আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসামে ভূমিদস্যুদের কবলে ১১টি পরিবার দিশেহারা ॥ জোরপূর্বক দখলের হুমকি


[শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১] লাকসামে জোরপূর্বক প্রান্তিক কৃষকদের জমি দখল করে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে একদল দুস্কৃতিকারী চলতি মওসুমে ওই জমিতে ইরি ধানের চারা লাগাতে গেলে গত ৩০শে ডিসেম্বর দুস্কৃতিকারীরা এক দিনমজুরকে টেটাবিদ্ধসহ জমির মালিকদের গুরুতর আহত করে একফসলি ইরি ধানের ওই জমিতে চলতি মওসুমে চাষাবাদ করতে না পারায় প্রায় সাড়ে ৩শমন ধান থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে বর্তমানে ওই জমি দখল করে গুচ্ছগ্রাম করার হুমকিসহ তা লোকজনকে বুঝিয়ে দেয়ার নামে..
চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে ফসল ফলাতে না পেরে ১১টি পরিবারের দেড়শতাধিক সদস্য দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেকে ঘরছাড়া
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, জমির মালিক থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, গত ৩০শে ডিসেম্বর১১ জমিতে ধানের চারা লাগাতে যায় জমির মালিক কৃষকরা। সময় ইছাপুরা মধ্য পাড়ার মোস্তফা (৫০), আমির (৩৫), আজহারুল হক খোকা (৪০), শামীম (২৫), বাচ্চু (৪০), আবদুর রহমান (৩৫), রফিক (৪৫), সাইদুল হক (৪০), ফয়েজ (৩০), হেদু (২৮), জামাল (২৬), ফারুক (৩০), সোহাগ (২৮), দুলালসহ (২৮) ৪০/৪৫ জন দুস্কৃতিকারী লোহার রড, চল, টেটা, ধামা, লাঠি-সোটাসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে জমির মালিক হতদরিদ্র কৃষক শাহআলমকে (৫৫) গুরুতর আহত করে। সময় আসিক (৪৩) নামের এক দিনমজুরকে (রংপুরি) টেটাবিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য জমির মালিক দিনমজুরসহ / জনকে আহত করে। দুস্কৃতিকারীরা সময় জমিতে লাগানো ধানের চারা তুলে ফেলে। আহতদের লাকসাম সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরদিন ৩১শে ডিসেম্বর১১ দুপক্ষের শালিসগণ লাকসাম থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় কমিউনিটি পুলিশিং সেন্টারে উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। সময় ১১টি ভূমিহীন পরিবার তাদের বন্দোবস্তীয় কবুলিয়ত, খতিয়ান, হাল সন পর্যন্ত দাখিলা দখল বুঝে পাওয়ার সকল কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। কিন্তু অন্যপক্ষ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। সময় স্থানীয় গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন ভূঁইয়া শালিসগণ বে-আইনী কার্যকলাপ থেকে ওই পক্ষকে বিরত থাকার আহবান জানান। কিন্তু শালিস বৈঠকে মোস্তফা, খোকা, আমিরসহ অন্যান্যরা প্রকাশ্যে ভূমিহীন উক্ত ১১টি পরিবারের সদস্যদেরকে আর কখনো উক্ত জমি ভোগ দখল করতে না দেয়াসহ জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। কোনোরূপ আইনের আশ্রয় নিলেও অপদস্ত, সম্ভ্রমহানীসহ প্রাণনাশের ধমকি দিচ্ছে দুস্কৃতিকারীরা। এতে উক্ত ভূমিহীন ১১টি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে
জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে সাবেক ২৫৫ হালে ২৬৮নং মৌজার সাবেক দাগ ১৬২১ হালে ২৫৯৬ দাগের .৯৪ একর ভূমি রেজিষ্ট্রি বন্দোবস্তীয় মূলে ১১টি পরিবার প্রায় ৬০ বছর যাবত ভোগ দখল করে আসছিল। ফি বছর খাজনা পরিশোধ করে উক্ত জমিতে চাষাবাদ করলেও এবার ওই কুচক্রীমহলের কারণে চাষাবাদ না করতে পারায় একমাত্র ফসল থেকে বঞ্চিত হয়ে ১১টি পরিবারের দেড় শতাধিক সদস্য দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ১৯৭৬-৭৭ সালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক উক্ত ভূমি ৪৭/৭৬-৭৭ হতে ৪৬, ৪৫, ৩৪, ৪৯, ৫০, ৩৭, ৪০, ৪৮, ৪৪, ৪২/৭৬-৭৭নং বন্দোবস্ত রেজিষ্ট্রির অনুমোদন দেন। পরে একটি মহল উক্ত জমি রেজিষ্ট্রি করতে না দিয়ে এডিসি রেভিনিউ কোর্ট, বিভাগীয় কমিশনার সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডে মামলা দায়ের করে। সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড ইছাপুরা গ্রামের আবদুল কাদের, আকিমা বেগম, ফিরোজা বেগম, আবদুল ছাত্তার, জাহেদা খাতুন, সামসুন্নাহার, আবদুর রহমান, নুর মিয়া, দুদা মিয়া, রফিক, সফিক, মাহবুব, ছৈয়দ আহম্মদ, গোলাম মোস্তফা, আফিয়া খাতুন ময়ুরের নেছার পক্ষে রায় দেন। পরে ২০০৩ সালে ভূমিহীন হিসেবে ওই ১১টি পরিবারকে উক্ত জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হয়। নিয়ম মতো লাকসাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাজনা আদায়ে ১১টি খতিয়ানসহ সরেজমিন কানুনগো ১১টি পরিবারকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন
জমির মালিক মৃত গোলাম মোস্তফার বিধবা স্ত্রী আফিয়া খাতুন জানান, বিভিন্ন কাঠ-খড় পোড়ানোর পর আমরা উক্ত খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে রেজিষ্ট্রি পাই। পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে ভোগ দখলে থাকলেও একমাত্র সহায়-সম্বল উক্ত সম্পত্তি বেহাত হলে পথে বসা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। একই কথা জানান, অপর জমি মালিক মৃত ফজলুল হকের স্ত্রী ময়ুরের নেছা, মৃত আবদুল মজিদের ছেলে মীর হোসেন, মৃত আবদুর রহমানের ছেলে শাহ আলম, মৃত দুদা মিয়ার ছেলে বজলুর রহমান, মৃত আমির আলীর ছেলে শফিক, মাহবুব প্রমুখ
এখানে উল্লেখ্য যে, উল্লেখিত বিবাদীরা দীর্ঘদিন বন্দোবস্তীয় মামলা পরিচালনা করে ব্যর্থ হয়ে আবদুল ছাত্তার পিতা মৃত মনোহর আলীর নিকট জোরপূর্বক জমি রেজিষ্ট্রি বা হস্তান্তরে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যথায় তাকে বা তার পরিবারকে হত্যা-গুম করে ফেলবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে আবদুল ছাত্তার পরিবারসহ নিজ বাড়িতে না থেকে অন্যত্র বসবাস করছেন
গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন ভূঁইয়া ব্যাপারে জানান, প্রথম দফায় শালিস বৈঠক বসলেও বিষয়টি মিমাংশা হয়নি। বিবাদী পক্ষ ঠিকভাবে সহযোগিতা করছে না। তবে বিষয়টি মিমাংশার জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে
বিষয়ে অপরপক্ষীয় মোস্তফা জানান, মারামারির ঘটনা আমার জানা নেই। তবে আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানে গো-চারণ ভূমি রাখার পক্ষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলো। আমরাও চাই এখানে গোচারণ ভূমি থাকুক। কিন্তু কিছু লোক জমি দখল করতে চাচ্ছে
ব্যাপার লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, থানায় দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ ভূমিতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংশার জন্যও উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় আদালতের মাধ্যমেই তা ফয়সালা হবে
দুস্কৃতিকারীদের হাত থেকে একমাত্র সহায়-সম্বল উক্ত ভূমি জান-মাল রক্ষার্থে ১১টি পরিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা থানা প্রশাসনসহ সমাজপতিদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। কুমিল্লাওয়েব