর কুকুরের উপদ্রবসহ নানা সংকট আর সমস্যায় ভারাক্রান্ত পৌর নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবন।

আষাঢ়ের শুরুতে এবং ইতিপূর্বে কালবৈশাখীর ঝড়ো বৃষ্টিতে পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে খানা-খন্দক সৃষ্টি হয়ে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে অধিকাংশ রাস্তায় কাদাপানি একাকার হয়ে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বিঘিœত হয়। অনেক রাস্তায় দেখা দেয় হাঁটু সমেত পানি। এসব ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ভেঙ্গে জনসাধারণের যাতায়াতের ফলে বিভিন্ন চর্মরোগসহ মারাত্মক রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষজন।


লাকসাম পৌরসভার আয়তন ১৯.৪২ কিলোমিটার। ১১ হাজার ৭২৫টি হোল্ডিংয়ে এখানে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার বণি আদমের বসবাস। অথচ পৌরসভার পাকা ড্রেন রয়েছে মাত্র ৬.৮৭ কিলোমিটার যা অধিকাংশ সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে তেমন কাজে আসে না।

অপরদিকে, পৌরসভার হিসাব মতে ১৫ কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন থাকলেও তা নিতান্তই কাগুজে। পৌরসভার রাজঘাট থেকে মুড়াদরগাহ হয়ে পশ্চিমে কান্দিরপাড় পর্যন্ত কোনো ড্রেন নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় ময়লা-আবর্জনায় একাকার হয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা পরিষদ থেকে পূর্ব দিকে ডাক্তার কলোনী, কলেজ রোড, মিয়াপাড়া, সোয়া ছআনীপাড়া, কাজী ও মাহুথপাড়া, বেপারীপাড়া, জংশন বাজার, নশরতপুর, উত্তর লাকসাম, দক্ষিণ লাকসাম, উত্তর বাজার জামে মসজিদ থেকে কালিবাড়ি গেইট, ধানবাজার, কবুতর বাজার, বাঁশ বাজার, পূর্ব লাকসাম, নোয়াখালী রেলগেইট থেকে পূর্ব দিকে নতুন দৈনিক বাজার, উত্তর দিকে চাঁন সুপার মার্কেট, দক্ষিণ বাইপাস, গাজীমুড়া এলাকায়। আবার যেখানে কিয়ৎ ড্রেন রয়েছে তা পরিচ্ছন্নতার অভাবে সুবিধার চেয়ে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


পৌর সদরে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানা, সরকারি বেসরকারি অফিস-আদালত, ক্লিনিকি-হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, বিপনী বিতান। জরুরী কাজ সারতে আশপাশের উপজেলা থেকে অজস্র জনসাধারণ লাকসাম পৌরসভার এসব প্রতিষ্ঠানে ভীড় জমালেও এখানকার অপ্রতুল শৌচাগার, যাতায়াতের রাস্তা-ঘাট, বেদখল হয়ে যাওয়া ফুটপাতে তারা হাঁপিয়ে উঠে।

পৌরসভার সিংহভাগ টিউবওয়েলই আর্সেনিকে আক্রান্ত। তাছাড়া, দীর্ঘদিন থেকে আর্সেনিক আক্রান্ত টিউবওয়েল সনাক্তকরণ কাজও করা হচ্ছে না। এ এলাকায় অনেক আর্সেনিকোসিস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলেও আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানীয় জল থেকে অধিকাংশ পৌর নাগরিকই রয়েছেন বঞ্চিত।


এ বিষয়ে লাকসাম পৌর মেয়র আলহাজ মফিজুর রহমান জানান, অর্থ ও জনবল সংকটে অনেক কাজ সময় মতো করা যাচ্ছে না। পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে পৌর কর্তৃপক্ষ সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। পর্যাপ্ত তহবিল সংকুলান হলে ড্রেন, রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।