আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটে এযাবৎকালের ভয়াবহ টর্নেডোতে গৃহহারা অনেকেই


মাহবুবুর রহমানঃ সোমবার রাতে মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট দিয়ে বয়ে যায় এযাবৎ কালের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় (টর্নেডো)। এতে বাড়ি-ঘর হারা হয় আড়াই শতাধিক পরিবার। মধ্যখানে একটি দিন পেরিয়ে গেলো অথচ তাদের কোনো ক্ষতিপূরণে এগিয়ে আসেনি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অঙ্গসংগঠন।...

নাঙ্গলকোটের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ টর্নেডোতে ৪টি ইউনিয়নের ২ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দোকানপাট, বৈদ্যূতিক খুঁটি, কয়েক হাজার গাছপালা ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় টর্নেডো আঘাত হেনে, আধা ঘন্টার মধ্যে সব লণ্ডভন্ড করে দেয়। বিভিন্ন স্থানে গাছাপালা ভেঙ্গে যাওয়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সড়কে গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এসময় টর্নেডোর আঘাতে ঘরের নিচে চাপা পড়ে ছাদেক, মাহমুদা বেগম, হাফেজ আহম্মেদ, নুরুল ইসলাম, নুর মিয়াসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে । এতে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা বলে জানা যায়।

জানা যায়, উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের কাজী জোড়পুকুরিয়া, খোসার পাড়, শিবপুর, শ্রীফলিয়া, আশারকোটা, বাঁড়াফুলগাও, মগুয়া, চাঁনপদুয়া, চাতিয়ারা গ্রামে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।রায়কোট ইউনিয়নের অলিপুর বাজারের আবুল কালামের মার্কেট, মেহাম্মদিয়া ছুফিয়া নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা, অলিপুর বাজার জামে মসজিদ, উষা মডেল একাডেমিসহ ৭টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, মৌকরা ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 
মক্রবপুর ইউনিয়নের এলানিয়া গ্রামের অসহায় নুরু মিয়া বসত ঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর হারিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। কাজী জোড়পুকুরিয়া গ্রামের স্বামী হারা অসহায় মাহমুদা তার বসতঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্তগ্রামগুলো পরিদর্শন করে টর্নেডোর ধবংসলীলা চোখে পড়ে। বিশেষ করে অধিকাংশ বাড়িঘরে গাছ উপড়ে পড়ে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন বাড়ি, রাস্তার ধারে কয়েক হাজার, রেন্ডি কড়ই, আকাশমনি, আমগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বাড়িঘর মেরামত কাজে হাত দিতে দেখা যায়। অনেক পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে দেখা যায়। নাঙ্গলকোট- মাহিনী সড়কে গাছ পড়ে প্রায় ৮ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। নাঙ্গলকোট - বাঙ্গড্ডা সড়কের কাজী জোড়পুকুরিয়া গ্রামে ২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে বিদ্যুত সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ সহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়তে থাকতে দেখা যায়। নাঙ্গলকোট- মাহিনী সড়কে ২০/২৫টি রেন্ডি কড়ই গাছ ভেঙ্গে পড়ে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহআলম বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলাস্থ বাইশগাঁও এবং হাসনাবাদ ইউনিয়নের হাসনাবাদ, মানরা ও শ্রীপুর গ্রামে কাল বৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।জানা যায়, সোমবার রাতে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে বাইশগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘরের চাল ঝড়ে উড়ে যায়। আরো কয়েকটি দোকান ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ৭জন আহত হয়। হাসনাবাদ ইউনিয়নের আশিয়াদারী মানরা শ্রীপুর গ্রামে ঘর বাড়ি গাছপালা ধুমড়ে মুছড়ে যায়। সরকারি হিসেবে উক্ত কাল বৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দশ লক্ষ টাকা। মনোহরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার জাহেদুর রহমান, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তাগণ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্থরা থানা নির্বাহী অফিসারের নিকট সার্বিক সহযোগিতার আবেদন করেন।

বিভিন্নসূত্রে জানা যায় নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে এই টর্নেডোতে আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। উপড়ে গেছে বৈদ্যূতিক খুঁটি।আহত হয়েছে ২২ জন।