আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

কুমিল্লায় বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা নিষ্ক্রিয়

অতিথি সাংবাদিকঃ [রোববার, ০৬ মে ০১২] হরতালসহ কেন্দ্র ও স্থানীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় এবং জেলার শীর্ষ বিএনপি নেতাদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় খুঁজে পাচ্ছে না দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে জেলার ১১টি সংসদীয় আসন থেকে গত সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী, বিজয়ী এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই এখন আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে নেই।..
এতে দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে তাই কেন্দ্র ঘোষিত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনেক উপজেলায় যথাযথভাবে পালিত হয় না বলে জানা গেছে জানা যায়, জেলার ১৬টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত ১১টি সংসদীয় আসন। রাজনৈতিকভাবে তা কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিন্যস্ত। বিগত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে নয়টিতেই আলীগ এবং দুটিতে বিএনপি জয়লাভ করে। বিএনপির বিজয় লাভ করা দুটি আসন হচ্ছে, হোমনা ও মুরাদনগর। কিন্তু বর্তমান মহাজোট সরকারের গত তিন বছরেরও অধিক সময়ে গত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী, পরাজিত কিংবা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন বিএনপি নেতাদের অধিকাংশই এখন মাঠে নেই। তাই মাঠপর্যায়ে দলীয় কর্মসূচিতে বেশ স্থবিরতা বিরাজ করছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দুই দফার হরতালে ওইসব নেতাদের অনেকেই মাঠে ছিলেন না। তাই জেলা সদর ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে হরতালে তেমন কোন উত্তাপ ছিল না। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কেন্দ্রীয় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দাউদকান্দিতে হরতালসহ বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার হরতালের সময় এলাকায় না থাকলেও অন্য সময় এলাকায় এসে দলকে সংগঠিত করছেন বলে জানা গেছে। এ আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহুর ও তার ভাই পৌরমেয়র পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুন মিয়া সঙ্গে এমকে আনোয়ারে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ আলীগের আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পরাজিত করে বিজয় লাভ করেন। বর্তমানে কায়কোবাদ অসুস্থতাজনিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ আসনে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ইতিমধ্যে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তার স্ত্রী বেগম মাজেদা আহসান মুন্সী নির্বাচন করে পরাজিত হন। মামলা ও হামলার আশংকায় সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে মুন্সী দেবিদ্বারে আসেন না। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদও থাকেন ঢাকায়। মুন্সীবিহীন দেবিদ্বারে বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছে চরম হতাশায়। বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বর্তমানে বিএনপির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপিতে রয়েছে চরম কোন্দল। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের দুই দফার হরতালে শওকত মাহমুদ, এএসএম আলাউদ্দিন কিংবা সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন কেউই মাঠে ছিলেন না। সাবেক সংসদ সদস্য সুমন অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে ও ঢাকায় অবস্থান করায় হরতালসহ সরকারবিরোধী কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দলীয় কর্মসূচি পালন করার চেয়ে এখন বিলুপ্ত কুমিল্লা-৯ নির্বাচনী এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য ঐক্যসংহতির ব্যানারে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। লাকসাম-মানোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনে কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম এ আসনে মনোনয়ন পেলেও তিনি আলীগের তাজুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে বিএনপিতে রয়েছে চরম কোন্দল। আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য আজিম, এটিএম আলমগীর, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইয়া গ্রপের পরিচালক মজির আহমদ এবং জেলা বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক চৈতী গ্রপের চেয়ারম্যান আবুল কালামের নাম থাকলেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ওই নেতাদের কেউই এখনও মাঠে নামেননি বলে জানা গেছে। সদর দক্ষিণের একাংশ নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১০ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আলীগের আহম মোস্তফা কামালের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে বিএনপির অপর সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার চরম রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এপ্রিলের হরতালে মোবাশ্বের ভূঁইয়া একদিন মাঠে থাকলেও পরে আর উভয় নেতার কাউকেই মাঠে দেয়া যায়নি। চৌদ্দগ্রাম সংসদীয় আসনে চারদলীয় ঐক্যজোট থেকে জামায়াতের ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হন। এ আসনে জামায়াত এবং বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন না করায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে উভয় দলই অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

মোঃ কামাল উদ্দিন
যুগান্তর