আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

ভিক্টোরিয়া কলেজে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: [বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ০১২] তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দুই গ্রূপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক এনামুল হক সবুজের অবস্থা আশংকাজনক।
তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় নগরীতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রাতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় ১২জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার ২০১২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতা করার জন্য কলেজের প্রতিটি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ফ্রি ভর্তি ফরম পূরণের জন্য আলাদা টেন্ট বসে। এর মধ্যে কলেজে ছাত্রদলের বিবাদমান দুটি পক্ষ ও নিজেদের শক্তিকে জানান দিতে আলাদা আলাদা শোডাউন করে। এসময় কলেজের প্রবেশদ্বার দিয়ে বের হবার সময় মনিরুল হক সাক্কু গ্রূপের কর্মী বাহারের সাথে হাজী ইয়াছিন গ্রূপের কর্মী জনি পাটোয়ারীর ধাক্কা লাগে।..
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন উভয় গ্রূপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইয়াছিন গ্রূপের ধাওয়া খেয়ে সাক্কু গ্রূপ কান্দিরপাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। 

পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক এনামুল হক সবুজের নেতৃত্বে একটি মিছিল উচ্চ মাধ্যমিক শাখার পূর্ব পাশ দিয়ে বের হয়ে পূবালী চত্বরে যায়। সেখান থেকে পুনরায় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য যাওয়ার সময় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষ তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় পথচারী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন এনামুল হক সবুজসহ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা কর্মী পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। পরক্ষণেই তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক এনামুল হক সবুজ। পায়ে এবং শরীরে গুলিবিদ্ধ হয় ২য় বর্ষের ছাত্র ইয়াছিন গ্রূপের কর্মী ফয়সাল। অন্যান্যদের মধ্যে আহত হন হিসাব বিজ্ঞান মাষ্টার্সের শেষ বর্ষের ছাত্র কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুদ্দীন, ছাত্রদল কর্মী সোলেমানসহ ১০জন। গুরুতর আহত এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ এনামুল হক সবুজকে অজ্ঞান অবস্থায় প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে সবুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছাত্রদল নেতাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।এ ঘটনায় এনামুল হক সবুজের ছোট ভাই এমদাদুল হক পরিচয়সহ ১২ জনকে এবং অজ্ঞাত ৮/১০জনকে আসামি করে রাতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। এদিকে আরেকটি সূত্র জানায়, বিকালে সংঘর্ষে জড়িত ছাত্রদল নেতাদের ধরতে পুলিশ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে যায়।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ জানান,ছাত্রদলের দুই গ্রপের সংঘর্ষে ১০জন আহত হয়েছে। তিনি আরো জানান,পুলিশ সিটি কর্পোরেশনে গিয়েছিল সংষর্ষে জড়িতদের কেউ সেখানে অবস্থান করছে এ তথ্য পেয়ে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।