আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল - সাপ কেঁচো ব্যাঙের সঙ্গে ছাত্রীদের বসবাস !

আরিয়া মরিয়ম ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে: [শুক্রবার, ০৪ মে ০১২] বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রীনিবাস নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল। সাপ, কেঁচো, ব্যাঙের আবাসস্থলে পরিণত হয় হলের ডাইনিং রুম, টিভি রুমসহ নিচতলার কক্ষগুলো। এতে ছাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন-রাত কাটান। এ ছাড়া জমে থাকা পানির কারণে পরিবেশ নষ্ট হয়ে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাত হাজার ছাত্রীর জন্য রয়েছে ৪৫০ সিটের একমাত্র ছাত্রীনিবাস নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল।..
চারটি ভবন নিয়ে এ হলটি ১৯৯০ সালে স্থাপিত হয়। হলের ভবনগুলো অযত্ন-অবহেলায় দিন দিন জঙ্গলবাড়িতে পরিণত হচ্ছে। পুরনো বিল্ডিং, টিউবওয়েল, বিদ্যুৎ লাইন, জানালার গ্রিল, পানির লাইন_এসবই অন্তহীন সমস্যা।

নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ছাত্রীরা একটু বৃষ্টি হলেই রুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং রুমে খাবার খেতে যেতে পারেন না। হলের চারদিকে নোংরা পানি জমে থাকে। এই পানি হলের বিভিন্ন ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করে।

হলের ১১০১ নম্বর কক্ষের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী রুমা জানান, 'বৃষ্টি আমার অনেক ভালো লাগে, কিন্তু যখন বৃষ্টির কারণে আমাদের হলটা নর্দমা বা ডোবার আকার ধারণ করে তখন আর বৃষ্টি আশা করি না। ডাস্টবিনের ময়লামিশ্রিত পানি মাড়িয়ে ডাইনিং রুমে প্রবেশ করতে হয়। ফলে খাবারের রুচি উঠে যায়। এরপর কোনো রকম খেয়ে যখন আবার রুমে রওনা দিই তখনো ওই নোংরা পানি বড় জ্বালায়।' ১ নম্বর ভবনের ৩০২ নম্বর কক্ষের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সৈয়দ নাসরিন বলেন, 'আমরা রুমে প্রবেশ করতে ও বের হতে সব সময় আতঙ্কে থাকি। কারণ আমাদের ভবনের সামনেই মাটির একটি বড় ঢিপি রয়েছে, যাতে আছে অনেক সাপ। কিছু দিন আগেও বাচ্চাসহ আমরা ২০-২৫টি সাপ দেখতে পাই। অনেক সময় সেগুলো রুমের দরজা-জানালা দিয়ে প্রবেশ করে, মাঝেমধ্যে সিঁড়ির নিচে ফণা ধরে বসে থাকে।' একই ভবনের ৩০২ নম্বর কক্ষের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী হোসনা বেগম বলেন, 'অনেক ছাত্রী তখন ওই নোংরা পানির সমস্যা সহ্য করতে না পেরে বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরীক্ষা থাকলে তখন পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হয়।'

প্রসঙ্গে হলের সহকারী প্রভোস্ট ও তত্ত্বাবধায়ক সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামিমা আক্তার জানান, 'আমরা যতটুকু পারি সমাধান করার চেষ্টা করি। পানি তো শুধু এই হোস্টেল নয়, বৃষ্টি নামলে আমাদের কলেজেও ওঠে। আর হোস্টেলের ভেতরের সমস্যাগুলোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি তবে লোকবল এবং অর্থের অভাবে অনেক কাজ করতে পারি না।' কলেজের অধ্যক্ষ এম এম শফিউদ্দিন বলেন, 'এটা আমাদের আগে থেকেই জানা আছে, এ জন্য কলেজের আওতায় থেকে যখন যতটুকু পদক্ষেপ নেওয়ার তা আমরা সব সময় নিয়েছি। এর বাইরে কিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই।'

সম্পাদনা : ফারহানা ইসলাম মীম, নিউজরুম এডিটর


বিজ্ঞাপন মুক্ত এ ব্লগের প্রতিটি খবরে রয়েছে এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ তরুণীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার। তাই আমাদের খবর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাদেরকে উৎসাহিত করুন।
undefined