আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসামে নোট ও গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা! আদালতের রায় মানছে না অসাধু ব্যবসায়ীরা

সামছুল আলাম রাজন: [সোমবার,২৩ জানুয়ারি ২০১] লাকসামে প্রকাশ্যে বিভিন্ন শ্রেণীর নোট ও গাইড বই বিক্রি হচ্ছেসর্বোচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে বাজারে অবাধে বিক্রি হওয়া ওইসব নোট ও গাইড বই বিক্রি নিয়ে প্রশাসনের নেই কোন মাথা ব্যথা।..
বরং প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু পুস্তক ব্যবসায়ীএ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লি্লষ্ট সকলেই
এক শ্রেণীর অসাধু পুস্তক ব্যবসায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের যোগসাজশে গ্রামার ও গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে

জানা যায়
, মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামার বইয়ের মূল্য ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং পাঞ্জেরি, দিগন্ত, কম্পিউটার, লেকচার, জুপিটার, আদিল এসব গাইড বই ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছেঅসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত হওয়া শিক্ষকরা এসব অস্বাভাবিক মূল্যের গ্রামার ও গাইড বই ক্রয় করতে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করছেগরীব ছাত্রছাত্রী যারা অর্থের অভাবে এসব বই ক্রয় করতে অক্ষম তাদের ক্লাসে বই নিয়ে না যাওয়ায় ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরা যাতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়ে সময়মতো বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই বিতরণ করছে
অথচ সরকারের এ মহান উদ্যোগ অমান্য করে অসাধু পুস্তক ব্যবসায়ীরা চড়ামূল্যের নিম্নমানের গ্রামার ও গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা করছেচলতি শিক্ষা বর্ষকে টার্গেট করে ওইসব পাঠ্যবই বিভিন্ন স্কুলে তালিকাভুক্তি করেস্থানীয় বিভিন্ন লাইব্রেরী মালিক এসব অননুমোদিত বই অসাধু শিক্ষক সিন্ডিকেটের সহায়তায় প্রকাশ্যে বিক্রি করছেজানা গেছে, বিভিন্ন লাইব্রেরিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নিষিদ্ধ নোট গাইডসহ এনসিটিবির অনুমোদনবিহীন সহায়ক পাঠ্যপুস্তক মজুদ করা হয়েছেএরই অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ বই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে
জানা যায়
, ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা সচিব এক প্রজ্ঞাপনে বাজারে নোট ও গাইড বই বিক্রির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেনওই চিঠিতে আইন ভঙ্গ করে নোট ও গাইড বই বাজারে বিক্রির বিষয়টি তদারকি করা এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়শিক্ষা সচিবের ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতির সভাপতি আবু তাহের হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেনহাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেনখারিজ আবেদনের বিরুদ্ধে তারা ২০০৯ সালে আপিল পরে তা খারিজ হয়ফলে শিক্ষা সচিবের পাঠানো চিঠির কার্যকরি বহাল থাকেসূত্রে জানা যায়, আদালতের রায়ের পর দু'একদিনের জন্য ব্যবসায়ীরা নোট ও গাইড বই বিক্রি বন্ধ রাখেকিন্তু বর্তমান বাজারে নোট ও গাইড বই বিক্রি ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে
লাকসামে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এসব অবৈধ বই বিক্রি বন্ধের কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় কতিপয় পুস্তক বিক্রেতারা এ ধরনের নিষিদ্ধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে
undefined