আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

বারেকবাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাগমারাবাসী


এফএনএস:[রোববার,১২ ফেব্রুয়ারি ২০১] সদর দক্ষিণ থানাধীন ৭নং বাগমারা (দক্ষিণ) ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সিদুচী গ্রামের আব্দুল বারেক ওরফে বারেক মেম্বার পিতা মৃতঃ রহমত আলীর মতোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ দস্যুবৃত্তির কাজের জন্য বারেক মেম্বারের রয়েছে বিশাল এক সন্ত্রাসীবাহিনী।..
তার পিতা মুক্তিযোদ্ধের সময়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর মদদে বাগমারায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী বছর আগোপনে থেকে আবার স্ব-মূর্তিতে আবির্ভূত হয় রাজাকার রহমত অগণিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অসংখ্যবার জেল খাটে বারেক মেম্বারের পিতা রহমত আলী পিতার মৃত্যুর পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব পেয়ে বারেক মেম্বার এখন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত পিতার মতো তার অত্যাচার জুলুম-নির্যাতনে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তার ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত থাকে যেন স্বাধীন দেশের এক বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী জনপদ দানবের থাবায় অনবরত লুণ্ঠিত হচ্ছে জনগণের জান-মাল-ইজ্জত এলাকাবাসীর ধরনের নানা অভিযোগের বিবরণই প্রতিবেদন
সূত্রে জানা যায়, অত্র এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি তালেব আলী মজুমদারের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে তাকে জনসম্মুখে দিন-দুপুরে খুন করে রহমত আলী রাজাকার সে মামলায় রহমত আলীর ২০ বছর সাজা হয়েছিল তার পিতার মতো আব্দুল বারেক মেম্বারের বিরুদ্ধেও পর্যন্ত ৩টি খুনের মামলাসহ প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে এসব মামলায় তার বেশ কয়েকবার হাজতবাস হলেও কোন মামলাতে সাজা হয়নি ব্যাপারে অত্র এলাকার জনৈক ব্যক্তি বলেন, বারেকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলার বাদিগণ তার সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়ে কেউ গ্রাম ছাড়া হয়েছেন এমনকি অনেকেই বিচারটিও দেখে যেতে পারেননি আর যারা গ্রামে বসবাস করছেন তাদেরকে এখনও নানা রকম হয়রানি স্বীকার হতে হচ্ছে
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বারেক মেম্বার গ্রামের মোকলেছুর রহমান মজুমদারকে প্রকাশ্যে খুন করে যার প্রধান আসামি ছিল বারেক মেম্বার নিজে যার নং (লাকসাম থানা মামলা নং ০৫/১৬৫/৮৪ ইউ/এস, ১৪৯/৩০২ বিপিসি) বিচারধীন মামলা নং ১৯/১৯৮৫ এই খুনের মামলায় তার দীর্ঘদিন হাজতবাস হয়
এবং পরবর্তীতে অসম রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তার সন্ত্রাসীবাহিনীর দ্বারা মামলার বাদি সাক্ষীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একপর্যায়ে ওই মামলা পরিচালনা বন্ধ করে দেয় এমনকি হাজত থেকে বের হয়ে মৃত মোকলেছুর রহমানের পরিবারকে নানারকম হয়রানি পুরো গ্রামের মধ্যে এক ঘরে করে রাখে বর্তমানে মৃত মোকলেছুর রহমান মজুমদারের বড় ছেলে মোঃ ওবায়দূর রহমান মজুমদার তার বাবার হত্যার বিচার চেয়ে পুনরায় মামলাটি তদন্তপূর্বক বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে ধর্না দিচ্ছে যে বিষয়টি বারেক মেম্বার জানতে পেরে ওবায়দূর রহমান মজুমদারের পরিবারের সদস্যদের ওপর জুুলুম নির্যাতন গ্রামছাড়া করার ষড়যন্ত্রও করছে বলে জানা যায়
