আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

নাঙ্গলকোট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্গুলোতে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: [রোববার, ০৮ এপ্রিল ০১২] নাঙ্গলকোটে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, এবং স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সহকারিদের অনুপস্থিতি, সময়মত উপস্থিত না থাকা, নির্দিষ্ট সময়ের পর্ূেব চলে যাওয়া, বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্র বন্ধ থাকা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের বেডের অতিরিক্ত রোগী র্ভতি পানি সংকট, নোংরা পরিবেশ সর্বত্র এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।..
গতকাল শনিবার সরেজমিনে হাসপাতাল, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্রে পরির্দশন করে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল চিত্র চোখে পড়ে হাসপাতালগুলোতে ২৫ জন ডাক্তারের মধ্যে মাত্র ১১জন ডাক্তারের উপস্থিত পাওয়া যায় অবশিষ্ট ১২জন ডাক্তাকে অনপুস্থিত পাওয়া যা্য় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর ১৫জন ডাক্তারের মধ্যে সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাত্র ২জন ডাক্তারকে উপস্থিত পাওয়া যায় সকাল ১১টার পর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা র্কমকর্তাসহ আরো ৫জন ডাক্তার উপস্থিত হন বলে হাসপাতাল কতর্ৃপক্ষ জানান এছাড়া গোহারুয়া ২০ শষ্যা হাসপাতাল, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ৪জন ডাক্তারকে হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় কোথাও নিরাপত্তা প্রহরী, এম, এল,এস , এসসহ থেকে ১জন স্বাস্থ্য সহকারী পাওয়া গেলেও কোন মেডিক্যাল অফিসারকে উপস্থিত পাওয়া যায় নি উপজেলা স্বাস্থ্য ওপরিবার পরিকল্পনা র্কমকর্তা সহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর ডাক্তারদের হাসপাতালের আবাসিক ভবনে থাকার নিয়ম থাকলেও মাত্র ৩জন মেডিক্যাল অফিসার হাসপাতালের আবাসিক ভবনে অবন্থান করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ডাক্তারদের নিজেদের সুবিধামত অলিখিতভাবে সপ্তাহে ২থেকে ৩দিন উপস্থিত থাকাটা এক ধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে আবার কোন কোন ডাক্তারের দিনের পর দিন র্কমস্থলে উপস্থিত থাকেন না অথচ মাস শেষে মোটা অংকের বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন অনেক ডাক্তার ডিউটি রোষ্টার অনুযায়ী র্কমস্থলে উপস্থিত না থেকে মোবাইলের মাধ্যমে অন্য ডাক্তারদেরকে দায়িত্ব পালন করতে বলেন হাসপাতালে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে দর্ুব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) এবং সহসার্জনের পদটি বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেসথেসিয়ার বিপরীতে অন্য ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে যার ফলে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ্যানসথেসিয়া না থাকার অজুহাত তুলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও পর্যন্ত রোগীদের কোন ধরনের অপারেশন কর্াযক্রম পরিচালিত হয় নাই ডেন্টাল বিভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও তা কখনো ব্যবহার করা হয় না সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের সকাল .৫০ মিনিটে গোহারুয়া ২০ শষ্যা হাসপাতালের ডা: দাউদুল ইসলাম এবং পেড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ডা: মোহাম্মদ তৌফিককে ১২২ কক্ষে বসতে দেখা যায় সকাল ১০.১৫ মিনিটে ১২৭ নম্বর কক্ষে ডা: অঞ্জন কুমার পাল, ১২৮ নম্বর কক্ষে আদ্র স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ডা: সাদিয়া সুলতানা কমলিকা এবং দৌলখাঁড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা: শারমিন সুলতানাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় সকাল ১০.৩০ মিনিটে ১২২ নম্বর কক্ষে ডেন্টাল ফারহানা চৌধুরীকে ঢুকতে দেখা যায় এছাড়া ডাঃ গাজী মজিবুর রহমান , ডাঃ নিলুফা পারভীন, ডাঃ কামরুল হাসান সকাল ১১ টার পর উপস্থিত হন বলে হাসপাতাল কতর্ৃৃপক্ষ সূত্রে জানা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্রর ডাঃ ফারহানা বেগম, ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম, ডাঃ সাইদা বেগম পান্না, ডাঃ প্রণব কুমার রায়, ডাঃ সিরাজুম মনিরা, ডাঃ মুর্শিফ মরিয়ম, ডাঃ মাসুদ হাসান, রায়কোট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাঃ পিংকি সাহা, মৌকরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাঃ নুসরাত জাহান, জোড্ডা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাঃ রেহানা আক্তার, ঢালুয়া স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাঃ মোহাম্মদ হুমায়ন কবির, বকা্রগঞ্জ স্বাস্থ পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাঃ মোঃ আশিক সালাহ উদ্দিনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায় এদিকে, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্রর ডাঃ ফাহিমা শারমিন হোসেইন এবং নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাঃ মোঃ খায়রুল ইসলাম ছুটিতে রয়েছেন হাসপাতালের সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক ডাক্তার ছুটির দরখাস্ত দিয়ে যান বলে জানা যায় হাসপাতালের প্রধান সহকারি কাম হিসাব রক্ষক রেজাউল করিম জানান, ডাঃ ফাহিমা শারমিন হোসেইন এবং ডাঃ খায়রুল ইসলাম ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন এছাড়া অন্য কোন ডাঃ ছুটির জন্য আবেদন করেন নাই এদিকে, স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিয়ঙমিত