আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

কুমিল্লায় পাহাড়, নদী ও জমি থেকে মাটি কর্তন : পরিবেশ বিপর্যয় ও উর্বরতা হারাচ্ছে জমি

ফয়সাল কবির: [বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ০১২] কুমিল্লার লালমাই পাহাড় থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে একই সঙ্গে জেলার প্রধান নদী গোমতীর শতাধিক স্থানে মাটি কেটে বাঁধ নষ্ট করা হচ্ছে ছাড়া ১৬টি উপজেলার ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রি করায় জমি উর্বরতা হারাচ্ছে এই অবস্থায় কুমিল্লার পাহাড়, নদী ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে..
জানা গেছে, শীত মৌসুম এলেই কুমিল্লায় মাটি কাটার ধুম পড়ে যায় ওই সময় মাটিখেকো চক্র কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনেই অবাধে মাটি কেটে সাবাড় করছে।গোমতী নদীর টিক্কারচর, চানপুর, কাপ্তানবাজার, কালিয়াজুরি, পালপাড়া, আড়াইওড়া, গোবিন্দপুর, কংশনগর কোম্পানীগঞ্জ এলাকা দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর নদী থেকে মাটি নিয়ে যাচ্ছে উত্তর গোবিন্দপুর এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে নদীতে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ওই গর্তে পড়ে গত শুক্রবার তিনজন কলেজশিক্ষার্থী মারা গেছেন নদীর ওই মাটি বিভিন্ন ইটভাটা, বাড়ি তৈরির কাজ মহাসড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে নদী থেকে মাটি নেওয়ার কারণে নদীর বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন
এদিকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে সরকারিভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের কাজের জন্য সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌধুরীখলা এলাকার সাতটি টিলা কেটে সাবাড় করা হয়েছে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে রাতের বেলায় মাটি কাটা হচ্ছে সম্প্রতি লালমাই পাহাড়ের চৌধুরীখলা চণ্ডীমুড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনদুপুরে সেখানে পাহাড় কাটা হচ্ছে চণ্ডীমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশের জমিগুলোর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে এতে ঝুঁকিতে রয়েছে পাহাড় একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ধসে মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
জেলার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, সদর দক্ষিণ বরুড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফসলি জমি থেকে ট্রাক্টর দিয়ে অবাধে মাটি আনা-নেওয়া করা হচ্ছে জমির মালিকেরা জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে কিছু টাকা পাওয়ার জন্য তাঁরা মাটি বিক্রি করছেন
চণ্ডীমুড়া এলাকার কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ‘৩০ শতক জমির মাটি বিক্রি করে ভালো টাকা পেয়েছি জমি একটু নিচু হলেও পাহাড়ি ঢলে ভরে যাবে তখন কোনো সমস্যা হবে না
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কাটার কারণে মাটির ওপরের জৈবপদার্থ নষ্ট হয়ে যায় জমি উর্বরতাশক্তি হারায় এতে করে জমিতে ফলন কমে যায় আমরা কৃষকদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করে থাকি কিন্তু কোনোভাবেই তা রোধ করা যাচ্ছে না কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, ‘জনবল কম থাকার কারণে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে নদী পাহাড়ের মাটি কাটা রোধ করতে পারছি না গোমতী নদী থেকে মাটি কাটার কারণে রেলসেতু হুমকির মুখে পড়েছে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা চট্টগ্রাম কার্যালয়কে জানিয়েছি লালমাই পাহাড়ে মাটি কাটার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন
জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান বলেন, লালমাই পাহাড়ের কিছু এলাকা থেকে সরকারিভাবে মাটি কাটা হচ্ছে গোমতী নদীর ভেতর থেকে মাটি কাটা রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করে যাচ্ছেন ফসলি জমির মাটি কৃষককেই রক্ষা করতে হবে অন্যথায় কৃষকই ফলন কম পাবেন




undefined