আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

নাঙ্গলকোটে মওসুমের শুরুতে সেচ সংকট


কাউছার আলম মিয়াজী: [বুধবার,২৯ ফেব্রুয়ারি ০১] নাঙ্গলকোটের ডাকাতিয়া নদী সহ ছোট-বড় খালগুলো পানি শূণ্য হয়ে পড়েছে ফলে মৌসুমের শুরুতে সেচ সংকটের কারণে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ডাকাতিয়া নদী এবং শাখা খালগুলোতে এখন আর পানির কল-কল ধবনি নেই ডাকাতিয়া নদী সহ খালগুলোতে এখন বিস্তীর্ণ ফসলি জমি শোভা পাচ্ছে এক সময় ডাকাতিয়া নদী থেকে স্যালো মেশিনের সাহায্যে কৃষকরা পাশ্ববর্তী কৃষি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করতেন কিন্তু সেই ডাকাতিয়া নদী এখন পানি শূণ্য।..
কৃষকরা ডাকাতিয়া নদীর অল্প পানিতে আগাম জাতের ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছে। জানা যায়, নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা, রায়কোট, মৌকরা, ঢালুয়া, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে ডাকাতিয়া নদী প্রবাহমান। শীতকাল আসতেই ডাকাতিয়া নদী পানি শূণ্য হয়ে পড়ে। তখন কৃষকরা আগাম জাতের ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেন। ইতোমধ্যে ধানের চারাগুলো বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। নদীতে পলি জমার কারণে কৃষকরা ধানের আবাদও ভালো পান বলে কৃষকরা জানান। এদিকে, এই ডাকাতিয়া নদী বর্ষাকালে উলেস্নখিত ৫টি ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়। ভরা বর্ষায় ডাকাতিয়া নদীর পানি উপচে পড়ে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কৃষকদের লাখ-লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আবার গ্রীষ্মকালে ডাকাতিয়া নদীতে লাগানো ইরি-বোরো ধানের থোড় বের হবার সময় হলে ফেনীর কাজির হাট অকেজো স্লুইচ গেট দিয়ে সাগরের লোনা পানি ডাকাতিয়া নদীতে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যায় এবং লবণাক্ত পানিতে ফসলী জমি ৰতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ৰতির সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া ডাকাতিয়া নদীতে মাছের ঘের নির্মাণ, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ ধরা, নদীর দুপাড়ে অবৈধভাবে দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে নদীর পাড়গুলো অবাধে দখল করার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, ডাকাতিয়া নদীর সাথে মিলিত হওয়া ছোট-বড় অনেক খাল পানি শূণ্য অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালগুলো অহরহ বেদখল হবার ঘটনা ঘটছে। স্বার্থন্বেষী মহল অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে খালের উপর দোকান পাট নির্মাণ, খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মাছ ছাষ করায় দিন-দিন খালগুলোর অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। উপজেলার আর্দ্রা ইউপির নাঙ্গলকোট-তুঘরিয়া সড়ক সংলগ্ন ভোলাইন-তুঘরিয়া খাল দখল করে সারি-সারি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। একই ইউপির ভোলাইন বাজার এবং মেরকোট বাজারে সরকারি খাল দখল করে দোকনপাট বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে। জোড্ডা ইউপির জোড্ডা বাজারের উত্তর পাশ্বর্ে জোড্ডা-কাশিপুর খাল দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। বাঙ্গড্ডা এবং পেড়িয়া ইউপির উপর দিয়ে প্রবাহিত কাকৈর তলা খাল দখল করে মাছের ঘের নির্মাণ করা হয়েছে। রায়কোট ইউপির রায়কোট খালে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত অন্যান্য ছোট-বড় খাল দখল করে অবাধে বাড়িঘর-দোকানপাট নির্মাণ করার ঘটনা ঘটছে। স্বাধীনতা পরবতর্ী সময় থেকে পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলো খননের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলে খালগুলো দিন-দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদী তীরবতর্ী এলাকাবাসী ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলোর যথেচ্ছো ব্যবহার করছে। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বাড়িঘর নির্মাণসহ অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপৰ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডর অধীনে ডাকাতিয়া নদী থাকলেও তাদেরকে ডাকাতিয়া নদীসহ খালগুলো রৰায় পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ডাকাতিয়া নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শীতকালে পানিতে ভরপুর থাকতো। যার ফলে নদী তীরবতর্ী পাশ্ববতর্ী জমিতে পানি সেচের মাধ্যমে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা যেত। এতে হাজার- হাজার মণ বেশি ধান উৎপাদন করা সম্ভব হতো বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। এছাড়া, ভরা বর্ষায় ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ফসলি জমিগুলো পানি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো বলে তারা জানান