আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

ডাকাতিয়া নদীসহ ছোট-বড় খাল বেদখল

ফয়সাল কবির: [মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ০১২] নাঙ্গলকোটের ডাকাতিয়া নদীসহ ছোট-বড় খাল পানি শূন্য হয়ে পড়েছে ফলে মওসুমের শুরুতে সেচ সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।..
ডাকাতিয়া নদী এবং শাখা খালগুলোতে এখন আর পানির কলকল ধ্বনি নেই ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলোতে এখন বিস্তীর্ণ ফসলি জমি শোভা পাচ্ছে এক সময় ডাকাতিয়া নদী থেকে স্যালো মেশিনের সাহায্যে কৃষকরা পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করতো কিন্তু সেই ডাকাতিয়া নদী এখন পানি শূন্য কৃষকরা ডাকাতিয়া নদীর অল্প পানিতে আগাম জাতের ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছে
জানা যায়, নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা, রায়কোট, মৌকরা, ঢালুয়া, সাতবাড়িয়া, বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ডাকাতিয়া নদী প্রবাহমান। শীতকাল আসতেই ডাকাতিয়া নদী পানি শূন্য হয়ে পড়ে। তখন কৃষকরা আগাম জাতের ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেন। ইতিমধ্যে ধানের চারাগুলো বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। নদীতে পলি জমার কারণে কৃষকরা ধানের আবাদও ভালো পান বলে কৃষকরা জানান। এদিকে, এই ডাকাতিয়া নদী বর্ষাকালে উল্লেখিত ৫টি ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়। ভরা বর্ষায় ডাকাতিয়া নদীর পানি উপচে পড়ে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কৃষকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আবার গ্রীষ্মকালে ডাকাতিয়া নদীতে লাগানো ইরি-বোরো ধানের থোর বের হবার সময় হলে ফেনীর কাজির হাট অকেজো স্লুইচ গেট দিয়ে সাগরের লোনা পানি ডাকাতিয়া নদীতে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যায় এবং লবণাক্ত পানিতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া ডাকাতিয়া নদীতে মাছের ঘের নির্মাণ, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ ধরা, নদীর দু'পাড়ে অবৈধভাবে দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে নদীর পাড়গুলো অবাধে দখল করার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, ডাকাতিয়া নদীর সাথে মিলিত হওয়া ছোট-বড় অনেক খাল পানি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালগুলো অহরহ বেদখল হবার ঘটনা ঘটছে
স্বার্থান্বেষী মহল অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে খালের ওপর দোকান পাট নির্মাণ, খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় দিনদিন খালগুলোর অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। উপজেলার আর্দ্রা ইউপির নাঙ্গলকোট-তুঘরিয়া সড়ক সংলগ্ন ভোলাইন-তুঘরিয়া খাল দখল করে সারিসারি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। একই ইউপির ভোলাইন বাজার এবং মেরকোট বাজারে সরকারি খাল দখল করে দোকানপাট বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে। জোড্ডা  ইউপির জোড্ডা বাজারের উত্তর পার্শ্বে জোড্ডা-কাশিপুর খাল দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। বাঙ্গড্ডা এবং পেড়িয়া ইউপির ওপর দিয়ে প্রাবহিত কাকৈরতলা খাল দখল করে মাছের ঘের নির্মাণ করা হয়েছে। রায়কোট ইউপির রায়কোট খালে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত অন্যান্য ছোট-বড় খাল দখল করে অবাধে বাড়িঘর-দোকানপাট নির্মাণ করার ঘটনা ঘটছে
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলো খননের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলে খালগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকাবাসী ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলোর যতেচ্ছো ব্যবহার করছে। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বাড়িঘর নির্মাণসহ অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ডাকাতায়িা নদী থাকলেও তাদেরকে ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলো রক্ষায় পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ডাকাতিয়া নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শীতকালে পানিতে ভরপুর থাকতো। ফলে নদী তীরবর্তী জমিতে পানি সেচের মাধ্যমে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা যেত। এতে হাজার হাজার মণ বেশি ধান উৎপাদন করা সম্ভব হতো বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। এছাড়া, ভরা বর্ষায় ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো বলে তারা জানান




undefined