আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

দারিদ্রতাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন নাঙ্গলকোটের দুই ছাত্র

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি: [শনিবার, ১৯ মে ০১২] নাঙ্গলকোট উপজেলার মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ভীষন দারিদ্রতাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে এসএসসি পরীক্ষায়-২০১২ সেশনের জিপিএ অর্জন করেছে দুই ছাত্র মাসুদ বাহার সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায় ছগরী পাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিছ মিয়া হোছনা বেগমের পুত্র মোঃ মাসুদ রানা প্রবল ইচ্ছা শক্তি আল্লাহর প্রতি অশেষ আস্তা বিশ্বাসের ফলে গ্রাম বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে পরিবারে এক ভাই এক বোনের মধ্যে সেই ছোট, বোন বিবাহিত ২০০৩ সালে যখন পিতা মারা যায়, মাসুদ তখন দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র ২০০৪ সাল থেকে মামা একরামুল হকের দোকানে থেকে মামার অশেষ সহযোগীতায় পড়া লেখা চালিয়ে যায়..
তারই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম শ্রেণীতে সে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পায় ২০১২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ পাওয়ার সুবাদে মাসুদের সাথে সাক্ষাৎ হলে সে এই প্রতিবেদককে জানায় সকল শিক্ষক, অভিভাবক হিসাবে মামা সহপাঠীদের প্রবল উৎসায়ে সে আজকের এই জিপিএ পাওয়া অর্জন করে পড়া লেখার ক্ষেত্রে মাসুদের ভূমিকা কি ছিল? এই প্রশ্নের জবাবে সে জানায় আমি আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে, মামাদের অর্থে, শিক্ষকদের ফ্রি টিউশনে, দৈনিক / ঘন্টা পড়া লেখা করেই জিপিএ অর্জন করতে সক্ষম  হয়েছি ছাড়াও আমার মায়ের অভিভাবকত্ব ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
এছাড়াও একই বিদ্যালয়ের ছাত্র বাহা উদ্দিন বাহার ভীষন দারিদ্রতাকে জয় করে সহপাঠী শিক্ষকদের মূখে হাঁসি ফুটালো বাহার। সে জিপিএ অর্জন করেছে। তথ্য সংগ্রহে করতে গিয়ে জানা যায়- উপজেলার বেকামলিয়া গ্রামের মৃত: নুরুল হকের মৃত: অহিদা বেগমের পুত্র মোঃ বাহা উদ্দিন বাহার তার গ্রাম বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। পরিবারে দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে সেই চতুর্থ। বড় ভাই দেশের বাহিরে থেকেও তেমন কোন সহযোগিতা করতে পারেনী। ভাড়া ছাত্রাবাসে থেকে শিক্ষকদের অশেষ উৎসাহে পড়ালেখা চালিয়ে যায়। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক সুশান্ত দাসের সার্বিক তত্বাবধানে বাহার লেখাপড়া করতে সক্ষম হয়।  ২০০৫ সালে যখন পিতা মারা যায়, বাহার তখন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। এর পর থেকে মায়ের তত্বাবধানে পড়া লেখা চালাচ্ছিল। কঠিন দরিদ্রতার মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন অহিদা বেগম। চলছিল বাহারের পড়া লেখার প্রচেষ্টা। এমতাবস্থায় হঠাৎ বাহারের মা দূরারোগ্য ব্যাধিতে ভূগলে, ঘর ভিটা ব্যতীত সম্পূর্ণ সম্পদ বিক্রি করেও সফল চিকিৎসা না করতে পেরে দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় থেকে অবশেষে  নবম শ্রেণীতে থাকা কালে ২০১০ সালে মৃত্যু বরণ করেন বাহারের মা অহিদা বেগম। গ্রামের বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। কখনো খেয়ে কখনো আবার না খেয়ে থাকলেও আপন মামারা (মায়ের ভাই) প্রভাবশালী হওয়ার পরেও কোন প্রকার সাহায্যতো দূরের কথাকেমন আছিস; বলেও খোঁজ নেয়নি তারা প্রধান শিক্ষকের তত্বাবধানে ভাড়া ছাত্রাবাসে থেকেই শিক্ষক শিক্ষকের স্ত্রীর দান অনুদানে পড়া লেখা চালিয়ে যায়। ব্যবসা শাখা থেকে বাহার একজনই জিপিএ পায়