বারেক মেম্বারের সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে পেশাদার খুনী, দাগী চোর, চাঁদাবাজ সরকারি ভূমি অফিসের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা বারেক মেম্বার তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা টার্গেট করে এলাকার নিরীহ কৃষকের চাষাবাদের জমি দখল করে নিচ্ছে ভিটেমাটিহারা এসব ব্যক্তি কর্মসংস্থানের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন আর সুযোগে স্থানীয় ভূমি অফিসের পিয়ন মো. সেলিম মজুমদারের সহযোগিতায় ভূমি জরিপ সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলে দেয় এবং তার বাহিনীর মাধ্যমে ধরনের মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকা টাকা চাঁদা দাবি করে তা দিতে না পারলে ওই জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় এভাবে অত্র এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীন মজুমদারের কবরস্থানটিও দখল করে ওই জায়গায় ঘর তোলার জন্য অশোভ পাঁয়তারা করছে বলে বারেক মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা
এদিকে ভূমি অফিসের পিয়ন সেলিম মজুমদার এবং বারেকের সন্ত্রাসীবাহিনী এই দুই মিলিয়ে এলাকায় চলছে বারেকবাহিনীর জমি দলের ত্রাসের রাজত্ব গ্রামে কোন ব্যক্তি নতুন করে কোন ঘর নির্মাণ করতে গেলে বারেকবাহিনীকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয় একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বারেক মেম্বার বর্তমানে যে জায়গার ওপর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে সেই জায়গাও তার নিজের নয় জায়গাটির প্রকৃত মালিক তার নিজ গ্রামের অসহায় পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক জায়গাটি দখলমুক্ত করতে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আদালতে মামলা করেছেন যা এখনও বিচারাধীন মামলা নং পি,আর ৯১০/০২ইং ধারা ফৌঃকাঃবিঃ ১০৭/১১৭(সি)/১১৪ মামলায় আব্দুল খালের পক্ষে কয়েকটি রায় হলেও বারেক মেম্বার তা মেনে না নিয়ে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেককে গ্রাম ছাড়া করার নানা অচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে কান্নাজনিত কণ্ঠে ৭০ ঊর্ধ্ব আব্দুল খালেক বলেন, আমরা কী জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন করতে মু্িক্তযুদ্ধ করেছিলাম যে দখলবাজা, রাজাকারপুত্র এবং খুনিদের হাতে বয়সে লাঞ্ছিত হতে হবে এমনকি নিজের প্রকৃত মালিকানা সম্পত্তিটিও জোরপূর্বক নিয়ে নিবে
এদিকে সূত্রে আরো জানা যায়, আব্দুল আল মতি মজুমদার (পলাশ) এর কাছ থেকে শাহ আলম মজুমদার বৈধভাবে ৩৬৫ নং খতিয়ান ৩৮৮ নং দাগে সিদুচী মৌজায় ৩টি দোকান ঘরসহ শতাংশ ভিটি জমি ক্রয় করেন যার ভাড়াটিয়া আব্দুল বারেক মেম্বার জোরপূর্বক দোকান ঘরের দখল নিয়ে বর্তমানে প্রকৃত মালিক শাহ আলম মজুমদারকে দখলসত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে ওই জায়গায় না যাওয়ার জন্য তাকে চিরতরে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহ আলম মজুমদার এসব বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলার চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোন ফল পায়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা এছাড়া বারেক মেম্বারের এক ছেলে মো. কামাল হোসেন ফেনি মডেল থানার স্পেলাল ব্রাঞ্চে এএসআই পদে কর্মরত থাকায় সে তার পিতার সেল্টার হিসেবে গ্রামের মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দমন করে রাখেন বলে এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান উপরোক্ত অভিযোগ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিবরণী নিয়ে আব্দুল বারেক মেম্বারের ০১৭২৬৬৬৮৮২৭ মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সত্য নয় যদিও অনেক বিষয় তিনি এরিয়ে যান
তবে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি চিহ্নিত সন্ত্রাসী নানা অপকর্মের নায়ক আব্দুল বারেক মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অত্র এলাকাবাসীর প্রাণের প্রত্যাশা