আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

আধ্যাত্মিক কবিরাজ শাহিনুর ; চিকিৎসা নিতে রোগীদের ভীড়

হাবিবুর রহমান খান: [বুধবার, ২১ মার্চ ২০১২] চৌদ্দ বছর আগে এক দিন রাতে স্বপ্ন দেখেন শাহিনুর বেগম এই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে হাজার হাজার রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রত্যান্ত অঞ্চলের অসহায় দরিদ্র রোগীদের বিনা পারিশ্রমিকের মাধ্যমে সেবা দিয়ে  যাচ্ছেন একজন গৃহবধূ থেকে কবিরাজে রূপান্তরিত হওয়ায় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন আধ্যাত্মিক মাটি খাওয়ায়ে রোগীদের সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি স্বপ্নে পাওয়া মাটি দিয়ে ঔষুধ তৈরী করে দীর্ঘ প্রায় বৎসর যাবত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।..
তার এই চিকিৎসায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষদের কঠিন রোগের সমস্যা সমাধান করতে পারছেন  তিনি প্যারালাইসিস, ক্যান্সার, কুষ্ট কণ্ঠিন্য, হাঁপানী, বাত আমাশ, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগের ঔষধের বিনিময়ে কবিরাজের নির্ধারিত কোন ফি নেই যার যতটুকু সামর্থ্য আছে ঠিক সেই রকম ফি দিয়ে শুধু মাত্র মসজিদে দান করার জন্য পর্যন্ত মসজিদের জন্য প্রায় লক্ষাধিক টাকার উপরে উঠলেও এক তৃতীয়াংশও মসজিদের জন্য খরচ করা হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন পর্যন্ত তিনি ৬টি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন  দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত এই আরোগ্যলাভ কারী দর্শনার্থীদের চাপে বন্ধ হবার উপক্রম হচ্ছে দুটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার চিকিৎসা সেবায় নির্দিষ্ট কোন ফি নেই
সরেজমিনে ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী  রোগীরা জানানকুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মৃত আবদুল গণি রহিমা খাতুনের চার ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে কবিরাজ শাহিনুর বেগম চতুর্থ। নাঙ্গলকোট উপজেলার  ১নং বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নুপুর এলাকার মামাত ভাই বর্তমান কুয়েত প্রবাসী মাওলানা আলমগীর হায়দার সবুজের সাথে শাহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একাদশ চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া তার দুটি কণ্যা সন্তান রয়েছে
সদর দক্ষিনের শুয়াগজিতে থেকে যাওয়া ৭৫ বছরের আবদুল মালেক নামের এক বৃদ্ধা বাতের সমস্যার কারনে আসছেন। সকাল ১০ টার দিকে আসলেও বেলা টা সময় পর্যন্ত সিরিয়াল না পাওয়ায় ¯কুলের বারান্দায় বসে চিড়া গুর খেয়ে ফ্লোরেই শুয়ে পড়ছেন। চর্তুিদকে দেয়াল ঘেরা একতলা বিশিষ্ট বাড়ির ভিতর ভীর ঠেলে প্রবেশ করতেই দেখা গেল টেবিল চেয়ার নিয়ে বসা কয়েকজন মুরুবক্ষী। টেবিলের উপর রয়েছে মসজিদের নামে রোগীদের দানের টাকা। , , ১০. ২০ টাকাসহ নানা অংকের নোট রয়েছে সেখানে। কবিরাজের বাসায় প্রবেশ করতে চাইলেই বাধা এলো। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই বাধল আরেক বিপত্তি। বললাম ইতি বাচক সংবাদ করব। সবাই যাতে জানে এই কবিরজের উপকারিতার খবর। কিন্ত বাধ সাদল বিদেশ প্রবাসী এক যুবক। বলল, না, এমনেই রোগীর জন্য থাকতে পারি না। পত্রিকায় দিলে মানুষ জানলে আরো রোগীর ভীর হলে সমস্যা হবে। দরকার নেই।  লাইন দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অর্ধশত নারী পুরুষের সাথে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাদের অধিকাংশই বলেন, আমাদের আশে পাশের স্বজনরা উপকার পেয়েছেন তাই আমরা এখানে আসছি। উপকার পেয়েছেন এমন কেউ আছেন জানতে চাইলে মাত্র / জন জানান, আমরা উপকার পেয়েছি। কিন্ত অবাক করার বিষয় হলো যে, সাধারনত বড় বড় হাসপাতাল গুলোতে যে সব রোগী ধরাধরি করে নেওয়া হয় এখানেও ঠিক তাই এমন সিরিয়াস রোগীদের ধরে ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে। প্যারালাইসে আক্রান্ত চান্দিনার এক বৃদ্ধ বলেন, বাবা শুনেছি এখানে এলে রোগ ভাল হয়। তাই এলাম দেখি আল্লাহ কি করেন। তিনি প্যারালাইসিস, ক্যান্সার, কুষ্ট কন্ঠিন্য, হাপানী, বাত আমাশাসহ পৃথিবীর যে কোন ধরনের জঠিল কঠিন রোগের রোগী, এবং নানা ধরনের সংসারী ঝামেলা, ছেলে মেয়েদের বিবাহ হয় না , শারীরিক মানুষিকসহ নানা রোগের রোগী আসে তার কাছে। তবে তিনি কোন রোগীর বক্তব্য শুনেন না , সমস্যাও জানতে চান না। তার চিকিৎসার নিয়ম হলো যে যার মত করে শুধু মাত্র একটি নিয়ত করে