আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

অনুমোদনবিহীন কুমিল্লার ১১১টি ক্লিনিক-প্যাথলজি:নবায়ন হয় না অধিকাংশের

বিশেষ প্রতিনিধি: [বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ০১২]কুমিল্লার ১৬টি উপজেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে সর্বমোট ৩২৯ টি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক প্যাথলজির মধ্যে ১১১টির কোন অনুমোদন নেই এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগে কোন ধরনের আবেদন ছাড়াই জেলা সদর ১৫ উপজেলায় চালানো হচ্ছে ৪১টি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক প্যাথলজি সেন্টার।..
জেলা সদরেই এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৫টি এর মধ্যে অধিকাংশ হাসপাতাল ক্লিনিক প্যাথলজির নবায়ন করা নেই এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে ভূয়া ডিগ্রীধারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ছড়াছড়ি অন্যদিকে রিক্সা চালকরা দালাল হিসেবে এখন রোগী ধরতে বিভিন্ন বাস ট্রার্মিনাল এলাকায় বসে থাকে কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন পৌর এলাকায় তথাকথিত ভূয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ এইসব ক্লিনিক, হাসপাতাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোর অধিকাংশেই লাইসেন্স নেই আবার যাদের লাইসেন্স আছে তাদের অনেকেই নবায়ন না করার কারণে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বিশেষ করে প্যাথলজিক্যাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে অরাজকতা ফলে সাধারণ রোগীরা হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত প্রতারিত এছাড়া রিক্সা চালকরা এখন দালালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা বিভিন্ন বাসটার্মিনালে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি থেকে নামলেই বুঝতে পারেন তারা রোগী ফলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় তাদের নির্ধারিত হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ রোগীরা কুমিল্লা জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে তথ্যানুসন্ধান করে জানা গেছে বিভিন্ন চমকপ্রদ তথ্য যা খুবই উদ্বেগের বিষয় বিশেষ করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর অবস্থা প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো হতে খুবই ভয়াবহ নানা রকমের শ্লোগান দিয়ে দামী লাইটিং ডেকোরেশনে তৈরী, এইসব সেন্টারগুলো সরকারের প্রচলিত কোন নিয়মনীতি প্রতি তোয়াক্কাই করছে না প্যাথলজিক্যাল/ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলো হতে যে নূন্যতম নিয়ম কানুন অনুসরণ করতে হয় অনেকে তা করেননি ব্যবসা করার পূর্বেই লাইসেন্স করার নিয়ম থাকলেও কয়েক বছর গত হলেও লাইসেন্স এর চিন্তা তারা আর মাথায় আনছে না যারা একবার লাইসেন্স করেছে তারা আর নবায়ন করেননি ফলে সরকার প্রতি বছরই কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে একদিকে যেমন সরকার নির্ধারিত ফি অনুসরণ করছে না অপরদিকে প্যাথলজিক্যাল টেষ্টের জন্য (মালিকরা) যে যেভাবে খুশি টাকা আদায় করছে অনুসন্ধান সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ১৬টি উপজেলায় ২০১২ সাল পর্যন্ত ৩২৯টি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক প্যাথলজির মধ্যে ১১১টির কোন অনুমোদন নেই এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগে কোন ধরনের আবেদন ছাড়াই জেলা সদর ১৫ উপজেলায় চালানো হচ্ছে ৪১টি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক প্যাথলজি সেন্টার জেলা সদরেই এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৫টি নিয়ে সিভিল সার্জন উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মাঝে মধ্যে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনে গিয়ে শোকজ নোটিশ দেয়া ছাড়া কঠোর কোন পদক্ষেপ নেয়ার রেকর্ড খুবই কম ২১৮টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের লাইসেন্সই নবায়ন করা হয় নি বর্তমানে জেলা সদর ১৫ উপজেলায় ৪১টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদনই করেনি অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা নানা অনিয়মের কারণে গত বছর জেলা সদরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে জেলা সদরে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৪টি, আবেদন ছাড়াই ব্যবসা করছে ১৫টি হোমনা উপজেলায় ১৩টি ক্লিনিক-প্যাথলজির মধ্যে অনুমোদন রয়েছে ১০টির মুরাদনগরে ২৩টির মধ্যে ১৮টির অনুমোদন থাকলেও নয়টির লাইসেন্স নবায়ন নেই, আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদনই করেনি দেবিদ্বারে ১৮টির মধ্যে অনুমোদন রয়েছে ১২টির, আরও ৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ছাড়াই তিন-চার বছর ধরে ব্যবসা করছে তিতাস উপজেলায় ১২টির মধ্যে নয়টির অনুমোদন থাকলেও ছয়টির লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, মেঘনায় ৪টির মধ্যে ২টির অনুমোদন থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন নেই ব্রাহ্মণপাড়ায় ৭টির মধ্যে চারটি, বুড়িচংয়ে ১৬টির মধ্যে ১৪টি আর দাউদকান্দিতে ৪৩টির মধ্যে অনুমোদন রয়েছে মাত্র ২৮টির, এর মধ্যে নবায়ন নেই ১৮টির, আবেদন ছাড়া ব্যবসা করছে ৮টি লাকসামে ২৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনুমোদন রয়েছে ২০টির, বরুড়ার ১৬টির মধ্যে ৭টির, নাঙ্গলকোটে ৭টির মধ্যে ৪টির, চৌদ্দগ্রামের ২১টির মধ্যে ১১টির, চান্দিনার ২৬টির মধ্যে ১১টির, সদর দক্ষিণের ৯টির মধ্যে ৪টির অনুমোদন রয়েছে মনোহরগঞ্জে ৬টি ক্লিনিক প্যাথলজির মধ্যে একটিরও কোন অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রাপ্ত বৈধ অবৈধ ক্লিনিক-প্যাথলজির প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে জানা গেছে অপরদিকে বৈধ অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক প্যাথলজিতেও চলছে রোগীদের সঙ্গে সেবার নামে সীমাহীন প্রতারণা পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে সব ধরনের ফি নেয়ার পরেও স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে চরম অরাজকতা রোগীদের কাছ থেকে গলা কাটা ফি আদায় করা হচ্ছে সরকারি ডাক্তাররা কর্মস্থলে না গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকেন কুমিল্লা সিভিল সার্জন আবুল কালাম সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান,অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক প্যাথলজির বিষয়ে ইতিমধ্যে অভিযান চালাচ্ছি যেসব হসপিটাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তাদেরকে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে তাহলে আইনের আশ্রয় অবশ্যই নিবো তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ব্লাড ব্যাংকে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ব্ল্যাড ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তবে নোটিশ মাফিক অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে



undefined