আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

কুমিল্লায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ ।। আওতার বাইরে ৯৫ ভাগ যানবাহন

কাউছার আলম মিয়াজী: [সোমবার, ২৬ মার্চ ০১২] স্থান পরিবর্তন করেও কুমিল্লায় স্থাপন করা একসেস কন্ট্রোল লোড স্টেশন দিয়ে কাঙ্খিত সফলতা পাচ্ছে না কুমিল্লা সওজ কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা কিংবা সিলেট পেঁৗছতে বিকল্প সড়ক থাকায় গাড়ি চালকরা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে..
তাই গাড়ি চালকদের প্রতারণা রোধে এবার আরও অন্তত ৩টি বিকল্প স্থানের সন্ধানে রয়েছে সওজ কর্তৃপক্ষ ফেনী, সীতাকুণ্ড কিংবা কুমিল্লার আলেখারচর-ময়নামতির মাঝামাঝি কোন স্থানে ওই মেশিন স্থানান্তর না করলে এর সফলতাই মুখথুবড়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশংকা ছাড়া পর্যাপ্ত জনবল স্থায়ী অবকাঠামো না থাকা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হতে চলছে সরেজমিন জোড়কাননে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ওই মহাসড়কে অতিরিক্ত লোড নিয়ে চলাচলকারী ৯৫ শতাংশ যানবাহনই ওই স্টেশনের আওতায় আনা যাচ্ছে না জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে যানবাহন চলাচল করার কারণে দাউদকান্দি, মেঘনা, কাঁচপুর সেতুসহ চট্টগ্রাম সিলেট সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু বেইলি ব্রিজ সড়ক রক্ষায় গত ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ওভার লোডেড গাড়িগুলোর লোড কন্ট্রোল করার স্বার্থে ওজন পরিমাপক কার্যক্রম শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারি যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তা উদ্বোধন করেন কিন্তু পদুয়ার বাজার থেকে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই গাড়ি আটক করে সেখান থেকে ফেরৎ দেয়ার পর তা আবার মহাসড়কের শুয়াগাজী হয়ে পুরাতন লিংক রোড দিয়ে কুমিল্লা শহর অতিক্রম করে আলেখারচর দিয়ে গন্তব্যে চলে যাচ্ছে গাড়ি চালকদের এহেন প্রতারণার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত অনুসারে মহাসড়কের ১০৬ তম কি.মি. অংশে সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন এলাকায় ওই মেশিনটি স্থানান্তর করা হয় গত মার্চ থেকে সেখানে অতিরিক্ত লোড নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয় কিন্তু এতেও সুফল মিলছে না ঢাকা কিংবা সিলেট যেতে জোড়কানন না এসেই বর্তমানে চালকরা আরও ৩টি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে এতে ওই সড়কগুলোও এখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সওজ কর্মকর্তারা জানান, জোড়কানন থেকে অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী যানবাহন ফিরিয়ে দিলে কিংবা সেখানে না এসেও চালকরা বর্তমানে চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কের মাধ্যমে লালমাই দিয়ে পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার-কাশিনগর-ভুশ্চি-বাগমারা হয়ে লালমাই দিয়ে পদুয়ার বাজার এবং ফেনী-বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ি-লাকসাম-লালমাই দিয়ে পদুয়ার বাজার দিয়ে মহাসড়কে উঠে ঢাকা কিংবা সিলেট সড়কে চলাচল করছে এতে ওই কার্যক্রমের সফলতা এখন ভেস্তে যেতে বসেছে তবে মহাসড়কের ফেনী এলাকা থেকে ঢাকা কিংবা সিলেট যেতে বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় ওই স্টেশনটি সেখানে স্থাপন করলে এর শতভাগ সফলতা আসবে বলে সওজ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন ছাড়া মহাড়কের কুমিল্লার আলেখারচর-ময়নামতির মাঝামাঝি এলাকায় স্থাপন করলেও এর সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত তবে বর্তমানে আলেখারচর এলাকায় চার লেনের কাজ চলায় উপযুক্ত স্থান না থাকায় তার সম্ভব নয় বলে সওজ কর্মকর্তরা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার সওজ কর্মকর্তারা জানান জনবল, স্থায়ী অকাঠামো,পর্যাপ্ত পুলিশ এবং উপযুক্ত সড়ক পয়েন্ট ব্যতীত কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় সওজ কর্মকর্তরা জানান জোড়কানন এলাকায় মেশিনটি স্থাপন করার পর চালকরা বিকল্প সড়ক পথ ব্যবহার করে আশে পাশের সড়কগুলো আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাই বিকল্প এমন একটি স্থানে ওই ওজন পরিমাপক যন্ত্র সরিয়ে নিতে হবে যাতে গাড়ি চালকরা আর কোন বিকল্প সড়ক খুঁজে না পায় সওজ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, অতিরিক্ত ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থায়ী অবকাঠামো মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায় স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ তা বন্ধ রয়েছে তাই সেখানে কিংবা ফেনীতে তা স্থানান্তর করলে এর সফলতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে এদিকে বুধবার দুপুরে জোড়কানন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত সড়কে একসেস কন্ট্রোল লোড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে জন পুলিশ কনস্টেবল, জন সওজ কর্মচারী এবং জন এটিটি কমর্ী পলিথিনে ঘেরা তাঁবুতে দায়িত্ব পালন করছে তারা জানান- ওই মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী ৯৫ শতাংশ অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনই সিগনাল অমান্য করে চলে যায় উন্মুক্ত মহাসড়কে তাদের দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকে না



লাকসাম মনোহরগঞ্জ নাঙ্গলকোটে ২৪ ঘণ্টার খবরের আপডেট পেতে আমাদের পেজটি লাইক করুন। পেজটি লাইক করতে এখানে ক্লিক করুন। আপনার একটি লাইকই আমাদের অনুপ্রেরণা। undefined