আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসামের নবাববাড়ি এখন...

অতিথি সাংবাদিকঃ মহীয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা সাড়ে একর জমির উপর তার বিয়ের কাবিনের লাখ টাকা দিয়ে নবাববাড়ি নির্মাণ করেন স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন বাড়িটি নির্মাণ করতে প্রায় বছর লেগে যায় দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমায় বাড়িটিতে নবাব ফয়জুন্নেছার চৌধুরানীর স্মৃতি সংরক্ষণ করে জাদুঘর করা হলে বাড়িটি হয়ে উঠবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সম্ভাবনাময় পর্যটক খাত থেকে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবে
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, ব্রিটিশ আমলের কারুকার্যখচিত ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব নারী জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতিবিজড়িত লাকসামের ঐতিহাসিক নবাববাড়িকে ঘিরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।..
কালের সাক্ষী বাড়িটি সংস্কার করা হলে পর্যটক-হৃদয় সিক্ত করবে হয়ে উঠবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সম্ভাবনাময় পর্যটক খাত থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবে সরকার
লাকসাম শহর থেকে আধা কিলোমিটার দূরে পশ্চিমগাঁয়ে ডাকাতিয়া নদীর তীর ঘেঁষে অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি ঐতিহাসিক নবাব বাড়িটির অবস্থান ঐতিহ্যের ধারক লাকসামের নবাববাড়িটির নির্মাণ সাল নিয়ে মতান্তর রয়েছে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন কথিত আছে, বিয়ের ১৭ বছর পর ১৮৫১ সালে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জানতে পারেন তার স্বামী হাছান আলী জমিদারের আরেকটি স্ত্রী রয়েছে মহীয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা তার সতীন থেকে পৃথক থাকার জন্য সাড়ে একর জমির উপর তার বিয়ের কাবিনের লাখ টাকা দিয়ে বাড়িটি নির্মাণ করেন স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন বাড়িটি নির্মাণ করতে প্রায় বছর সময় লেগে যায় ব্রিটিশ আমলের সিমেন্ট, রড, চুন সুরকি দিয়ে বাড়িটি নির্মাণ করা হয় নারী জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র নবাব ফয়জুন্নেছা অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন তিনি পর্দার আড়াল থেকে বাড়িটিতে বসে উপমহাদেশের সব বিচারকার্য সম্পাদন, রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ, স্কুল-মাদ্রাসাসহ যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করতেন বাড়ির পাশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন দশ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ কালের বিবর্তনে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি নবাব বাড়ি হিসেবে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে ১৯০৩ সালের অক্টোবর মাসে ১৩১০ বঙ্গাব্দের ২০ আশ্বিন নবাব ফয়জুন্নেছা ইন্তেকাল করেন নবাব ফয়জুন্নেছা মৃত্যুর আগে বাড়িটি সরকারের কাছে ওয়াক্ফ করে যান বর্তমানে নবাব ফয়জুন্নেছার কয়েকজন উত্তরাধিকারী বাড়িটিতে বসবাস করছেন কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে রক্ষণাবেক্ষণ সংস্কারের অভাবে বাড়িটির সৌন্দর্য বিলীন হওয়ার পথে দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমায় অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি নবাববাড়িটি সংস্কার করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের হৃদয় সিক্ত করবে ছাড়া বাড়িটিতে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতি সংরক্ষণ করে জাদুঘর করা হলে বাড়িটি হয়ে উঠবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সম্ভাবনাময় পর্যটক খাত থেকে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবে
নবাব ফয়জুন্নেছার উত্তরাধিকারী ওয়ান ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজ জানান, ঐতিহ্যের ধারক লাকসামের নবাববাড়ি দক্ষিণ এশিয়ার সৌন্দর্যমণ্ডিত বাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম বর্তমানে অযত্নে-অবহেলায় বাড়িটির সৌন্দর্য দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে একপর্যায়ে বাড়িটির ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন বাড়িটিতে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতি সংরক্ষণ করে জাদুঘর করা হলে বাড়িটি হতে পারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান

সাইফ খান
বাংলাদেশ প্রতিদিন