আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

কোট বাইয়ারা হাই স্কুল : প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ


মাইনুদ্দিন দুলাল:[বৃহ:স্পতিবার,২৩ ফেব্রুয়ারি ০১] নাঙ্গলকোটে একটি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় জিম্মি হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষার্থীরা। এসব অভিযোগে তাদের অপসারণ দাবি করেছেন অভিভাবকরা। নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।..
বিক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাগুলো ঘটছে উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের বাইয়ারা জয়নাল উচ্চ বিদ্যালয়ে। ফলে ওই স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক স্কুলের এক আয়ার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। পরে গত ১১ জুলাই রাতে ওই আয়ার বাড়ি থেকে এলাকাবাসী তাকে ধরে গ্রাম পুলিশে সোপর্দ করে। অবস্থায় ইউপি ভবনে রাতভর তাকে আটকে রাখা হয়। পরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেন ব্যবস্থা নেওয়ার মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন। ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ডা. আঃ মালেককে আহ্বায়ক এবং সদস্য ডা. ইছাক, মোঃ শাহ আলমসহ স্কুল শিক্ষক মাওলানা সাদেকুর রহমান আইয়ুব আলীকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্তের আগেই শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করে তদন্ত কমিটির সদস্যসহ আরও জনের বিরুদ্ধে ওই প্রধান শিক্ষক একটি মামলা করেন। তদন্ত কমিটি তাকে ডাকলেও তিনি সাড়া দেননি। অবস্থায় অভিভাবকদের দাবিতে ঘটনা তদন্তে উপজেলা উন্নয়ন সভায় ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রধান করে সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি প্রধান শিক্ষককে তলব করলে সেখানেও তিনি উপস্থিত হননি।
এদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কোনো কারণ ছাড়াই স্কুলের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ বলেন, প্রধান শিক্ষককে বসার জন্য ডাকলে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির সহযোগিতায় উল্টো স্কুলের শিক্ষকসহ এলাকাবাসীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে চলেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক উপজেলার ইসলামপুর (সাবিত্রা) উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় ছাত্রছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ করে। ২০০২ সালে লাকসাম হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন একই ধরনের ঘটনায় তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক করায় স্থানীয় সালিশে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাবেক ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দের ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ছাড়া উন্নয়ন ফি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলআপের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় করে প্রধান শিক্ষক সভাপতি আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, সভাপতি যৌন কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। প্রধান শিক্ষক সভাপতি মিলে স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন। প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক সব ঘটনা ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সভাপতি তাকে নাজেহাল করতে এগুলো চেয়ারম্যান আলী আক্কাছের ষড়যন্ত্র। নাঙ্গলকোট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমএ করিম জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অসহযোগিতার কারণে তদন্ত কমিটি কাজ করতে পারছে না।