আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসাম বাইপাস' ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর বিরতিহীন ট্রেনের বহুমাত্রিক গুরুত্ব

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১৬ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেলসড়কের লাকসাম-চাঁদপুর অংশের পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিছেয়ে প্রকল্পে প্রা২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে চট্টগ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চির অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষ দীর্ঘ ৬৪ বছর (১৯৪৭ সাল থেকে) ধরে বিদ্যমান নির্যাতনমূলক যাতায়াত ব্যবস্থার চির অবসানের স্বপ্ন দেখছে প্রস্তাবিত বাইপাসটি নির্মিত না হলে পাঁচ কোটি মানুষের আশার প্রদীপ্ত শিখাটি চিরতরে নির্বাপিত হবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রেলসড়কটি পূর্বাপর এক্সট্রিম লোকালই থেকে যাবে
বাংলাদেশের চলমান রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় অনিয়ম, নৈরাজ্য, বৈষম্য বঞ্চনা হচ্ছে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেল সংযোগে ব্রিটিশ শাসনামলের এই গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার (খুলনা, বরিশাল বিভাগও বৃহত্তর ফরিদপুরের জেলগুলো) পাঁচ কোটি মানুষকে ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে না যা একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো, জনগণের মৌলিক অধিকার সুষম উন্নয়নের পরিপন্থী।..
ব্রিটিশ যুগে আসাম-বেঙ্গল রেলয়ের গেইটওয়ে হিসাবে খ্যাত ছিল চাঁদপুর রেলসংযোগে বর্তমানে মাত্র দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে () সাগরিকা এক্সপ্রেস : ট্রেনটি সকাল ৮ট ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম হতে ছাড়ে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেলপথের দৈর্ঘ ১৮০ কিলোমিটার ১৮০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ৩০টি স্টেশনে বিরতিসহ কমপক্ষে ৪০ বার যাত্রাবিরতি করে অর্থাৎ গড়ে প্রতি . কিলোমিটার পরপর এক একটি বিরতি আমাদের উপমহাদেশেসহ বিশ্বের অন্য কোথাও এতে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে এত অধিক বিরতি নেই প্রতিটি লোকাল স্টেশনেই কিছু যাত্রী খন্তা, কুড়াল, কোদাল, করাত, হাঁস, মুরগি ছাগল নিয়ে প্রান্তিক যাত্রীদের গায়ে চেপে বসে, এবং পরবর্তী স্টেশনে নেমে পড়ে ১২টি ভাঙা জরাজীর্ণ বগি নিয়ে গঠিত সাগরিক এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে কমপক্ষে ৩০০০ যাত্রী ভ্রমণ করেন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৭২০ জন বসার যাত্রীর গুণ যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকেন গাড়ির মধ্যে একস শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয় প্রতিটি বগিই যেন হয়ে ওঠে কার্বন ডাই-অক্সাইডের এক একটি জেনারেটর ট্রেনটি বিকাল / টায় চাঁদপুরে পেঁৗছে ট্রেনটির নাম 'সাগরিকা এক্সপ্রেস' না হয়ে 'শম্বুক এক্সপ্রেস' হলেই যথার্থ হতো সাগরিকা ট্রেনটি অতিবিলম্বে চাঁদপুর পৌঁছার কারণ দক্সিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা পড়ন্ত বেলায় প্রশস্ত, গভীর উত্তাল মেঘনা পার হতে কোন নৌযান পান না ট্রেনটির অতি মন্তর গতি যত্রতত্র বিরতি কারণে চট্টগ্রাম হতে আগত, চাঁদপুর সদর পার্শ্ববর্তী উপজেলা সমূহের যাত্রীরাও দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করেন একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের সরাসরি যাত্রীদের জন্য 'সাগরিকা এক্সপ্রেস' একটি নির্যাতনমূলক ট্রেন () মেঘনা এক্সপ্রেস : ট্রেনটি চট্টগ্রাম হতে ছাড়ে বিকাল ৫টায় এবং চাঁদপুরে পৌঁছে রাত ১০/১১টায় বৃহত্তর ফরিদপুরের কোন যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন না খুলনা বরিশাল বিভাগের যাত্রীরা ট্রেনে চাঁদপুৃর গিয়ে ঢাকা হতে যাত্রী বোঝাই হয়ে আসা লঞ্চে