আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

সাবধান! ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি: পরকীয়া


মাহবুবুর রহমান: সামাজিক ভয়াবহ ব্যাধি পরকীয়া যে আমাদের সমাজে পারমাণবিক বোমার তেজক্রিয়তার ন্যায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তা আজ আর অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যদিও আমরা বহু আগ থেকেই অর্থ্যাৎ২০০১ সাল থেকে পরকীয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা বিভিন্ন ম্যাগাজিনে লেখালেখি ছাড়াও লিফলেট বিলি মোটিভেশনাল সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে আসছি কিন্তু এসব লেখালেখি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড উলেখযোগ্য কোনো ফলাফল..
বয়ে আনেনি, আমাদের সামগ্রীক জীবনে সরকারের যথাযথ দৃষ্টি মিডিয়ার সামাজিক দায়-দায়িত্ব অবহেলার কারণে আজ অকপটে সকলেই স্বীকার করতে বাধ্য, পূর্বেকার তুলনায় এখন পরকীয়া-সামাজিক ব্যাধিটি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে দেশের সর্বত্র নৈতিকতার এক মহাসর্বনাশ ঘটিয়ে এই পরকীয়া সামাজিক ব্যাধিটি পারমাণবিক বোমা তথা ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ জাতীয় জীবনেও
এখন এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, সমাজের সিংহভাগ পুরুষ নারী মনে করে, তাদের স্ত্রী স্বামীদের চেয়ে অন্য নারী পুরুষরা সুন্দর এবং আর্কষণীয়, অন্যদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে তৃপ্তি বেশি! শুধু তাই নয়, তারা অন্য নারী পুরুষদের বাহ্যিকতাকে প্রাধান্য দেয়, প্রকৃত সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ভুলে ভ্রান্তপথে পা বাড়ায়। নানা ছলাকলায় পুরুষরা যেমন নারীদের মহাসর্বনাশ ঘটায় তেমনি নারীরাও দিনে দিনে বিভিন্ন ভয়াবহতার জন্ম দেয় পরকীয়া আসক্ত হয়ে তারা তাদের বিবাহিত জীবন ছাড়াও অধিক সান্নিধ্য কামনা করে। তাদের ধারণা, একাধিক সঙ্গ অর্থাৎ নিজ স্ত্রী স্বামীদের ব্যতিরেকে অন্য নারী-পুরুষ মরীচিকায় বেশি সুখ পাওয়া যায়! আর এভাবেই বেপরোয়া বিকৃত যৌননেশায় বুঁদ হয়ে অপতৃপ্তির ঢেঁকুরগিলে আত্মপ্রশান্তির লোভে মরিয়া হয়ে ওঠে এসব অধিক নারী পুরুষ লোভীরা। এসব মূর্খরা মনে করে, ঘরের মানুষটির চেয়ে বাহিরের মানুষ তাদের বেশি যৌনতৃপ্তিদানে সক্ষম এবং বৈচিত্র আনন্দে ভরিয়ে দেবে তাদের জীবন! আসলে তাদের এমন ধারণা, শুধুমাত্র অজ্ঞতাই প্রমাণ করে না, জীবন যৌবন সম্পর্কে চরম অসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। যদিও একসময় তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়, ‘নিজের স্ত্রী নিজের স্বামীই শ্রেষ্ঠ এর কোনো তুলনা নেই-হতে পারেনা। কিন্তু উপলব্ধি হওয়ার পূর্বেই অনেকের জীবনের অনেকটা সময় ভ্রান্তপথের বীভৎসতায় ঢেকে যায় এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনেও নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। আর তখন শত মাথা চাপড়ালে এবং অনুশোচনা করলেও কিছুই করার থাকে না
