আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসামে অন্য রকম বন্ধুমেলা

মুজিবুর রহমান দুলাল: [শনিবার,২৫ ফেব্রুয়ারি ০১] ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন সকাল নয়টা।..
মাইকের শব্দ ভেসে আসলো বন্ধু স্বপন মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে মাত্র বন্ধু আয়াজ তার স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছেছে এর পর এক এক করে সবাই লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে শুরু করলো আশ পাশের লোকজনের মধ্যে দারুন কৌতুহল এখানে কী হচ্ছে ?

আসলে রকম দৃশ্য দেখলে সবার মনেই কৌতুহল সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক কারণ লাকসামের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী বন্ধু আড্ডা আর নাম দিয়েছেবন্ধু মেলা বিশুদ্ধতায় গড়া নির্মল বন্ধুত্ব, বন্ধুত্বের বন্ধন হোক রাজনীতির উর্দ্ধে- শ্নোগানকে ধারণ করে ২০১০ সালেবন্ধু মেলানামে এই সংগঠণের প্রতিষ্ঠা করা হয় সকল বন্ধুরা মিলে বন্ধু মো. ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজকে বন্ধু মেলার আহবায়ক করে
ওই বছর প্রথমবারের মত বন্ধু মেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধু আড্ডা সকল বন্ধুরা স্ত্রী-সন্তান স্বামীদের নিয়ে যোগ দেয় বন্ধু আয়াজের বাড়ির আঙ্গিনায় বন্ধু মেলার অনুষ্ঠানে সকাল থেকে সারাদিন বন্ধুরা হই-হুল্লোড় আর আনন্দে মেঠে উঠে এছাড়া অনেক বছর পর পুরনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে এক অপরকে জড়িয়ে ধরে আবার কেউ কেউ বহু বছর পর ছোট বেলার বন্ধুকে কাছে পেয়ে আবেগ অপেস্নাত হয়ে পড়ে চোখ ভিজে উঠে আনন্দের অশ্রুতে আবার অনেকে সংবরণ করতে পারেনি চোখের অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে বন্ধুদের স্ত্রী সন্তাদের জন্য বিভিন্ন ধরণের খেলা-ধুলার আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা ছাড়াও সকল শিশু মকল বন্ধুদের স্ত্রীদের পুরস্কৃত করা হয় অনুষ্ঠিত ্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের দিন ব্যাপী বন্ধুদের মহামিলন মেলায় মূখরিত ছিল অনুষ্ঠানস্থল ২০১১ সালেও অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় একই স্থানে

তৃতীয় বছরের মত গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয় বন্ধু মেলার বন্ধুরা সকল বন্ধুরা স্ত্রী-সন্তান স্বামীদের নিয়ে যোগ দেয় অনুষ্ঠানে ২২৬ জন বন্ধু তাদের স্ত্রী-সন্তান এবং স্বামীদের নিয়ে আসে অনুষ্ঠানস্থলে সেই এক মহামিলন মেলা

বন্ধু মেলার অনুষ্ঠানে এসে অনেকে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বন্ধু জপু তার অনুভূতি প্রকাশ করে ভাবে- স্বামী-সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রাম থাকি দীর্ঘ বছর কারো সঙ্গে যোগাযোগ নেই বললেই চলে বন্ধু সুরাইয়ার (বড় মনি) মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের কথা জেনে ছুটে এসেছি প্রায় ত্রিশ বছর পর শিক্ষা জীবনের অনেক স্মৃতি বিজড়িত নিজ বিদ্যালয় মাঠে পা রেখেছি এখানে এসে পুরনো অনেক বন্ধুদের দেখা পেলাম বিশেষ করে যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি আজ সেই বিদ্যালয় মাঠে বন্ধু মেলার অনুষ্ঠান আর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্ধু সুরাইয়া বেগম কী আনন্দ লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না

বন্ধু মো. সামছুদ্দিন কালু বর্তমান নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র তার অনুভূতি এমন- ছোট বেলা থেকে রাজনীতি করি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাত, সভা-সমাবেশ এমনকি খাওয়া-দাওয়া করেছি কিন্তু এত আনন্দ বা গর্ববোধ করিনি যতটা গর্ববোধ করছি বন্ধু মেলার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে

বন্ধু নজরুল, মেশকাত সুদূর ফ্রান্স থেকে এসেছে বন্ধু মেলার অনুষ্ঠানে ডা. প্রদীপ কিশোর, হুমায়ন পারভেজ, সুরাইয়া (বড় মনি), লিটন, এলাহী, বীনা, পারভীন, অহিদুর রহমান, সঞ্জিত, অজয়, দিবাকর, শ্যামল, আমিন, বাহার, তাজু, মনির, আসলাম, রানা, পান্না, বাদল, তরু, গৌরাঙ্গ, জাহাঙ্গীর, ফারুক, স্বপন, মোশারফ, বাবুল, সমর, দুলাল, কালাম, জয়দেব, আমির হোসেন, শিবু, গৌতম, সারোয়ার, আম্বিয়াসহ প্রায় দুশতাধিক বন্ধু তাদের স্ত্রী-সন্তানদের পদভারে মূখরিত হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ

সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলের চটপটি-ফুসকা গরম গরম জিলাপী খাওয়া এবং সারা দিনের হই-হুল্লোড় আনন্দ পুরো বছর জুড়ে স্মৃতিতে ধরে রাখার মত সন্ধায় বন্ধুদের সমিমলিত নাচ-গানের আড্ডা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, সকল শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া এবং ্যাফল ড্র অনুষ্ঠান ভাগ্যবান ২১ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ্যাফেল ড্র ভাগ্য বিজয়ী প্রথম পুরস্কার (২১ ইঞ্চি রঙ্গিন টেলিভিশন) লাভ করেন অনুষ্ঠানের অতিথি ওয়ান ব্যাংক লাকসাম শাখার ব্যবস্থাপক মো.শাহ আলম রাত আটটায় বন্ধু মেলার আহবায়ক মো. ফজলে রহমান আয়াজের ধন্যবাদ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বন্ধু মেলার অনুষ্ঠানের যবনিকা টানা হয়