সিট পান না এভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীদের ভায়া চাঁদপুর পথে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্বের পরিবর্তে ভায়া ঢাকা পথে ৬০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে তাদের গন্তব্যে যেতে বাধ্য করা হয় এর ফলে অতিরিক্ত সময়, শ্রম অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি জাতীয় জ্বালানি সম্পদের ব্যাপক অপচয় হয় চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রেনের টিকিট হয়ে উঠে সোনার হরিণ একই মহাসড়কে পড়ে যানবাহনের অকল্পনীয় চাপ, সৃষ্টির হয় অসহনীয় যানজট মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি অনেক সয় মধ্যরাতে চাঁদপুর পেঁৗছার কারণে মতল উপজেলাসহ চাঁদপুর সদর সংসদীয় এলাকায় অবস্থিত দুর্গম চরাঞ্চলের যাত্রীরাও নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছেতে পারেন না এসব এলাকার যাত্রীদের ভোর পর্যন্ত চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্ম বা নৌ টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হয় ৩০ বছর পূর্বে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর লাইনে যে দুটি ট্রেন চালু ছিল আজও সেই দুটিই আছে দীর্ঘ সময় পরিসরে যাত্রীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে পাশাপাশি দ্বিগুণ দূরত্বের চট্টগ্রাম-ঢাকা এবং চট্টগ্রাম-সিলেট লাইনে ট্রেনের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে একটি অশুভ চক্রের সঙ্গে কতিপয় বাস মালিকের অনৈতিক অাঁতাতের ফলে স্বল্প দূরত্ব, স্বল্প সময় এবং স্বল্প খরচের সহজ পথ চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেল সংযোগ দুর্বল অনিয়মিত হয়েছে যার প্রধান শিকার হচ্ছেন চিরঅবহেলিত দিক্ষণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ কোটি মানুষ জনগণের স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে এই গণবিরোধী অশুভ সিন্ডিকেট তথা অচলায়তন ভাঙা অতি জরুরি মুহূর্তে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আট কোটি মানুষের স্বার্থে চট্টগ্রাম হতে চাঁদপুরের উদ্দেশ্য সকাল ৭টা ৩০ মিনিট একটি বিরতিহীন ট্রেন চালু করার কোন বিকল্প নেই বিরতিহীন ট্রেন চালু করতে হলে, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেল সড়কের লাকসামের একটি স্বল্পদৈর্ঘের (প্রায় কিলোমিটার) রেলওয়ে বাইপাস নির্মাণ করতে হবে অর্থাৎ এই বাইপাসটির কাজ হলো চট্টগ্রাম-চাঁদপুরগামী ট্রেনকে চট্টগ্রাম-লাকসাম লাইন হতে সরাসরি লাকসামস-চাঁদপুর লাইনে প্রবেশ করানো লাকসাম বাইপাস একটি স্বল্প দৈর্ঘের রেলওয়ে বাইপাস এখানে বাইপাস নির্মাণে পর্যাপ্ত ভূমি আছে এবং কোন সেতু নির্মাণ করতে হবে না উত্তরবঙ্গে নির্মিত ঈশ্বরদী বাইপাস এবং ঢাকা-সিলেট রেলসড়কে নির্মিত আখাউড়া বাইপাস আপেক্ষা অনেক সহজে, কমসময়ে কম খরচে লাকসাম বাইপাস নির্মাণ করা যাবে এই বাইপাস নির্মাণে সর্বাধিক ১০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় লাকসাম বাইপাসের বহুমাত্রিক তাৎপর্য আছে . এই বাইপাসটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেলভ্রমণকাল ঘণ্টা হ্রাস পাবে চট্টগ্রাম হতে বিরতিহীন ট্রেন ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর পেঁৗছবে অর্থাৎ বিরতিহীন ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে সকাল -৩০ মিনিটে ছাড়লে সকাল ১০-১৫ মিনিটে চাঁদপুর পেঁৗছবে বাণিজ্যিক রাজধানীর সাথে চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নবযুগের সূচনা হবে কারণে বাস্তবায়ন কমিটি কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের নাম 'নবযুগ এক্সপ্রেস' রাখার প্রস্তাব করেছে . বর্তমানে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর লাইনে চালু লোকাল ট্রেন 'সাগরিকা এক্সপ্রেস' দুপুর -০০ টার মধ্যে চাঁদপুর পৌঁছবে শরীয়তপুর, মাদারীপুর জেলা পার্শ্ববর্তী বরিশাল জেলার মুলাদি, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ গৌরনদী উপজেলার যাত্রীগণ দিবালোকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন . চট্টগ্রাম-নোয়াখালী সরাসরি ট্রেন চালু করা যাবে . ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোন সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা অন্য কোন কারণে মহাসড়কে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে বিকল্প পথ হিসাবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর বিরতিহীন ট্রেনে চাঁদপুর গিয়ে, চাঁদপুর থেকে স্টিমারে যাওয়া যাবে টু স্টেপ জার্নিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে সর্বাধিক ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে এবং জনপ্রতি পরিবহন খরচ হবে ১৮০.০০ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাস ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগ এভাবেই চালু ছিল . চট্টগ্রাম-চাঁদপুর লাইনে একটি ট্রেন চালু করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারটি ট্রিপ বৃদ্ধি পাবে . চট্টগ্রাম হতে প্রতিদিন কমপক্ষে হাজার যাত্রী চাঁদপুর হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যেতে পারবে ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অনেকটা যানজটমুক্ত থাকবে মহাসড়কের মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস পাবে একই সাথে চট্টগ্রাম-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে টিকেটের জন্য হাহাকার বহুলাংশে হ্রাস পাবে . জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পূর্বাঞ্চলের মানুষের আগ্রহ প্রত্যাশা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিবছরই শোকের মাস আগস্টে চট্টগ্রাম মহানগর এই বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আগত অগণিত মানুষের ঢল নামে টুঙ্গিপাড়ায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা-মাওয়া ঘুরে টুঙ্গিপাড়া যেতে ১৫/১৬ ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে এবং জনপ্রতি খরচ পড়ে প্রায় হাজার টাকা চট্টগ্রাম-চাঁদপুর বিরতিহীন ট্রেনে চাঁদপুর যেতে পারলে শরীয়তপুর-মাদারীপুর হয়ে টুঙ্গিপাড়া যেতে সর্বোচ্চ ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে এবং জনপ্রতি খরচ পড়বে ৩০০ টাকা . ঢাকা-সিলেট রেলসড়কে আখাউড়া বাইপাস উত্তরবঙ্গে ইশ্বরদী বাইপাস অপেক্ষা লাকসাম বাইপাসের গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ এই বাইপাস বাণিজ্যিক রাজধানীর সাথে দেশের ২২টি জেলার যোগাযোগ দ্রুত সহজ করবে . চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল ভ্রমণের সময় বাস ভ্রমণের সময় প্রায় সমান (/ ঘণ্টা) কিন্তু চট্টগ্রাম-চাঁদপুর বিরতিহীন ট্রেনে ভ্রমণকাল ঘণ্টা কিন্তু বাসে ভ্রমণকাল ঘণ্টা ট্রেনের ভাড়া বাসভাড়ার একচতুর্থাংশ এই ম্যাচিক অ্যাডভান্টেজকে কাজে লাগাতে হবে ১০. চট্টগ্রাম-চাঁদপুর একটি মাত্র বিরতিহীন ট্রেন চালু করলে রেলের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে একই সাথে লাইনে বিনা টিকেটে ভ্রমণকারীর সংখ্যা হ্রাস পাবে ১১. চট্টগ্রাম-চাঁদপুর সরাসরি যাত্রীদের উপর লাইনে বিদ্যমান অসংখ্য লোকাল রেল স্টেশনের যাত্রীদের অসহনীয় নিপীড়ন বন্ধ হবে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১৬ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেলসড়কের লাকসাম-চাঁদপুর অংশের পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে চট্টগ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চির অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষ দীর্ঘ ৬৪ বছর (১৯৪৭ সাল থেকে) ধরে বিদ্যমান নির্যাতনমূলক যাতায়াত ব্যবস্থার চির অবসানের স্বপ্ন দেখছে প্রস্তাবিত বাইপাসটি নির্মিত না হলে পাঁচ কোটি মানুষের আশার প্রদীপ্ত শিখাটি চিরতরে নির্বাপিত হবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রেলসড়কটি পূর্বাপর এক্সট্রিম লোকালই থেকে যাবে