আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

৬ বছরেও শেষ হয়নি মনোহরগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণ কাজ

শাহাজাদা এমরান: [বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ০১২] গত বছরেও শেষ হয়নি মনোহরগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণ কাজ নির্মাণ কাজে এলজিইডি অনিয়ম, দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিচার প্রার্থনা করে ঠিকাদার কুমিল্লা সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছে..
অফিস সংকটের কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান   নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যথার্থ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার লক্ষাধিক অধিবাসী।২০০৪ সালের ২৬ আগষ্ট প্রশাসন পুনবির্ন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি (নিকার)এর ৯২তম সভায় কুমিল্লার ১৫তম এবং দেশের ৪৭২তম মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয় কুমিল্লার জলাঞ্চল নামে খ্যাত লাকসাম উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা হয় মনোহরগঞ্জ উপজেলা একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জ উপজেলার গেজেট প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের ফেব্রয়ারি দেশের সামগ্রিক উন্ন্য়ন থেকে পিছিয়ে পড়া এই উপজেলাটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি কর্নেল (অবঃ) এম আনোয়ারুল আজিম মনোহরগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এর আগে সেপ্টেম্বর এলজিইডি কোটি ৩২লক্ষ টাকা ব্যয়ে কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণের জন্য লাকসাম উপজেলা যুবদল নেতা তাজুল ইসলাম খোকনকে কার্যাদেশ প্রদান করে কার্যাদেশ দেয়ার  পরবর্তী এক বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘ মাসেও মেসার্স খোকন এন্টারপ্রাইজ মালিক তাজুল ইসলাম খোকন কাজ শুরু করতে পারেনি অবশেষে এমইএস ঠিকাদার মোঃ তাজুল ইসলামকে ২০০৭ সালে ২২ ফেব্রয়ারি খোকন এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের নির্মাণ কাজটি সম্পাদন করতে দায়িত্ব অর্পণ করে
গত ২৮ ফেব্রয়ারি দায়ের করা মামলায় ঠিকাদার মোঃ তাজুল ইসলাম জানান-জলাবদ্ধতা এবং কমপ্লেক্স ভবনের জায়গা অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে তিনিও যথাসময়ে কাজ শুরু করতে পারেননি অন্যদিকে /১১এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায় তথাপিও সাবেক এমপির বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে ভবনের নির্মাণ কাজ ২০১০ সালেই সম্পন্ন করেন তিনি বলেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক কারণেই দফায় দফায় নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ তাকে দিয়ে  প্রাক্কলনের অতিরিক্ত কাজ করিয়েছেন রিভাইজ বিলের মাধ্যমে পুষিয়ে দিবেন বলে ঠিকাদারের কাছ থেকে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীসহ কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে জানান ঠিকাদার তাজুল ইসলাম এলজিইডি ভবন বুঝে না নিয়ে ঠিকাদারের ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে কার্যাদেশ বাতিলের পাঁয়তারা করেছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন এলজিইডি ভবনের এক্সটার্নাল বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় ইতোমধ্যে নবনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটির বহু মালামাল চুরি হয়ে গেছে বলে তিনি  জানান
এবিষয়ে মামলার প্রধান বিবাদী প্রকল্প পরিচালক শওকত আলী ভুঁইয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনি ঠিকাদারের লোকসান হবে বলে স্বীকার করেন তিনি আরো বলেন নির্মাণ কাজের অনেক ত্রটি আছে কাজ নিু মানের হয়েছে এজন্য দায়ী স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে তিনি আরো জানান-ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করতে আমি ১২ লাখ টাকার বরাদ্দ পাঠিয়েছি কিন্তু কেন তাকে বিল পরিশোধ করা হয়নি, তা আমি জানি না অন্যদিকে বিষয়ে গতকাল রাতে উপজেলা প্রকৌশলী তাহাজ্জত হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন-এমইএস ঠিকাদার তাজুল ইসলাম আমাদের ঠিকাদার না তার বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না তিনি আরো জানান খোকন এন্টারপ্রাইজকে দিয়ে আমি তাঁর বিরুদ্ধে কেইস করবো পাওয়ার অব এটর্নির বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান সেটা অনুমোদিত নয় ওই এটর্নির মেয়াদ ২০০৮ সালেই শেষ হয়ে গেছে এব্যাপারে  গতকাল রাতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল আহসানের সাথে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি এলজিইডি আভ্যন্তরিণ মামলার বিষয়টি তার জানা নেই তিনি জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান



লাকসাম মনোহরগঞ্জ নাঙ্গলকোটে ২৪ ঘণ্টার খবরের আপডেট পেতে আমাদের পেজটি লাইক করুন। পেজটি লাইক করতে এখানে ক্লিক করুন। আপনার একটি লাইকই আমাদের অনুপ্রেরণা। undefined