লাইন ধরে তার সামনে যাবে আর তিনি হাতে থাকা মাটির কণাটি মুখে খাওয়াইয়া দিবেন। এমন ভাবে এখানে নিজে স্বশরীরে এসে উক্ত রোগী তিন দিন খেয়ে যাবেন। পর পর তিন দিন না আসতে পারলেও সমস্যা নেই জানালেন কবিরাজ নিজেই। কবিরাজ শাহিনুর বেগম ঔষধের বিনিময়ে কোন অর্থ গ্রহন করেন না। কথা জানিয়েছেন তিনি নিজে, এলাকাবাসী এবং আগত উপস্থিত কয়েকশত রোগীও। তবে এখানে চেয়ার টেবিল পেতে মসজিদের জন্য দান গ্রহন করা হয়। যার যার তৌফিক মত মসজিদে দান করেন। দানের পরিমান দায়িত্বরত সোবহান মাষ্টার বলতে না পারলেও স্থানীয় নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোতাহের হোসেন জানান, প্রতি দিন গড়ে প্রায় লক্ষ ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা উঠে
বিষয়ে কবিরাজ শাহিনুর জানান- আজীবন তিনি মানুষ সেবার এই কাজ টি করে যাবেন। ইদানিং গ্রামের লোকেরা কিছুটা সমস্যা করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, রোগী দেখার এই কাজটি আমার আরো আগেই শুরু করার দরকার ছিল। দেরী করাতে আমার সন্তানদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে আমি এটা বুঝতে পারছি। তার কবিরাজ হয়ে উঠার গল্প বলে ঔষধ তৈরীর কথা জানতে চাইলেই তিনি বলেন, এটা বলা যাবে না। বলা নিষেধ আছে। তিনি আরও জানান- আজ থেকে চৌদ্দ বছর আগে এক দিন রাতে স্বপ্ন দেখেন শাহিনুর বেগম। মাটি দিয়ে ঔষধ তেরী করে খাওয়ালে যে কোন অসুস্থ্য রোগী সুস্থ্য হয়ে যায়। কিন্ত তিনি তা আমলে নেন নি বলে প্রতিবেদককে জানান। কয়েক বছর পর তার পেটে একটি টিউমার হয় সাথে ক্যান্সারও। কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে এসে চিকিৎসা করানো হয়। বিশাল এক টিউমার পেট থেকে অপারেশন করে বের করা হলেও তিনি পুরাপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠেন নি। গেল বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের আগষ্ট মাসের কোন এক রাতে তিনি আবার স্বপ্ন দেখেন সেই ঔষধের। তার ভাষায় এবার তিনি এক নিয়তে খান এবং সুস্থ্য হয়ে যান। পরে আশে পাশের লোকজন কে বাদামের বিচির মত ছোট মাটির কণার ন্যায় ঔষধ খাওয়াতে থাকেন এবং এতে লোকজন উপকার পেতে থাকেন বলে জানালেন তিনি সহ তার শ্বশুর। ভাবে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে তার রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে প্রতি দিন গড়ে হাজার বিশের মত রোগী হয় বলে জানালেন মুল দায়িত্ব পালন করা শ্বশুর সোবহান মাষ্টার। এখন শুধু নাঙ্গলকোট নয় দেশের নানা জেলা থেকেই হাজার হাজার রোগী সপ্তাহে তিন দিন আসে তার কাছে। প্রথম প্রথম রবি সোমবার মঙ্গলবার সকাল টা থেকে বিকাল সাড়ে টা পর্যন্ত রোগী দেখলেও বর্তমানে তিনি আর সময় মেইন্টেইন করতে পারছেন না। কারন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উক্ত দিন গুলোতে রাত ১২ টার পরই শুরু হয় রোগী আসা। তাই বাধ্য হয়েই কখনো কখনো রাত টা থেকেই টানা রোগী দেখা শুরু করেন নামাজ খাবার বিরতী দিয়ে যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এভাবেই স্বপ্নে প্রাপ্ত এক মহিলা কবিরাজ হিসেবে চর্তুর দিকে ছড়িয়ে পড়ে তার গল্প
বিষয়ে কবিরাজ শাহিনুর বেগমের শ্বশুর মাস্টার আবদুস সোবহান জানান- শ্বশুর আলহাজ্ব আবদুল সোবহান মাষ্টার। তিনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বাসার সংগে নূরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও। তিনি জানান- এখানে টাকা দেয়ার জন্য কোন চাপ দেয়া হয় না। আল্লাহর ওয়াস্তে কেউ দেয় আবার কেউ দেয় না। কত টাকা দৈনিক উঠে জানতে চাইলে তিনি প্রকৃত হিসাব না দিয়ে বলেন, সামান্য যে টাকা উঠে তা মসজিদ গুলোতে সমান ভাগ করে দিয়ে দেই। তিনি একটি মসজিদ থেকে আসা দরখাস্ত দেখিয়ে বলেন, এমন ভাবে প্রতিদিন টাকা চেয়ে দরখাস্ত আসে আমি তাতে টাকা দেই। পর্যন্ত প্রায় ১০/১২ টি মসজিদ করেছি। এই টাকা খাওয়ার আমার প্রশ্নই আসে না। কারন আল্লাহ আমাকে কম দেন নি
নাঙ্গলকোট উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন-বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে তার বিরুদ্ধে কেহ কোন অভিযোগ দাখিল করেনি। অবশ্যই তিনি ভাল কাজ করছেন এবং মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। তবে আমি সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন এবং বিষয়টি আরও খোঁজ খবর নিবো





লাকসাম মনোহরগঞ্জ নাঙ্গলকোটে ২৪ ঘণ্টার খবরের আপডেট পেতে আমাদের পেজটি লাইক করুন। পেজটি লাইক করতে এখানে ক্লিক করুন। আপনার একটি লাইকই আমাদের অনুপ্রেরণা।
undefined