আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

প্রসঙ্গঃ ইভটিজিং

সামছুল আলাম রাজন: [শুক্রবার,০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১] মেয়েদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারিরীক মানসিকভাবে হয়রানি করা বা ইভটিজিং নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যপকভাবে আলোচনা হচ্ছে ইভটিজিং এখন শুধু যৌন হয়রানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই যৌন নির্যাতন এবং হত্যার মত ঘটনা ঘটছে নিয়মিত আইন শালিস কেন্দ্রের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে ২০১ সালের প্রথম নয় মাসে অন্তত ২৫ জন নারী যৌন হয়ররানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।..
আরও ১৭ জন, যাদের মধ্যে জন মহিলাও রয়েছেন, খুন হয়েছেন দুস্কৃতিকারীদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির গবেষণায় দেখা গেছে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী শতকরা প্রায় ৯০ জন নারী যেীন হয়রানির শিকার হয় থেকে বোঝা যাচ্ছেইভ টিজিংনামক সমাজিক ব্যাধিটির ব্যাপকতা কারণ বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলো অনায়াসে আমাদের চোখে আসে তা হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থা, রাজনৈতিক দুরাবস্থা, আইনের শাসনের অভাব ইত্যাদি কিন্তু এসব মৌলিক সমস্যা তো নতুন করে আবির্ভাব হয়নি তাহলে সাম্প্রতিক সময়ে ইভটিজিং এর তীব্রতা এতটা বৃদ্ধি পেল কেন? এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খোঁজা হয়েছে এই লেখায়
স্বাধীনতার পরতলাবিহীন ঝুড়িখ্যাত বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে সে অনুপাতে শিক্ষিতের হার বাড়লেও শিক্ষার মান একেবাড়েই বাড়েনি বিভিন্ন উপায়ে মানুষের হাতে টাকা এসেছে ফলে ধনী লোকের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু সুশিক্ষিত জনবল গড়ে উঠেনি এই অসম বিকাশের অন্যতম একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলইভটিজিংএর মতো ঘটনা
দ্বিতীয় যে বিষয়টি ভাবনার কারণ তা হল, তথ্যপ্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোনের অবাধ ব্যাবহার তথ্যপ্রযুক্তির এই অগ্রগতিকে অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অনেকেই সাধুবাদ জানালেও সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অভাবে এর নেতিবাচক দিকটাই আমাদের বেশি নাড়া দিচ্ছে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো শুধু মুনাফার লোভে সামাজিক দ্বায়িত্ব ভূলে গিয়ে ইঁদুরদৌড়ে মেতে উঠেছেরাতভর কথা’, ‘বিরামহীন কথাইত্যাদি প্যাকেজ দিয়ে তারা আমাদের কিভাবে উপকার করছে তা বোধগম্য হচ্ছে না এসব রাতভর সস্তা কথার প্রলোভন দেখানোর মুল টার্গেট যে তরুন সমাজ তা সহজেই অনুমেয় কিন্তু কি কথা বলবে ছেলে-মেয়েরা রাত ভর? আর কার সাথেই বা বলবে এত কথা? আর এজন্যই সম্ভবত এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে প্রায় বলে থাকেদোস্ত, একটা নাম্বার হবে নাকি?” এই নাম্বারটা অবশ্যই কোনো একটা মেয়ের এরপর যদিও একটা নাম্বার পাওয়া গেল, অপর পক্ষ কি প্রস্তুত কথা বলার জন্য? দুএক কথার পর বাগবিতন্ডা এর পরবর্তী দৃশ্য কি হবে তার জন্য খুব বেশি ভাবতে হচ্ছে না চোখ রাখুন সিনেমা আর নাটক তথা সিরিয়ালের দিকে সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখানো হচ্ছে তাতে আর এভাবেই জন্ম হচ্ছে হাজারোস্ট্রিট রোমিও যারা কিনা পরে ভয়ানক ভিলেনে রূপান্তরিত হচ্ছে
তৃতীয় কারণটিও প্রথম দুটির সাথে সম্পর্কিত আর তা হল দেশীয় নিজস্ব সংস্কৃতিক পরিচয়ের বিকাশের অভাব তথাকথিত অত্যাধুনিক বিশ্ব আর বিশ্বায়নের সাথে আমরা একাত্বতা প্রকাশ করে ভিনদেশী সংস্কৃতির অবাধ গলাধঃকরণ নিশ্চিত করেছি দিনশেষে দেখা যাচ্ছে আমাদের অপ্রস্তুত তরুণ সমাজে তার বদহজম শুরু হয়েছে ভালোমন্দের পরিশোধন করতে না পেরে তারা সবই অবাধে গ্রহণ করার চেষ্টা করছে কিন্তু ঠিকভাবে পেরে উঠছে না ফলে তৈরি হচ্ছে হিংস্র পশুসুলভ আচরণের বলি হচ্ছে শত শত কোমলমতি মেয়ে আর এক্ষেত্রেও প্রভাবকের ভুমিকায় রয়েছে সেই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোদুই মাস ওদেরেকে ডিস্টার্ব করবেন না, প্লিজআওয়াজে টিভি রেডিওতে মাতম তোলার কোনো ইতিবাচক দিক কি আছে?
ইভটিজিং আক্রান্তদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেও ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পরে তারা ভয়, উদ্বেগ্যতা (Anxiety), দুঃশ্চিন্তা, আত্মহত্যার প্রবণতা, অসহায়ত্ব, হতাশা, আত্মসম্মান বোধের হ্রাস ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকে যেহেতু পরিবার বা স্কুলে ব্যাপারে সাধারণত তারা পর্যাপ্ত মনো-সামাজিক সহযোগিতা পায়না বা পাবার ব্যাবস্থাও নেই, সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকট হতে থাকে
অত্যন্ত ভয়ানক হয়ে উঠা এই ব্যাধির দ্রুত প্রতিরোধ করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধানের কোনো বিকল্প নেই এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্য একান্ত অপরিহার্য ক্ষতিগ্রস্থদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যাবস্থা করাও জরুরী সেই সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক বিকাশে ব্যাবসায়ী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যে দ্বায়িত্ব রয়েছে সে সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে কথা অতীব সত্য যে, আজ যদি আমরা আমাদের মেয়েদের সহায়তা না করতে পারি, দিনশেষে আমরা সবাই চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ব
undefined