পরকীয়া সম্পর্কে আমরা যদি একটু গভীরে যাই, তাহলে বের হয়ে আসবে এর কারণ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট। সমাজব্যবস্থার কারণে আমাদের মধ্যে অনৈতিকার এক মহা সর্বনাশ ঘটে চলছে দিনে দিনে। সমাজের সিংহভাহ বিবাহিত অবিবাহিত তরুণ-তরুণী মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ তাদের চরিত্রকে চরিতার্থ করতে ভোগ করতে চায় অন্যকে। নিবৃত্ত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে নিজেদের কু-প্রবৃত্তির লালসাকে। একপর্যায়ে এপথে দ্রুত ধাবিত হয়ে বিভীষিকাময় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তাদের চিন্তায় আসে না, নৈতিকতাহীন যৌনলালসায় নিজেরা পুড়ে ছাঁই হওয়ার পাশাপশি পুরো সংসারও লেলিহান শিখায় দগ্ধ হবে। তাদের চোখে না পড়েনা, এই পরকীয়ার বিষ-ছোবলে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে আত্মহত্যার মতো জঘণ্য ঘটনা ঘটিয়েছে অনেক বহুগামি বিকৃত মনের মানুষ; তারা কি খোঁজখবর রাখেনা, বহু নারী অবৈধ কাজ মুছতে গর্ভপাত করার সময় অকাল মুত্যু বরণের ঘটনা। তাদেরকে কি চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেখাতে হবে, পরকীয়ার ফলে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে অনেক নারী পুরুষ এমনকি নিস্পাপ নিজ সন্তানসহ অন্যান্য স্বজনরাও
অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, এখন দেশে বিয়ে বিচ্ছেদের বেশিরভাগ ঘটনাও ঘটে পরকীয়ার মতো মহা ব্যাধির কারণে। যেখানে দুই দশক আগেও গ্রামাঞ্চলে কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তদের মধ্যে পরকীয়ার ক্ষেত্রে পুরুষরাই ছিল এগিয়ে। কিন্তু ইদানিং স্বামীরা প্রবাসী এবং সংসার উন্নয়ন-কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার কারণে গ্রাম-মফস্বল, থানা-উপজেলা পর্যায়েও এর ব্যাপকতা বহু অংশে বেড়ে গেছে। গ্রাম-মফস্বলের তরুণী মধ্যবয়সী মহিলাদের স্বামীরা যখন দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছেন এবং জীবন-জীবিকার সন্ধানে ব্যস্ত,তখন স্ত্রীরা বহুগামি কিছু পুরুষের সঙ্গে প্রেম প্রেম খেলায় জড়িয়ে পড়ছে। নির্ধিদ্বায় তাদের অমূল্য শরীর-ইজ্জত তুলে দিচ্ছে পরপুরুষদের হাতে। এমনকি নিজের সংসার, আদরের ছোট ছোট সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন,শ্বশুর শ্বাশুড়ীর মায়া ত্যাগ করে অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে যেতে দ্বিধা পর্যন্ত করছে না। কখনও কখনও এমন সব লোমহর্ষক ঘটনাও ঘটছে পরকীয়াকে ঘিরে, যা বরাবর মনুষ্যত্বের সংজ্ঞাকে করছে পদদলিত। নিজেদের কচি কোমল সন্তানদের হত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না এসব পরকীয়ায় আসক্ত মানুষ নামের নরপিশাচরা। সম্প্রতি দেশে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে পুড়িয়ে হত্যা, নৃশংসভাবে টুকরো টুকরো করে খুনসহ নানাভাবে স্বামীদের হত্যার বিষয়গুলো ভাববিত করেছে অনেককে। ক্ষেত্রে স্বামীরাও পিছিয়ে নেই
হিসেব করলে দেখা যাবে, চলমান পরকীয়া ব্যাধিতে পুরুষের তুলনায় নারীরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরেও নারীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে; অকল্যাণ-নিকষকালোা অন্ধকার তাদেরকে গ্রাস করে ফেলছে। জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, এসব পরকীয়া-ব্যভিচার চালাতে গিয়ে বড় অংকের টাকাপয়সার লেনদেন হয়; সমঝোতার নমে একাধিক ব্যক্তিকে দেহদানে বাধ্য হতে হয় নারীদের। অবশ্য একসময় তা প্রকাশ হয়, সংসার ভাঙ্গে, সামাজিক জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয়, দাবানলে পুড়ে পুড়ে নিঃশেষ হতে হয় অনেক নারীকে
