আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসামে হোটেল ও বেকারীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

অতিথি সাংবাদিকঃ [বুধবার, ০২ মে ০১২] লাকসাম পৌরশহরের অধিকাংশ হোটেলসমূহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিবেশিত হচ্ছে ভেজাল খাবার আর বেকারীসমূহে নোংরা পরিবেশে বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে তৈরি হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী সরেজমিন বিভিন্ন হোটেলে দেখা যায়, স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে তৈরি হচ্ছে খাবার-দাবার নিয়মানুযায়ী বাবুর্চি, মেটসহ খাবার তৈরি কাজে নিয়োজিতদের হাতে গ্লবস, মাথায় কাপড় ক্যাপ পরার কথা থাকলেও খালি হাতে তৈরি হচ্ছে ওইসমস্ত খাবার তাছাড়া, পঁচা বাসি খাবার ফেলে না দিয়ে তা মিশানো হচ্ছে নতুন খাবারে জানা গেছে, হোটেলের জন্মলগ্ন থেকে ব্যবহৃত তেলের উচ্ছিষ্ট কখনো ফেলা হয় না নতুন তেলের সাথে মিশিয়ে তা পুনরায় ব্যবহৃত হচ্ছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই তেলে বিষাক্ত টক্সিন তৈরি হয় যা প্রাণীদেহে মারাত্মক জটিল-কঠিন রোগ সৃষ্টি করে
            হোটেলগুলোতে ঢুকতেই ভ্যাপসা গরম আর মাছির ভনভনানি লক্ষ্য করা যায়..
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই চলে জনসাধারণের খাদ্য গ্রহণের পর্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টি সল্টসহ নানা ক্ষতিকর ক্যামিকেল খাবার ঢেকে রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না কেউ আগের দিনের পঁচা-বাসি মাছ, মাংস, ডিম, পরটা, সিঙ্গারা, হালিম, সমুচা, হালুয়া পরেরদিনের আইটেমে মিশিয়ে চালানো হচ্ছে টাটকা খাবার বলে এসব খেয়ে জনসাধারণ ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানাবিধ পেটের পীড়া জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এছাড়াও হোটেলসমূহে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে কোনো কারণে একবার দাম বৃদ্ধি পেলে তা আর কমানো হয় না অবস্থা চলছে লাকসামের প্রায় সব খাবার হোটেলেই অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, হোটেলসমূহে তৈরিকৃত খাবারের মান যাচাই কিংবা যৌক্তিক দাম নির্ধারনে সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে কেউ নেই সাধারণ জনগণ একরকম বাধ্য হয়েই এসকল হোটেলসমূহে খাবার গ্রহণ করছেন একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অন্যদিকে গলাকাটা মূল্যে খাবার কিনতে হিমসিম খাচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন লাকসাম উপজেলা প্রশাসন কালে-ভদ্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুএকটি হোটেলে অভিযান চালালেও তা সমুদ্রে ঢিল ছোঁড়ার মতো বাজারে -এর কোনো প্রভাব পড়ে না জনস্বার্থে বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সচেতনমহল
            গরমে আইসক্রীম শিশুদের খুবই প্রিয় সময় যুব-বৃদ্ধরা একটু প্রশান্তি পেতে আইসক্রীম পছন্দ করলেও লাকসামের -৭টি আইসক্রীম ফ্যাক্টরিতে বিরাজ করছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লাকসামে ফ্রেশ, পুলকা, তৃপ্তি, যমুনা, পৌরসভার গাজীমুড়ায় একটি (বেনামী) উপজেলার নোয়াপাড়ায় স্যাকারিন ফ্যাক্টরি নামে আইসক্রীম ফ্যাক্টরী পরিচালিত হচ্ছে সাইট্রিকসহ নানা বিষাক্ত ক্যামিকেল, নোংরা পানি, স্যাকারিন, এসবি পাউডার, বিষাক্ত ক্যামিকেল রং (যা খাবার রং নয়) মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আইসক্রীম এসব আইসক্রীম খেয়ে শিশুরা কৃমি, আমাশয়, ডায়রিয়াসহ নানা পেটের পিড়া, সর্দি-কাশি জটিল-কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব ফ্যাক্টরিতে আইসক্রীম তৈরি বাজারজাতকরনে জোরপূর্বক শিশুদের ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে সরেজমিনে দেখা যায়, খালি হাতে, খালি পায়ে শ্রমিকরা আইসক্রীম তৈরিতে ব্যস্ত জানা যায়, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই, ব্যবসায়ীক লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, আবাসিক এলাকা থেকে দূরে তৈরি করার নিয়ম থাকলেও ফ্যাক্টরিগুলো তৈরিতে অধিকাংশ নিয়ম মানা হয়নি
