আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে না রেল খাতে: ঢাকা-লাকসাম কর্ড লাইন প্রকল্প অনিশ্চিত

হামিদ সরকার: [শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১২] বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের রেলওয়ে খাতে কোনো অর্থায়নই আর করছে না ফলে খাতের কোনো প্রকল্পেই দীর্ঘমেয়াদি রেয়াতি অর্থসহায়তা পাচ্ছে না বাংলাদেশ এতে এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রকল্প এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে.. অন্য দিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নির্ধারিত ফরমের শর্ত পূরণ হলে খাতের তিনটি প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে কিন' সে শর্ত পূরণ করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে দিকে বিশ্বব্যাংক কেন অর্থায়ন করছে না ব্যাপারে কোনো কারণ জানা নেই বলে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী নাজমুল হুদা অবশ্য বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের দাবি ছিল রেলওয়েকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক খাতে সহায়তা দিচ্ছে না
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক এডিবির যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের প্রকল্পের মধ্যে রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প রয়েছে, যার জন্য দরকার ১৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রকল্পটি ছিল ঢাকা-লাকসাম কর্ড লাইন নির্মাণ লাইনটি নির্মিত হলে ঢাকা চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগে দূরত্ব এক-তৃতীয়াংশ কমে যেত ঋণসহায়তা না পাওয়ায় দেড় বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রকল্পটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এটি ছাড়াও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের রেল খাতের অন্য কোনো প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে না ফলে সরকার এখন রেল খাতের জন্য ভারতমুখী হয়ে পড়েছে শুধু চলতি অর্থবছরেই ভারতীয়সরবরাহঋণে বাংলাদেশের রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে
পরিকল্পনা কমিশনের সামপ্রতিক এক সভায় জানানো হয়, রেলওয়ে খাতের উন্নয়নে একটি আমব্রেলা প্রকল্পের আওতায় নয়টি উপপ্রকল্পের পরিকল্পনা ছিল এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদিত হয় দুই প্রকল্পে এডিবি বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা দেয়ার কথা ছিল বাকি সাতটি উপপ্রকল্প বাদ দিয়ে বর্তমানে তিনটি উপপ্রকল্প বাস-বায়নের চিন্তা করা হচ্ছে ছাড়া যমুনা সেতু শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি বাদ দিয়ে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আলাদা রেলসেতু নির্মাণের সরকারি একটি সিদ্ধান- নেয়া হয় কিন' সেটিও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে আরেকটি উপপ্রকল্প হলো, ঢাকা-লাকসাম-কর্ড লাইন নির্মাণ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল এটি বাস্তবায়ন হলে দুই মহানগরে যোগাযোগের সময় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল এটি এডিবি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নেই বাস-বায়নের জন্য নির্ধারিত ছিল কিন' বিশ্বব্যাংক সেখানে অর্থায়ন না করায় প্রকল্পের ভাগ্যে কী দাঁড়াবে তা বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট অফিস
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র মতে, বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করলেও প্রতি বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রেলওয়ের জন্য বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট যেসব প্রকল্প রাখা হয়, সেখানে অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাংকের নাম উল্লেখ করা হয় বছরও তেমন কয়েকটি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের নাম অর্থায়নকারী হিসেবে রাখা হয়েছে এবারের এডিপিতে রেল খাতে মোট প্রকল্প ৪২টি এর মধ্যে ৩৪টি বিনিয়োগ প্রকল্প, চারটি কারিগরি প্রকল্প এবং চারটি জেডিসিএফ প্রকল্প জন্য বছর অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৩০৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিশ্বব্যাংকের রেয়াতি সহায়তা না পাওয়ায় রেল উন্নয়নে ভারতীয় ব্যয়বহুল ঋণ নিয়ে যাচ্ছে এই ঋণের প্রকল্প অনুমোদন ভারত থেকেই নিতে হয় যেসব প্রকল্পের কাজ ভারতীয় কোম্পানি পায় অথবা ভারত থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়, সেসব ক্ষেত্রেই ভারত ঋণপ্রস্তাব অনুমোদন করে ইতোমধ্যে ধরনের ঋণের আওতায় রেলের বগি লোকোমোটিভসহ বিভিন্ন সামগ্রী অনেক বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে
বিশ্বব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা হলে মিডিয়া কর্মকর্তা মেহরিন মাহবুব নয়া দিগন-কে জানান, কয়েক বছর ধরেই রেলওয়ে খাতে বিশ্বব্যাংকের কোনো অর্থায়ন নেই অর্থবছরেও নেই এখানে মূলত এডিবিই অর্থায়ন করছে আর দেড় বিলিয়ন ডলারের যে প্রকল্প রয়েছে রেলওয়ের, সেটিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের কোনো কথা ছিল না সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা করে থাকতে পারে
বিশ্বব্যাংক কেন রেলওয়ে খাতে অর্থায়ন করছে না- জানতে চাইলে মেহরিন মাহবুব জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপারে কোনো ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়নি ছাড়া অনেক বছর ধরেই এখানে তারা অর্থায়ন করছে না
রেলওয়ে খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন না করার কারণ জানতে চাইলে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নয়া দিগন-কে বলেন, বিশ্বব্যাংক এডিবির মূল দাবি ছিল রেলওয়েকে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার অর্থায়ন প্রস্তাবে তারা জোর দিত ওই স্বায়ত্তশায়ন নিয়ে তাদের কথা ছিল, রেল খাতে সরকারি কর্তৃত্ব কমিয়ে এনে এটিকে করপোরেটাইজ করা হোক কিন' তা হয়নি তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম প্রস্তাব মানলে এখানকার শ্রমিকদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হবে তখন দাতাদের বক্তব্য ছিল- তারা এখন যেভাবে আছে স্বায়ত্তশাসন দিলেও তেমনই থাকবে ব্যাপারে আমি একটি ড্রাফট করে দিয়েছিলাম কিন' পরে সেটির আর কোনো অগ্রগতি হয়নি মূলত তারা রেলের স্বায়ত্তশাসন চায় একসময় তারা অনুদান প্রত্যাহার করে নিয়েছিল আমি আসার পর তাদের অনুদান আবার নিয়ে আসি
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী অর্থনীতিবিদ . বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বললেন, রেলওয়ের স্বায়ত্তশাসনই এডিবি বিশ্বব্যাংকের মূল শর্ত কিছুটা অর্থায়ন এডিবি করলেও বিশ্বব্যাংক করছে না তবে আমার সময় তো তারা তেমন কিছু বলেনি আমার মতে, রেলকে বাণিজ্যিকভাবে চালাতে হলে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসন দেয়া উচিত
ব্যাপারে রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রেলওয়ে খাতে জাইকা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিট এবং কোরিয়া থেকে ঋণ পাচ্ছি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলরুটের উন্নয়নে আমরা ঢাকা-লাকসাম-কর্ড লাইন নির্মাণ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চেয়েছিলাম কিন' তারা অর্থায়ন না করায় আমরা এডিবিকে বলি এডিবি থেকে অর্থায়নের আশ্বাস পেয়েছি তিনি আরো বলেন, রেলের বিনিয়োগ হলো দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বব্যাংক কেন অর্থায়ন করতে চাইছে না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ব্যাপারে তারা আমাদেরকে কোনো কিছু জানাইনি
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী রেলযোগাযোগই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কিন' বাংলাদেশে এক চক্রের মধ্যে পড়ে গেছে রেল খাত তাই খাতের তেমন কোনো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না দেশে ৩২ বছরের পুরনো ইঞ্জিন এবং ২৭ বছরের পুরনো কোচ দিয়ে চলছে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা কার্যক্রম বর্তমানে চলমান ২৪৬টি লোকোমোটিভের মধ্যে ২০৭টি পুরনো এবং আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ ফলে পুরনো মেয়াদ উত্তীর্ণ এসব লোকোমোটিভ দিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় রেলওয়ের যাত্রী চলাচল মালামাল বহন এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আর স্বাধীনতা পরবর্তীকালে নতুন পথ নির্মাণের চেয়ে বন্ধ রেলপথের সংখ্যা বেশি বর্তমানে মিটার ব্রডগেজ ব্যবহারযোগ্য যাত্রী কোচের সংখ্যা এক হাজার ৯৮টি আর ব্যবহার অযোগ্য কোচের সংখ্যা ২৮৭টি, যার মধ্যে মিটারগেজ কোচই ২০৫টি ছাড়া মালামাল পরিবহনের জন্য উভয় গেজে ব্যবহারযোগ্য মোট ১০ হাজার ৪৬৪টি ওয়াগন আছে এর মধ্যে ৯৯৮টি ওয়াগনই ব্যবহার অযোগ্য, যার মধ্যে ব্রডগেজের ওয়াগন ৮২৯টি যাত্রী পরিবহন কোচের অর্ধেকের বেশির বয়স ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে আর মালামাল পরিবহন ওয়াগনের বেশির ভাগেই বয়স ২০ বছর অতিক্রম করেছে এমনকি কিছু কিছু ওয়াগনের বয়স ৪০ বছর বা তারও ঊর্ধ্বে

 

বিজ্ঞাপন মুক্ত এ ব্লগের প্রতিটি খবরে রয়েছে এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার। তাই আমাদের খবর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাদেরকে উৎসাহিত করুন।
undefined