স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্র অনুপস্থিত থাকা নিয়েও অনেক অভিযোগ করেন সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার এবং কর্মচারীরা কেউ কারো কথা শুনেননা তারা ডিউটি করতে চায়না সবাই নিজের ইচ্ছামত দায়িত্ব পালন করেন উপজেলার রায়কোট স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মনির উদ্দিন এবং নিরাপত্তা প্রহরী আবদুল কুদ্দুসকে পাওয়া যায় ভিজিটর পেয়ারা বেগমকে তার বাসায় এক মহিলাকে এম আর করতে দেখা যায় মৌকরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকতে দেখা যায় এই কেন্দ্রটিকে এম এল এস এস আবদুর রশিদ পরিবারিক বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মাঠে খড় শুকানো হচ্ছে ২য় তলায় আবাসিক ভবনে তার স্ত্রীকে ধানের ন্তপ পরিষ্কার করতে দেখা যায় জোড্ডা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এম এল এস এস আবদুল বারেককে পাওয়া যায় দৌলখাঁড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় গোহারুয়া ২০ শষ্যা হাসপাতালে ডাঃ দাউদুল ইসলামকে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে ঔষধ কোম্পানীর একজন প্রতিনিধির হোন্ডা চড়ে হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন সাংবাদিকরা চলে যাবার পর সাথে-সাথে তাকে আবার হাসপাতাল ত্যাগ করতে দেখা যায় এছাড়া ৩জন স্বাস্থ্য সহকারি আরিফুর রহমান, নুর উদ্দিন মিনার এবং রবিউল আলমের মধ্যে কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি গোহারুয়া গ্রামের সুজন, দুলাল, নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল হাসেম, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শাহআলম জানান, গোহারুয়া হাসপাতলে তারা কখনো ডাক্তার সহ স্বাস্থ্য সহকারিদের উপস্থিতি দেখেন নাই বলে জানান জানা যায়, হাসপাতালে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার কারণে ডাঃ সাইদা বেগম পান্নাকে ১বার , ডাঃ মোঃ দাউদুল ইসলামকে ৩বার, ডাঃ প্রণব কুমার রায়কে বার কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ দাউদুল ইসলামকে গোহারুয়া ২০ শষ্যা হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানানোর জন্য বলা হলেও তিনি দীর্ঘদিনেও কোন তথ্য জানান নাই বলে জানা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্রর আবাসিক ভবনে ডাঃ জানে আলম, ডাঃ খাইরুল ইসলাম, ডাঃ ফাহিমা শারমিন এবং গোহারুয়া ২০ শষ্যা হাসপাতালের ডাঃ দাউদুল ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ডাক্তার অবস্থান করেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্র পানি সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পানিতে আয়রন বেশি থাকায় পানির লাইন বন্ধ হয়ে পানি সরবরাহ প্রায় সময় বন্ধ থাকে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগী রহমান মিয়া, ইউছুফ , আবদুর রহমান জানান, হাসপাতালে পানি নেই, পরিবেশ নোংরা, প্রত্যেক সিটে ২জন রোগী থাকতে হচ্ছে পুরুষ ওয়ার্ডে ২টি বাথরুমের মধ্যে ১টি বন্ধ থাকা সহ তারা বিভিন্ন দুভের্াগের কথা জানান হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের বিরুদ্ধে বহিরাগত দালাল পারুল, তাহেরা সহ অন্যান্যদের মাধ্যমে প্রসূতি রুমে টাকার বিনিময়ে মহিলাদের এম আর, বৈধ, অবৈধ বাচ্চা খালাশ করার অভিযোগ রয়েছে এাধরণের একটি অভিযোগে সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিদা বেগম দীর্ঘদিন থেকে সাসপেন্ড অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্র সকাল ১০ বাজার সাথে-সাথে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের আনাগোনা বেড়ে যায় গত রবিবার সকাল ১০ টা বাজতেই দলবেঁধে বিক্রয় প্রতিনিধিদের হাসপাতালে ডাক্তারদের অপোয় থাকতে দেখা যায় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় চোখ পড়তেই তারা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্র সকাল ৮টা থেকে দুপুর .৩০ মিনিট পর্যন্ত বহিঃবিভাগে ডাক্তারদের রোগী দেখার কথা থাকলেও সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে মাত্র কয়েকজন ডাক্তার আসলেও দুপুর ১টার মধ্যে আর কেউ থাকে না। অধিকাংশ ডাক্তারকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। প্রতিদিন বহিঃবিভাগে /৩শ রোগী আসলেও ডাক্তার না পেয়ে অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যান। সরকারি বিধি মোতাবেক ডাক্তাররা হাসপাতালের আবাসিক ভবনে থাকার নিয়ম থাকলেও এখানে কর্মরত অনেক ডাক্তার ঢাকা এবং কুমিল্লা থেকে এসে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ডাক্তাররা হাসপাতালে রোগী না দেখে বাসা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখতে বেশী পছন্দ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লিয়াকত আলী জানান, স্বস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নেই, ডাক্তারদের বসার জায়গা নেই। যার ফলে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকো্র বসেন। অন্যদিকে মহিলা ডাক্তার দেয়ায় তাদের নিরাপত্তায় সমস্যাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডাক্তারদের আন্তরিকভাবে অফিস সময়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য বার-বার বলেছি। ব্যাপারে উধর্্বতন কতর্ৃপকেও অবহিত করা হয়েছে। আজকে যারা অনুপস্থিত তাদেরকে শো-কজ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

সম্পাদনা : মাহমুদ হাসান , আউটপুট এডিটর


বিজ্ঞাপন মুক্ত এ ব্লগের প্রতিটি খবরে রয়েছে এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার। তাই আমাদের খবর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাদেরকে উৎসাহিত করুন।