আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

নাঙ্গলকোটে মা-বাবার দ্বন্ধে ৩ সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ



[মঙ্গলবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১] সেলিম হোসেন(১৫), স্বপ্না(১৩), রেহানা(৮) তিন ভাই-বোনমা-বাবার দ্বন্ধে তাদেরকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখী দাঁড়াতে হচ্ছে যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবার সময়, অথচ আজকে তাদেরকে সাংসারিক সহ বাইরে বদলা দেয়ার মত কাজ-কর্মে হা-ভাঙ্গা খাঁটুনি খাটতে হচ্ছেতাদের বাবা এবং সৎমার সংসারে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতন এবং অবহেলা- অনাদরে বড় হতে হচ্ছেঅবুঝ ৩টি শিশু জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কি?জানা যায়, উপজেলার মৌকরা ইউপির পরকরা গ্রামের মৃত- ইসমাইল মিয়ার মেয়ে নুরজাহান আক্তারের সাথে গত ১৯ বছর পূর্বে নাঙ্গলকোট পৌরসভার বাতুপাড়া(দৈয়ারা) গ্রামের মৃত মোবারক হোসেন মজুমদারের ছেলে আবদুর রশিদ মজুমদারের বিয়ে হয়বিয়ের পর থেকে আবদুর রশিদ মজুমদার যৌতুকের দাবীতে নুরজাহানকে নির্যাতন করে আসছিলএ নিয়ে নুরজাহান একাধিক মামলা দায়ের করেনকিন' আবদুর রশিদ নির্যাতন না করার প্রতিশ্র"তিতে আপোষ-রফার মাধ্যমে মামলা তুলে নেনরজাহান..
 সন্তানদের দিকে তাকিয়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন কি ন এর মধ্যে আবদুর রশিদ তার স্ত্রী নুরজাহানের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেনপরবর্তীতে ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল আবদুর রশিদ তার ভাই পেয়ার আহম্মদ, জালাল আহম্মদ এবং দ্বিতীয় স্ত্রী কুহিনুর বেগম পূর্বপরিকল্পিতভাবে নুরজাহানকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে মাথায় জখম সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়তাকে আশংকাজনক অবস্থায় নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়পরবর্তীতে নুরজাহান ২০০৯ সালের ৬ মে ৪ জনকে আসামী করে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করেনবর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছেএ ঘটনায় সামাজিক পুনরুদ্ধার ও সংশোধন সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত মরহুম ডাঃ যোবায়দা হান্নান সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পানগত আড়াই বছর যাবত নুরজাহানের তিন ছেলে-মেয়ে অবহেলা-অনাদরে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেনুরজাহান বাপের বাড়িতে অবস্থান করছেননুরজাহানের বড়ছেলে সেলিম হোসেন জানান, তাকে তার বাবা স্কুলে ভর্তি না করে সাংসারিক কাজ-কর্ম করানকখনো অন্যের বাড়িতে বদলা দেয়ার কাজ-কর্ম করানতার অন্য দুই বোনকেও স্কুলে ভর্তি না করে বাড়ির কাজ করানএকটু এদিক-সেদিক হলে তার বাবা আবদুর রশিদ এবং সৎ মা কোহিনুর বেগম তাদেরকে শারীরিক নির্যাতন করেনআবার কখনো বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে সেলিম অভিযোগ করেনএলাকার লোকজন সেলিমের বাবা আবদুর রশিদকে ছেলে-মেয়েদের নির্যাতন না করার জন্য বার-বার বলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা না বলে জানা যায়সেলিম হোসেন এবং তার দুই বোনের স্কুলে পড়ালেখা সহ শারীরিক নির্যাতন বন্ধে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন