আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

খেজুরের রস খেলেও আপনার মৃত্যু ঘটতে পারে

আবু পলাশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে [রোববার,২৯ জানুয়ারি ২০১] আপনার অনেক প্রিয় খাবার খেজুরের রস হতে পারে আপনার জন্য অভিশাপ সারা দেশে আলোড়ন তোলা নিপা ভাইরাস এখন মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে খেজুরের রসের মাধ্যমেসরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় ২০০১ সাল থেকে এই পর্যন্ত ২০১ জন এই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এদের মধ্যে ১৫৫ জনের মৃত্যু ঘটে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে প্রধানত বাদুড়ের মাধ্যমে..
বাদুড় যখন খেজুর গাছের রস খাওয়া শুরু করে তখন এর মুখ থেকে লালা এসে হাঁড়িতে পরে আর ওই বাদুড় যদি এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে এই কাঁচা খেজুরের রস যে খাবে সে এই রোগে আক্রান্ত হবেএই ভাইরাস Hendra ভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত এবং Paramyxoviridae গোত্রের তবে ঘোড়া, ছাগল, কুকুর এবং বিড়ালও এই ভাইরাসের জিবাণু বহন করে
IEEDCR
এর পরিচালক জনাব মাহমুদুর রহমান  জানান যে, কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া বন্ধ করলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব, একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে আমাদের কিছুই করার থাকবেনাব্যাপক প্রানঘাতী এই ভাইরাসের সং ক্রমিত সকল রোগী মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে
নিপা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে ১৯৯৯ সালে মালয়শিয়াতে এশিয়ার ১২ টি দেশে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তবে বাংলাদেশে এই মূহুর্তে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে থাকে প্রছুর পরিমাণে
মাহমুদুর রহমান আরো জানান যে, ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটিয়ে খেজুরের রস খেলে এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে
গতবছর হাতিবান্ধায় ২৮ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে এই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলেকোন কোন জেলায় এর প্রাদূর্ভাব বেশি তা জানা যায়নি যেখানে খেজুর গাছ বেশি থাকে সেখানে এর সংক্রমণ বেশি হতে পারে
এই রোগটি একটি ছোয়াঁচে রোগ সংক্রমিত ব্যাক্তির সাথে একই বিছানায় শোয়া, রোগীর পোষাক পরিষ্কার করা, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার মরদেহের গোসলের দায়িত্বে যারা থাকেন তারা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন
এই রোগের লক্ষণ প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা, খিচুনি শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে এক পর্যায়ে রোগীরা প্রলাপ বকতে শুরু করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বাদুড় থেকে মানুষে সংক্রমণের পর একজন থেকে আরেকজনের মধ্যেও ছড়াতে পারে এই রোগ
সতর্কতাঃ কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, ঘন ঘন হাত ধুতে হবে, আক্রান্ত রোগীর পাত্র থেকে খাবার নিয়ে খাওয়া যাবে না, আক্রান্ত রোগীকে সেবাদানের সময় কম্পক্ষে ফুট দূরে থাকতে হবেরোগীর কাপড় ভালোভাবে সতর্কতার সহিত পরিষ্কার করতে হবেরোগীর কফ বা থুতু কোন পাত্রে না রেখে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে
দয়া করে পাঠকবৃন্দরা এই ভাইরাস থেকে সাবধানে থাকুন কারণ এর কোন চিকিসসা নেই
undefined