আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

যেসব কারণে আফজল খানের পরাজয়

[শুক্রবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১] নবগঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন সত্তর বছর বয়সী অ্যাডভোকেট আফজল খান তিনি ১৯৬৫-৬৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন ইয়াহিয়া-আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল ষাটের দশকের ছাত্রনেতা '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০-এর নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা শহর কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি বর্তমানে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী সমবায় পদক বৃক্ষরোপণে স্বর্ণপদক পেয়েছেন কুমিল্লা চেম্বারের দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন বয়সের কারণে এবারের নির্বাচনে তিনি অনেকটা অসুস্থ থেকেই নির্বাচন করেছেন বয়সে প্রবীণ এ..
 নেতাকে অনেক তরুণ ভোটার সামনা-সামনি দেখার সুযোগ পাননি তিনিও বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে যেতে পারেননি আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা আফজল খানের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন জেলার সব সাংসদ তার সঙ্গে প্রচারে নেমেছেন এরপরও তিনি জয়ী হতে পারলেন না প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহম্মদ আলী মনে করেন, এখানকার আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসা না করে প্রার্থী দেওয়ায় ধরনের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির এক সিনিয়র নেতা বলেন, নির্বাচন এলে নানামুখী অন্তর্দ্বন্দ্বের ষড়যন্ত্র চলে তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে উত্তর আর দক্ষিণের বিভক্তি নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে দক্ষিণের দায়িত্ব নিয়েছেন সাংসদ লোটাস কামাল নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল জাতীয় সংসদের হুইপ মুজিবুল হক ওই ধারার হলেও তিনি মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন উত্তরের (সাবেক কুমিল্লা পৌরসভা) দায়িত্ব দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাদের সাংসদ হাজী বাহার জোবেদা খাতুন পারুলকে তার মতে, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স্থবিরতা নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০০৬ সালের ১২ মে কমিটিতে লোটাস কামালকে আহ্বায়ক করা হয় যুগ্ম আহ্বায়ক হন হুইপ মুজিব, আফজল খান সফিকুল ইসলাম শিকদার লোটাস কামাল নাঙ্গলকোট উপজেলা হুইপ মুজিব চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এলাকার সংসদ সদস্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটারদের নেতা তারা নন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন সিটি করপোরেশনের ভোটারদের ওপর তাদের প্রভাব খুব একটা নেই এদিকে আফজল আর বাহারের মধ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পুরনো বিবাদ তো ছিলই নির্বাচনী প্রচারে দু'জনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও ভোটের ফলে পুরনো বৈরিতার প্রভাব পড়েছে দুই নেতার মধ্যে বনিবনা কখনোই ছিল না নির্বাচনের পর বিবাদ আরও বাড়বে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন আফজল খানের বয়স অসুস্থতার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি করে এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই তরুণ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মিঠু নূর উর রহমান মাহমুদ তানিমের নির্বাচনে অংশ নেওয়া পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংক 'হিন্দু ভোটারদের' একচেটিয়া সমর্থন থেকেও এবার বঞ্চিত হয়েছেন আফজল খান