আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

অসহনীয় লোডশেডিং তীব্র দাবদাহ আর মশার উৎপাতে লাকসামবাসীর দুর্বিষহ জীবন-যাপন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: [মঙ্গলবার, ২৯ মে ০১২] অসহনীয় লোডশেডিং আর তীব্র দাবদাহে লাকসামবাসীর দুর্বিষহ জীবন-যাপনে নতুন উপসর্গ যুক্ত হয়েছে মশার উৎপাত। মশার অত্যাচারে ঘরে-বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। অথচ হাত গুটিয়ে বসে আছে পৌর কর্তৃপক্ষ।..

পৌরসভার পরিচ্ছন্ন বিভাগ মশার উৎপাত রোধে নেয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। বিদ্যুতের লোডশেডিং আর মশার উৎপাতে লাকসাম পৌরসভায় বসবাসরত মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গ্রীস্মের শুরু থেকেই মশার যন্ত্রণা, বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি আর গরমের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
            গ্রীষ্মের দাবদাহের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের কষ্টের সীমা নেই। দিনে-রাতে চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি। দিনের বেলায় যাই হোক রাতের আঁধারে; এমনকি ভোররাতেও বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় দারুণ ব্যাঘাত ঘটছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি চলছে পানি সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর নলকূপ ও চৌবাচ্চা থেকে পানি উত্তোলন করতে না পারায় গৃহস্থালী কাজে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে।
            বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি মেশিন। সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ মেশিনটি কুমিলর জাঙ্গালিয়ায় বসানো হলেও তা নিয়ন্ত্রিত হয় ঢাকা থেকে। ফলে সময়ে-অসময়ে কখনো কখনো কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একাধিকবার লোডশেডিং হয়। আবার বার বার বিদ্যুৎ সরবরাহে ড্রপ পড়ায় কল-কারখানার মেশিনপত্র, ফ্যান, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, চার্জার, টিভি, ফ্রিজ, পানির মোটরসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে কোটি কোটি টাকা গচ্ছা দিচ্ছেন ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। এদিকে, লোডশেডিংয়ের কবল থেকে ছুটির দিনেও রেহাই মিলছে না। সরকারি- বেসরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধের তারিখে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। লোডশেডিংও হয় কম। কিন্তু এখন ছুটির দিনেও লোডশেডিং থেকে মুক্তি নেই। মোদ্দাকথা লোডশেডিং কোনো নিয়মই মানছে না।
            লোডশেডিংয়ের সাথে পালদিয়ে পৌর এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা হলেই নালা-নর্দমা আর ড্রেনের আবর্জনার স্তুপ থেকে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও অফিস- আদালতে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মশা মারার ¯েপ্র এবং কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করতে হয়। মশার যন্ত্রণায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিকের রোগীরাও অতিষ্ঠ। ভাসমান মানুষের দুর্গতি বলে লাভ কি।
            হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মশার কামড়ে চুলকানি, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও গোদসহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত রোগীদের অনেকেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীদের বেশীর ভাগই শিশু।
            বিদ্যুতের লোডশেডিংয় বিষয়ে পিডিবির লাকসাম দৌলতগঞ্জ আবাসিক প্রকৌশলীর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সহ-প্রকৌশলী সিরাজ উদ্দিন জানান, আমাদের চাহিদা ৭.৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩-৪ মেগাওয়াট। কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসবে।
            কুমিলপলবিদ্যুৎ সমিতি-২ লাকসামের ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন জানান, পিক আওয়ারে (সন্ধ্যায়) আমাদের চাহিদা ১৩.৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যায় মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অপরদিকে অফ-পিক আওয়ারে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হয়। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর। চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে লোডশেডিং কমে যাবে।
            মশা নিধনের ব্যাপারে লাকসাম পৌরসভার মেয়র আলহাজ মফিজুর রহমান জানান, পৌর এলাকার ড্রেন ও ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিস্কার করা হচ্ছে। তবে লোকবলের অভাবে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে কিছুটা সময় লাগছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মশক নিধনে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে আগামী মিটিংয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। মশা নিধনের ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।