আমাদের নিউজ পোর্টাল ভিজিট করুন ...

লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য

মাহবুবুর রহমান: [শুক্রবার,২৭ জানুয়ারি ২০১] লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে কোচিং বাণিজ্য বাধ্যতামূলক কোচিং না করলেও জোরপূর্বক টাকা আদায় হচ্ছে অভিভাবকরা প্রতিবাদ জানালে প্রধান শিক্ষক শাহাজান মোল্লা টিসি দেয়াসহ নানা হুমকি দেন গত এক বছরেই বাধ্যতামূলক কোচিং করানোর পরও ৭৬ জন ছাত্র বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করেছে অভিভাবকদের প্রশ্ন কোচিং করানোর পরও কেন অকৃতকার্য ম্যানেজিং কমিটির নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের কোচিং অব্যাহত রাখেন প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে হাজার টাকা করে নিতেন..
অনুসন্ধানে জানা যায়, লাকসাম পূর্ব (নরপাটি) ইউনিয়নের ২০০৩ সালের বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন শাহাজান মোল্লা এর আগে তিনি লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন ২০১১ সালে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৯৫০ জন ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রতিদিন ঘণ্টা করে কোচিং করাতেন স্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে এরপর ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যথারীতি স্কুল চলতো ২২ জন শিক্ষক বছরের শেষ দিকে আরও জন শিক্ষিকাসহ ২৪ জন শিক্ষক কোচিংয়ে যোগ দেন প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৪শটাকা করে আদায় করা হতো যেসব ছাত্র কোচিংয়ে আসতো না তাদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে কোচিংয়ের টাকা বকেয়া থাকলে ১ম সাময়িকী, ২য় সাময়িকী বার্ষিক পরীক্ষার সময় টাকা আদায় করে পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়া হতো ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৯৫০ জন ছাত্রের কোচিং ফি বাবদ ৪শটাকা হারে আদায় হতো যেসব শিক্ষক বেশি ক্লাস নিতেন তাদেরকে হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং যারা কম ক্লাস নিতেন তাদের - হাজার টাকা বেতন দেয়া হতো বাকি টাকাগুলো স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে প্রধান শিক্ষক হাতিয়ে নিতেন এর মধ্যে ২৫০ জন ছাত্রের কোচিং ছিল ফ্রি প্রতি মাসে কোচিং থেকে আয় হতো লাখ ৮০ হাজার টাকা শিক্ষকদের বেতন দেয়া হতো লাখ ৪০ হাজার টাকা ৭ম শ্রেণীর আবির নামে এক ছাত্রের অভিভাবক ছায়েদুর রহমান বাবুল জানান, কোচিং না করার জন্য বললে প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন সময় তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে টিসি নিয়ে চলে যান  এমন অভিযোগ অনেকের নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৮ম শ্রেণীর একজন অভিভাবক জানান, আমি প্রধান শিক্ষককে এত সকালে আসতে অসুবিধার কথা জানিয়ে বাড়িতে প্রাইভেট টিউটর দিয়ে পড়ানোর কথা জানালে তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন তিনি বলেন, কোচিংয়ে না আসতে পারলে অন্য স্কুলে নিয়ে ভর্তি করান গত বার্ষিক পরীক্ষায় প্রায় ৭৬ জন ছাত্র অকৃতকার্য হয় অভিভাবকদের প্রশ্ন- আমাদের সন্তানদের জোরপূর্বক কোচিং করানো হয়েছে নিয়মিত ক্লাসও করতো তাহলে তারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলো কিভাবে? জয়নাল আবদীন নামে একজন অভিভাবক জানান, আমার সন্তান ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার আগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস হয় এখন কিভাবে ফেল করলো তিনি আরও অভিযোগ করেন- স্কুলের অন্য শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ক্লাসে ভালভাবে পড়াতেন না গত বছর আগস্ট মাসের তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন বিজ্ঞপ্তিটিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরই বাড়তি ঘণ্টা ক্লাস করানোর নির্দেশ দেয়া হয় ধরনের একেকটা ক্লাসের জন্য একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা করে পাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়

undefined