আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

এয়ার হর্ণের বিকট শব্দে জনজীবন অতিষ্ট!

হাবিবুর রহমান খান: [রোববার, ২৫ মার্চ ০১২] কুমিল্লা মহানগরসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলরত বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনগুলো নিষিদ্ধ নিকট শব্দের হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করছে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা মারাত্মক ক্ষতিকর এ হর্ণ ব্যবহার করছে। শব্দ দুষণকারী এ হাইড্রোলিক হর্ণের বিকটশব্দে হৃদরোগী, হাই প্রেসার শিশু-কিশোর ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানায়।..
এত সবের পরও শব্দ দুষণের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অনেক ট্রাফিক কর্মকর্তাগণ এ আইনটি জানে না বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। আশপাশের সড়কে চলাচলরত বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনগুলো নিজেদের সাথে বিকট শব্দের হাইড্রোলিকট হর্ণ ব্যবহার করছে। ফলে শিশু বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠছে এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক সময় মালিক ও কর্মচারীরা অতি উৎসাহিত হয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ হাইড্রোলিক গর্ণ ব্যবহার করছে।
জেলার নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম, মুরাদনগর, চান্দিনা, দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস কোন কোন গাড়িতে চালকরা ইচ্ছা মাফিক ডাবল হাইড্রোলিক গর্ণও ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয় চালকরা প্রয়োজন ছাড়াও বিভিন্ন সময় এ হর্ণ বাজিয়ে থাকে। এ হাইড্রালিক হর্ণের ক্ষতিকারক বিকটশব্দে নগরসহ বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ী মহল অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নগরীতে দিনে কম চলাচল করলেও রাতে ভটভটি, ট্রাক্টর, মিনিবাস, মিনি ট্রাক, ভ্যান চলাচলের কারণে মারাত্মক ব্যাঘাত হচ্ছে হচ্ছে। বেশিরভাগ শিশু বাচ্চা ও স্কুল কলেজের পড়য়া শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বিভিন্ন আনাচে কানাচে আবাসিক এলাকাবাসী হাইড্রোলিক হর্ণের বিকট শব্দে নানাবিধ ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। মোটরযান আইনে হাইড্রোলিক হর্ণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এই হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার দেখে মনে হয় যেন এটা স্বীকৃতি প্রাপ্ত। শুধু তাই নয় এ নগরের আইন প্রযোগকারী সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তি পুলিশ সুপার, এসপি থেকে শুরু করে সবাই নিজস্ব যানবাহনে নিষিদ্ধ এ হাইড্রোলিক হর্ণ লাগিয়ে বিকট শব্দ করে বুক ফুলিয়ে হাইড্রোলিক হর্ণ বাজিয়ে সা সা করে ছুটে যাচ্ছে। এসব হাইড্রোলিক হর্ণের শব্দ থেকে রক্ষা পেতে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের সামনে রাস্তায় সাইনবোর্ড লেখা থাকে হর্ণ বাজানো নিষেধ। কিন্তু যানবাহনের মালিক ও চালকরা তা পাত্তাই দিচ্ছে না। তারা দিব্যি ওইসব প্রতিষ্ঠানের সামনে গাড়ির চালকরা বিকট শব্দে হাইড্রোলিক হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে। এ সব হাইড্রালিক হর্ণে শব্দে হাসপাতালের ডাক্তার, রোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ অফিস আদালতে কর্মরতদের মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশ রুট ট্রাফিক অথরিটির (বিআরটিএ) একটি যে কোন যানবাহনকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশ মামলা দিয়ে কোর্টে পাঠাবে। সংশ্লিষ্ট ম্যাজিষ্টেট কোর্টে বিচারের মাধ্যমে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা অন্য কোন শাস্তির ব্যবস্থা ছাড়া রেহাই পাওয়ার রাস্তা নেই। অথচ কুমিল্লা এ যাবতকাল কোন হাইড্রোলিক হর্ণের জন্য কোন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলার নজির নেই। কারণ হিসেবে জানা যায়, যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের সাথে ট্রাফিক ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের মাসোহারার সম্পর্ক থাকে। তাই তারা ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা বা কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না।
এ বিষয়ে নগরবাসী জানায়- ভটভটি, নসিমন, করিমন, ট্রাক্টর, মিনিবাস, মিনি ট্রাক, ১ টন কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের শব্দে ও ধোয়া মারাত্মক অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিন কিছুটা কমহলেও রাতে ট্রাক্টর, ভটভটি চলাচলের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে শিশু বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে চিৎকার দিয়ে উঠে। এসব যানবাহনের শব্দের কারণে রাতে শিশুরা ঘুমাতে পারেন এবং স্কুল স্কুলের শিক্ষার্থীরাও রাতে পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিএমএর ডাঃ আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী জানান- ধোয়া ও হাইড্রোলিক হর্ণ বয়স্কদের জন্য মারাত্মক সমস্যা হতে পারে যেমন- হৃদরোগী ও হাইপ্রেসারের রোগীদের বেলায় চরম দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, কানের সমস্যার শবন শক্তি হ্রাস পাবে, কানে কম শুনতে পারে, উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে, হার্ডের রোগীর, ষ্টকের , অনিন্দ্রাদের কম কমে যাবে, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পেটের সন্তানের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পাবে, শ্রবনশক্তি চিরতরে হারিয়ে যাবে, পরবর্তীতের সন্তন জন্ম নিতে বাঁধাগ্রস্ত হবে। শিশুদের উচ্চ শব্দের মেধা শক্তি বাধাগ্রস্থ হবে, কানে কম শুনবে, কাজে অমনোযোগী, সব সময় অস্থির থাকবে, মাথা ব্যথা করবে, পড়া লেখাপাড়া অমনযোগী হবে, মেজাজ খিট খিটে, কানের কম শুনবে, হাইড্রোলিক হর্ণের বিকটশব্দে হৃদরোগী সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে-হাইড্রোলিক হর্ণের শব্দ মানুষের মন মানসিকতারও খিটখিটে করে তুলে। কানের পর্দায় ভয়ানক ক্ষতি করে থাকে। এমনকি গর্ভবতী মহিলাদেরপেটের সন্তানের শ্রবণ শক্তি চিরতরে হারিয়ে জন্ম নিতে পারে।
এ বিষয়ে একাধিক ট্রাফিক পুলিশ নাম প্রকাশে নিচ্ছুক জানায়- ট্রাফিক পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভাই আমাদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই। আমরা যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন মামলা করতে পারি না। তিনি আরো বলেন, রাস্তায় দাড়িয়ে আমাদের হাত নাড়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। অনেক সময় চালকরা আমাদের দেখানো সংকেত মানছে না। কিছু বলতে গেলেও আবার উল্টো মার খেতে হয় অনেক সময়।




লাকসাম মনোহরগঞ্জ নাঙ্গলকোটে ২৪ ঘণ্টার খবরের আপডেট পেতে আমাদের পেজটি লাইক করুন। পেজটি লাইক করতে এখানে ক্লিক করুন। আপনার একটি লাইকই আমাদের অনুপ্রেরণা। undefined