ভ্রমণের নেশায় এশিয়ার কিছু দেশসহ ইউরোপেও ঘুরেছি। প্রায় দেশেই দেখেছি, ‘ফ্রি সেক্সসংস্কৃতি। যৌনতার ক্ষেত্রে রয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। দুইয়ের সম্মতিক্রমে মেলামেশা তাদের সংস্কৃতিতে দোষের কিছু নয়। হোক বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত। এটা তাদের সংস্কৃতি। বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের জন্য নয়। আমরা ওই সংস্কৃতি-যৌনতার বিষয়টিকে বেশি লক্ষ্য করি। ভাবি না, অপসংস্কৃতির চর্চায় নিজেরাই কুলষিত হচ্ছি, ব্যক্তি, পরিবার সামাজিক জীবনে-এর নীল বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছি আমরাই। আমাদের ছেলে-মেয়ারাও অসহিষ্ণু হয়ে ওঠছে এর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে। উদাসীন হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী এবং অন্যান্যরাও অন্যান্যদের প্রতি। সংসারের প্রতি যে দায়-দায়িত্ব কর্তব্য, তা ক্রমেই ভুলে যাচ্ছি আমরা-স্বামী-স্ত্রী তথা সন্তানের বাবা-মায়েরা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে ভালোবাসা আন্তরিকতা থাকার দরকার তা নেই এখন। কেমন যেন সবকিছুতেই কৃত্রিমতার গন্ধ! যা একসময় বিবাহ বিচ্ছেদের মতো নির্মম-নির্দয় ব্যথিত কাজে গড়ায়। স্বামী স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে পরকীয়া, শারীরিক চাহিদা পুরণে অক্ষমতা, সময় দেয়া-নেয়া এমনকি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ এনে এক পর্যায়ে পরকীয়া অতঃপর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে
পরকীয়াকে ঘিরে দেশে এখন যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এর জন্য আমরা নারী-পুরুষ উভয় পক্ষকেই সমভাবে দায়ি করি। আমাদের সকলেরই যথেষ্ট অভাব রয়েছে সচেতনতার। সময় থাকতে প্রত্যেককেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে নিজেদের স্বার্থেই। দেশের কথিত লেখক, গায়ক, আমলাসহ উচ্চবিত্তরা যেসব অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটান সমাজে, সন্তান বয়সী মেয়ে ছেলের সঙ্গে পরকীয়া অত:পর বিয়ে করেন কিছু পুরুষ নারী। পরকীয়ার-বিষবাষ্প ছড়িয়ে কলুষিত করছেন সমাজকে। সেদিকে আমাদের চোখ দেয়ার দরকার নেই
স্বাতন্ত্র বলতে কি বোঝায় তা আমার পুরোপুরি জানা নেই। তবে নিশ্চয়ই একজনের স্ত্রী বা স্বামী অন্যজনের সঙ্গে অনৈতিক খেলায় মত্ত হওয়া নয়? হত্যা, আত্মহত্যা, সংসার ভেঙ্গে খানখান হওয়ার মত জঘন্য কোনো কর্মকাণ্ড নয়? নয় বেহায়াপনা-বেল্লাপনা? আমরা কি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে অস্বীকার করতে পারি? সিংহভাগ মুসলিমের বসবাস উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এদেশে পরকীয়া, অবাধ যৌন মেলামেশা অসম বিয়েকে কোনোভাইে মেনে নেয়া যায় না। এই অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দিলে আমাদের নির্ঘাত ধ্বংস হবে-তা হলফ করে বলা যায়। আমরা মনে করি, বিষয়টি সরকার সমাজসচেতনদের ভাবা দরকার। মাদক, যৌতুক, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে, ধর্ষণসন্ত্রাস এসিডসন্ত্রাসের মত এই পরকীয়াসন্ত্রাসকে নিয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার; প্রচার মাধ্যমগুলোতে পরকীয়ার কু-ফল সম্পর্কে বিশেষ প্রতিবেদন ধর্মীয় অনুশাসনকে জাগ্রত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন দেশের সর্বত্রundefined