আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে কুমিল্লাবাসী


হাবিবুর রহমান খান: [শনিবার, ০৩ মার্চ ০১] ভয়াবহ লোডশেডিং অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কুমিল্লার জনজীবন। এর কারণে বোরো ফসলের আবাদ স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।.. জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিনে গড়ে / ঘন্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে অফিস আদালত, স্কুল, কলেজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ জনজীবন বিপর্যস্ত মুখে পড়েছে। বোরো ফসলের জমিতে কৃষকেরা চাহিদা মত সেচ দিতে পারছে না। এতে বোরো ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইজিবাইক প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করছে। যা অতিরিক্ত ঘাটতির কারণে প্রতিদিন গড়ে / ঘন্টা বিদ্যুৎ লোড শেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে কুমিল্লাবাসী।
জানা যায়- কুমিল্লার ১৬ উপজেলাসহ নগরীর কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, পুলিশ লাইন, শাসনগাছা, শিল্পনগরী বিসিক, চকবাজার, টমছমব্রীজ, মনোহরপুর, ছাতিপট্টি, দেশয়ালীপট্টি, মোগলটুলী, রাজগঞ্জ, বাদশামিয়া বাজার, নজরুল এভিনিউসহ বাণিজ্যিকসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের হয়। নগরীতে প্রতিদিন গড়ে / ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাড়ি ঘর অফিস আদালতে মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প কারখানা। মাধ্যমিক পরীাক্ষর্থীদের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে অথচ বিদ্যুতের লুকোচুরিতে তাদের পড়াশোনা মারাত্মক ভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষকের সেচ কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদার পরিমাণ ২০২ মেগাওয়াট কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র এর অর্ধেক। প্রতিদিন অতিরিক্ত ঘাটতির কারণে কুমিল্লা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে জেলার হাজার হাজার বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্র গভীর নলকূপ অগভীর নলকূপ বন্ধ হওয়ার পথে। সেচ যন্ত্র গুলো বন্ধ থাকার কারণে জেলার হাজার হাজার একর জমির বোরো ধান পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরী এলাকাসহ ইপিজেডর কয়েকটি কোম্পানীর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তার উপর রয়েছে আবার লো-ভোল্টেজ যন্ত্রণা। এছাড়া আছে বার বার লোডশেডিং এবং ভেল্টোজের উঠানামা। এতে বৈদ্যুতিক সেটের যন্ত্রাংশ, পাখা, লাইট, ফ্রিজ টেলিভিশনসহ প্রভৃতি বৈদ্যুতিক মেশন পত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৈদ্যুৎ গ্রাহকগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্য দিকে গ্রাহককে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও নূন্যতম বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন যাত্রা অচল। বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে অগ্রগতি উন্নয়ন ব্যাহত হবে, দেশ এগুতে পারবে না। তাই বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন। মুহুর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, বিদ্যুৎ চুরি সিস্টেম লস দূর করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া অপরিহার্য।
কুমিল্লা নগরীতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত শতাধিক ইজিবাইক। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইক অবৈধভাবে চলাচল করছে। অনভিজ্ঞ চালকদের কারণে দুর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজস্ব কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় রিক্সা স্ট্যান্ডই এখন তাদের স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কতিপয় অসাধু বিদ্যুৎ গ্রাহক মাসিক মাসোয়ারার ভিত্তিতে ইজিবাইক মালিকদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। ইজিবাইকে প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে হাজার ২শ ইউনিট বিদ্যুৎ। বর্তমানে ইজিবাইক চলাচলের ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদান স্থগিত করেছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ অপচয় নানাহ দুর্ভোগের কারণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ইজি বাইক আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। কতিপয় ব্যবসায়ী দালাল শ্রেণী ভাড়াটে লোক দ্বারা ক্ষুদ্র প্রতিবাদ সমাবেশ করলেও দেশবাসী সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লা বিসিকসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে কতিপয় ব্যবসায়ী তা নিজেরাই তৈরী করে বাজারজাত করছে। প্রথম অবস্থায় বিভিন্ন মহল ইজিবাইক চলাচলকে স্বাগত জানালেও এখন তারা একেখাল কেটে কুমির আনারমতো অবস্থা বলে মন্তব্য করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা জানান, একটি ইজিবাইক চার্জ দিকে দিনে ন্যুনতম থেকে ইউনিট বিদ্যুতের প্রয়োজন। ফলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুত ইজিবাইকের পেছনে খরচ হয়। অথচ এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো অনুমতি নেই। কুমিল্লা নগরীর প্রায় শতাধিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ইজি বাইক ৯৫ হাজার থেকে লাখ টাকায় কিনে এনে এগুলো ক্রেতাদের কাছে ১লাখ ১৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে যে সকল বিদ্যুৎ গ্রাহক অবৈধভাবে ইজিবাইকের ব্যাটারী চার্জে সহযোগিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাড়শী অভিযান সম্প্রতি চালালেও বর্তমানে তা থমছে আছে। বেশ কয়েকজন গ্রাহককে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মাঠে নামছে ভ্রাম্যমান বিদ্যুৎ ইউনিট কর্মকর্তা। যে সকল গ্রাহক ইজিবাইকের চার্জের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সহযোগিতা করবেন তাদের সংযোগ স্থায়ী ভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে। তাই বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সাবধান! কোন অবস্থাতেই অবৈধভাবে ইজিবাইক চার্জে সহযোগিতা করে নিজের মূল্যবান বিদ্যুৎ সংযোগটি হারাবেন না। পাশাপাশি জনস্বার্থে ইজিবাইকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দেশ জাতির সর্বনাশ করবেন না।
এদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ - এর আওতায় দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা, চান্দিনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ- এর আওতায় কুমিল্লা সদর উপজেলা, সদর দক্ষিণ, লাকসাম, বুড়িচং, ব্রাহ্মপাড়া, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট নিয়ে দুভাবে বিভক্ত কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ। এসব এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থায় বোরো চাষীরা নিয়মিত তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে ফসলের লক্ষমাত্রা অর্জন হবে না বলে অধিকাংশ কৃষক জানায়। ওই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষী সাথে পানির পাম্প মালিকদের অভিযোগ এখন বিদ্যুতের যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে ধারাবাহিকতা থাকে তাহলে ফসলের অপূরনীয় ক্ষতি হবে। খরার কারণে পানির পাম্প গুলোতে পানি ওঠা অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশেষ করে চান্দিনা পল্লী বিদ্যুত সমিতির জিএম জানান, আমাদের ব্যবস্থাপনায় কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না। খরা যত বাড়বে বিড়ম্বনাও তত বাড়বে। তবে এই সমস্যটুকু বোরো মৌসুমে হয় বেশি। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে এলাকার অনেক গুলো সেচ যন্ত্র বিকল হয়ে পড়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ে জমিতে সেচ না দিতে পারায় এখন সেচের অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- এর একাধিক কর্মকর্তা জানান বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলে সহসায় সমস্যা সমাধানের কোন সম্ভবনা নেই বলে তিনি জানান