            অন্যদিকে, লাকসামের বেকারীসমূহে তৈরিকৃত খাবারের অবস্থা আরো ভয়াবহ এখানে বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাউরুটি, বিস্কুট, কেকসহ নানা খাদ্যসামগ্রী সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারীতে খাবার তৈরিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের সিংহভাগই শিশু-কিশোর বিস্কুট-পাউরুটিসহ অন্যান্য খাবার তৈরির ময়দা বিভিন্ন উপাদান মিশ্রণে নিয়োজিত ব্যক্তির গা বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে তা অনায়াসে মিশে যাচ্ছে  খাবারে দেখা যায়, খাবার তৈরিতে নিয়োজিতরা খালি হাতে সর্দি-কাশি ঝেড়ে ফেলার পর ওই খালি হাতেই তৈরি করছে মজাদার কেক, নানা স্বাদের বিস্কুট কিংবা পাউরুটি খালি হাতে তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্তদের রোগ-জীবাণু মিশে যাচ্ছে খাদ্য সামগ্রীতে বেকারীসমূহের সিংহভাগেরই নেই বিএসটিআই অনুমোদন নেই মেডিকেল সার্টিফিকেট আবার অনেকেরই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লাইসেন্সই নেই স্যাঁতসেতে, নোংরা-ময়লা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরিকৃত খাবারের উপকরণসমূহ রাখা হয় একই পরিবেশে দেখা যায়, মিশ্রিত উপকরণের পাত্রে মশা-মাছি কিংবা তেলাপোকা পড়ে আছে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে- বিষাক্ত রং, ক্যামিকেল অনেক বেকারীতে অতি পুরনো বিস্কুট, পাউরুটি, কেক এবং মার্কেট থেকে ফেরত আসা খাদ্য সামগ্রী এক জায়গায় সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে জানা যায়, পঁচা বাসি বিস্কুট-পাউরুটি পানিতে গলিয়ে পুনরায় খাবারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পাউরুটিসহ বিভিন্ন বেকারী আইটেমে পঁচা ডিমের বিষয়টিতো ওপেন সিক্রেট
            এদিকে, খাদ্য সামগ্রীর মূল্যের সাথে জনসাধারণে জীবনমানের প্রশ্ন জড়িত থাকলেও বেকারী ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের খেলায় মেতেছে বেকারীতে তৈরিকৃত খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়ছে হু হু করে অভিযোগ রয়েছে, নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরিসহ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত লাকসামের হোটেল বেকারীর বিএসটিআই অনুমোদন, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিবেশ ছাড়পত্রসহ নানা কাগজপত্র না থাকার ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট স্যানিটারী ইন্সপেক্টর কাজে তদারককারী মহল প্রতিমাসে মোটা অংকের মাসোহারা গুনছেন
            লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবুল হাশেম আনসারী জানান, পঁচা, বাসি বিষাক্ত রং মিশ্রিত এসব খাবার খেয়ে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ জটিল পেটের পিড়া কিডনি, লিভার অকেজো হওয়া এবং ক্যান্সারসহ নানা রোগে জনসাধারণ আক্রান্ত হচ্ছে আগে কদাচিৎ ধরনের রোগী পাওয়া গেলেও বর্তমানে আমাদের কাছে ধরনের রোগীর লাইন লেগে থাকে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরাও বাধ্য হয়ে এসব খাবার খাচ্ছি স্যানিটারি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ এক্ষেত্রে কাজ করলেও ব্যাপারে সরকারিভাবে আরো কঠোরতা অবলম্বন করা উচিত
            ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহগীর আলম জানান, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গত দুসপ্তাহে লাকসামে ৪টি বেকারী ২টি হোটেলকে বিএসটিআই লাইসেন্স না থাকা নোংরা পরিবেশসহ বিভিন্ন অভিযোগে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, বিপণন পরিবেশনের ব্যাপারে আমরা বিশেষ নজর রাখছি তাছাড়া, এসব নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের অভিযানও অব্যাহত থাকবে ব্যাপারে ইউএনও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা স্বাস্থ্য বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান

মোঃ আবুল কালাম
লাকসাম বার্তা